০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

শিকল, মারধর আর চরম শারীরিক নির্যাতন: যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের ওপরে আইসের নারকীয় বর্বরতা!

নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র থেকে তৃতীয় কোনো দেশে (থার্ড কান্ট্রি) জোরপূর্বক বিতাড়নের নামে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি লুইজিয়ানা থেকে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়া ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনিতে পাঠানো একদল অভিবাসীর ওপর চালানো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ভয়াবহ বিবরণ উঠে এসেছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে জানা যায়, ওই ফ্লাইটে থাকা অভিবাসীদের হাত-পা শিকল দিয়ে বেঁধে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও অনেককে শৌচাগারে যেতে দেওয়া হয়নি, এমনকি লাইবেরিয়ায় বিমান অবতরণের পর নামতে আপত্তি জানালে হাতকড়া ধরে টানাটানি এবং হাঁটু দিয়ে ঘাড়ে চেপে ধরার মতো নৃশংস আচরণ করা হয়।

ভুক্তভোগীদের একজন ৪৯ বছর বয়সী কিউবান নাগরিক লিওনার্দো সানচেজ। বহু বছর আগের অস্ত্রোপচারের কারণে তাঁর অন্ত্রের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। কিন্তু বিমানে কোমরের শিকল তাঁর পেটে চেপে বসলে তিনি তীব্র ব্যথায় কান্নাকাটি করা সত্ত্বেও কোনো ধরনের চিকিৎসা পাননি। এমনকি লাইবেরিয়ায় নামানোর সময় তাঁকে মাটিতে ফেলে পেটের ওপর চেপে ধরা হয় বলে সহ-যাত্রীরা জানান। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে তাঁকেসহ আরও কয়েকজনকে অন্য আরেকটি আফ্রিকান দেশ ইকুয়েটোরিয়াল গিনিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া এই বিতর্কিত চুক্তির অধীনে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের আদালত থেকে সুরক্ষাদেশ পাওয়া প্রায় ১,২০০ জন অভিবাসীকে থার্ড কান্ট্রি হিসেবে লাইবেরিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে অন্তত ৩৫টি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন চুক্তি রয়েছে, যার সিংহভাগই আফ্রিকায়।

 

অনেক অভিবাসীদের অভিযোগ, তাদের নিজ দেশে না পাঠিয়ে এমন এক অচেনা মহাদেশে ফেলে আসা হচ্ছে যেখানে তাদের কোনো স্বজন নেই, ভাষাগত মিল নেই এবং বেঁচে থাকার কোনো উপায় নেই। ব্রাজিলীয় তরুণী পাওলা ডস সান্তোস জানান, মার্কিন ডিটেনশন সেন্টারে মাসের পর মাস তাদের “ফ্রিজার” নামের চরম ঠাণ্ডা কক্ষে আটকে রাখা হতো এবং গর্ভবতী নারীদেরও পশু-পাখির মতো হাত-পা বেঁধে রাখা হতো।

 

অন্যদিকে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এসব নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, নিয়ম মেনেই আইন অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছিল।

 

বর্তমানে লাইবেরিয়া ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনির হোটেলবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন এই অভিবাসীরা। সশস্ত্র প্রহরীদের নজরদারিতে থাকা এই ভুক্তভোগীরা এখন চরম অনিশ্চয়তায়—হয় অপরিচিত আফ্রিকাতেই জীবন শুরু করতে হবে, না হয় ফিরে যেতে হবে সেই জন্মভূমিতে যেখান থেকে প্রাণের ভয়ে তারা পালিয়ে এসেছিলেন।

আদিবাসীদের ‘ভেড়চাল’ মন্তব্যের প্রতিবাদ; বীরভূমের বিভিন্ন থানায় বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে ডেপুটেশন

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

শিকল, মারধর আর চরম শারীরিক নির্যাতন: যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের ওপরে আইসের নারকীয় বর্বরতা!

আপডেট : ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার
নিউজ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র থেকে তৃতীয় কোনো দেশে (থার্ড কান্ট্রি) জোরপূর্বক বিতাড়নের নামে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি লুইজিয়ানা থেকে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়া ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনিতে পাঠানো একদল অভিবাসীর ওপর চালানো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ভয়াবহ বিবরণ উঠে এসেছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে।
প্রতিবেদনে জানা যায়, ওই ফ্লাইটে থাকা অভিবাসীদের হাত-পা শিকল দিয়ে বেঁধে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। গুরুতর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও অনেককে শৌচাগারে যেতে দেওয়া হয়নি, এমনকি লাইবেরিয়ায় বিমান অবতরণের পর নামতে আপত্তি জানালে হাতকড়া ধরে টানাটানি এবং হাঁটু দিয়ে ঘাড়ে চেপে ধরার মতো নৃশংস আচরণ করা হয়।

ভুক্তভোগীদের একজন ৪৯ বছর বয়সী কিউবান নাগরিক লিওনার্দো সানচেজ। বহু বছর আগের অস্ত্রোপচারের কারণে তাঁর অন্ত্রের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ছিল। কিন্তু বিমানে কোমরের শিকল তাঁর পেটে চেপে বসলে তিনি তীব্র ব্যথায় কান্নাকাটি করা সত্ত্বেও কোনো ধরনের চিকিৎসা পাননি। এমনকি লাইবেরিয়ায় নামানোর সময় তাঁকে মাটিতে ফেলে পেটের ওপর চেপে ধরা হয় বলে সহ-যাত্রীরা জানান। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়লে তাঁকেসহ আরও কয়েকজনকে অন্য আরেকটি আফ্রিকান দেশ ইকুয়েটোরিয়াল গিনিতে নিয়ে যাওয়া হয়।

 

ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া এই বিতর্কিত চুক্তির অধীনে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের আদালত থেকে সুরক্ষাদেশ পাওয়া প্রায় ১,২০০ জন অভিবাসীকে থার্ড কান্ট্রি হিসেবে লাইবেরিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে অন্তত ৩৫টি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এমন চুক্তি রয়েছে, যার সিংহভাগই আফ্রিকায়।

 

অনেক অভিবাসীদের অভিযোগ, তাদের নিজ দেশে না পাঠিয়ে এমন এক অচেনা মহাদেশে ফেলে আসা হচ্ছে যেখানে তাদের কোনো স্বজন নেই, ভাষাগত মিল নেই এবং বেঁচে থাকার কোনো উপায় নেই। ব্রাজিলীয় তরুণী পাওলা ডস সান্তোস জানান, মার্কিন ডিটেনশন সেন্টারে মাসের পর মাস তাদের “ফ্রিজার” নামের চরম ঠাণ্ডা কক্ষে আটকে রাখা হতো এবং গর্ভবতী নারীদেরও পশু-পাখির মতো হাত-পা বেঁধে রাখা হতো।

 

অন্যদিকে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এসব নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, নিয়ম মেনেই আইন অনুযায়ী এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং অভিবাসীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছিল।

 

বর্তমানে লাইবেরিয়া ও ইকুয়েটোরিয়াল গিনির হোটেলবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন এই অভিবাসীরা। সশস্ত্র প্রহরীদের নজরদারিতে থাকা এই ভুক্তভোগীরা এখন চরম অনিশ্চয়তায়—হয় অপরিচিত আফ্রিকাতেই জীবন শুরু করতে হবে, না হয় ফিরে যেতে হবে সেই জন্মভূমিতে যেখান থেকে প্রাণের ভয়ে তারা পালিয়ে এসেছিলেন।