স্পোর্টস ডেস্ক: এমএসএন। তিন অক্ষরের এক শব্দবন্ধ, যা একসময় গোটা ইউরোপের রক্ষণভাগকে তাসের ঘরের মতো ভেঙে গুঁড়িয়ে দিত। বার্সেলোনায় ২০১৪ থেকে ২০১৭—এই তিন বছরে ফুটবল বিধাতা হয়তো তাঁদের এক ক্যানভাসে এনেছিলেন সৌন্দর্য আর ধ্বংসাত্মক শক্তির এক অসামান্য মেলবন্ধন দেখাতে। তিন মরসুমে ৯টি ট্রফি, যার মধ্যে ইউরোপ সেরা চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে ট্রিপল মুকুটের অমলিন গৌরব। প্রথম মরসুমেই তিনজনে মিলে করেছিলেন ১২২টি গোল। মেসির ৫৮, নেইমারের ৩৯, সুয়ারেজের ২৫। লুইস এনরিকের সেই বার্সেলোনাকে খেলাধুলার ইতিহাস মনে রেখেছে এক মন্ত্রমুগ্ধ সুরের মতো।
তবে সময় নদীর গতিপথ বড় অদ্ভুত। ইন্টার মায়ামিতে মেসির পাশে গত ডিসেম্বরেই শেষবারের মতো খেলে বিদায় নিয়েছেন সেই সময়ের আরও দুই সারথি—সের্হিও বুসকেতস ও জর্দি আলবা। এমএলএস কাপ জেতার পর তাঁদের বিদায় যেন বার্সেলোনার সেই সোনালি প্রজন্মের আরেকটি অধ্যায়ের ইতি টেনেছিল। ডেভিড বেকহামের মায়ামির প্রজেক্টে এখন দরকার নতুন প্রাণ। আর ঠিক এই জায়গাতেই এসে দাঁড়ান নেইমার।
এই ভাবনাটা আসলে ঠিক নস্টালজিয়া ফেরানোর নয়, এটা বাণিজ্যিকও। তবে এই ভাবনার রোমাঞ্চের আড়ালে বাস্তবতার কঠোর হিসাবও কি ভুলে থাকা সম্ভব? বয়স ৩৪ ছুঁয়েছে নেইমারের, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চোট যেন ছায়ার মতো পিছু লেগে আছে তাঁর। জাদুকরি পায়ে এখনো হয়তো পুরোনো সেই আলো ঝলসে ওঠে, কিন্তু শরীর কি পারবে সপ্তাহের পর সপ্তাহ একটানা সেই লড়াইয়ের তীব্রতা ধরে রাখতে? তিনি কি আবার কোনো দলের ভাগ্য বদলে দেওয়ার নায়ক হতে পারবেন?
সান্তোস অপেক্ষা করছে তাঁর সিদ্ধান্ত জানার জন্য। ইন্টার মায়ামি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব না পাঠালেও প্রিয় বন্ধু মেসির সেখানে উপস্থিতি এক অদৃশ্য আকর্ষণ তৈরি করে রাখছে নেইমারের জন্য। সিদ্ধান্তটা দিন শেষে নেইমারের নিজের। ক্যারিয়ারের গোধূলিবেলায় তিনি নিজের জন্য কোন পথ বেছে নেবেন, তা তাঁরই কলমে লেখা হবে। যে ত্রয়ী একসময় কাম্প ন্যু-র ঘাসে ফুটবলকে কবিতায় রূপ দিয়েছিল, সেই কবিতা কি আরও একবার পড়া যাবে মায়ামির সৈকতে?
নতুন গতি 




















