২৭ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
২৭ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

তিব্বত সীমান্ত থেকে হড়পা বান, তছনছ রাসুয়া, নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়

নেপাল: তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন উজান এলাকা থেকে আচমকা নেমে আসা বিপুল জলস্রোতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে নেপালের রাসুয়া জেলা। বুধবার সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ ভোটে কোশি নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে গিয়ে মুহূর্তের মধ্যে টিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি এলাকায় ঢুকে পড়ে জল। প্রবল স্রোতে তছনছ হয়ে যায় টিমুরে বাজার-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা।

হড়পা বানের জেরে ভেসে যায় একাধিক যানবাহন ও বিভিন্ন সামগ্রী। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাড়িঘর, রাস্তা এবং সীমান্ত সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। রাসুয়াগঢ়ী সীমান্ত শুল্ক দফতর এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। আচমকা জল ঢুকে পড়ায় বহু মানুষ নিরাপদ স্থানে সরার সুযোগও পাননি।
এই বিপর্যয়ের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তিব্বতের উজানে হিমবাহ হ্রদ ফেটে যাওয়া, অস্থায়ী জলাধার বা বাঁধ ভেঙে পড়া কিংবা অতিবৃষ্টির কারণে এই বিপুল জলস্রোত তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জলস্রোতের ধাক্কায় রাসুয়া জেলার বিদ্যুৎ পরিকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতির মুখে। রাসুয়াগঢ়ী, চিলিমে এবং ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ত্রিশূলী-৩বি প্রকল্পের ২২০ কেভি উপকেন্দ্র-সহ একাধিক সঞ্চালন ও বণ্টন ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাসুয়া ও সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে।
পরিস্থিতির প্রভাব নীচের দিকেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার নদীতীরবর্তী এলাকাগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। তবে প্রবল স্রোত ও ধ্বংসাবশেষের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। টিমুরেতে আটকে পড়াদের উদ্ধারে পাঠানো হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হেলিপ্যাডে নামতে পারেনি। পরে নেপাল সেনাবাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টারে চিকিৎসক ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়।
এদিকে টিমুরে ও স্যাফ্রুবেশির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। কয়েকজনের এখনও খোঁজ মেলেনি। কয়েকজন সশস্ত্র পুলিশ সদস্যের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে খবর।
পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। তাঁর দাবি, নেপালে প্রায় ১০৫ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সন্ধান, উদ্ধার এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। নেপাল পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী হওয়ায় রাজ্য সরকারও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলে জানান তিনি। কেন্দ্র ও রাজ্য সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন শংকর ঘোষ।
এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত উদ্ধার, নিখোঁজদের সন্ধান এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় আরও বড় বিপর্যয় ঠেকানো।

পুজোর কমিটি নিয়ে বিবাদ, বিজেপি কর্মী খুনে গ্রেফতার চার

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

তিব্বত সীমান্ত থেকে হড়পা বান, তছনছ রাসুয়া, নিখোঁজ ১০৫ ভারতীয়

আপডেট : ২৭ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার

নেপাল: তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন উজান এলাকা থেকে আচমকা নেমে আসা বিপুল জলস্রোতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে নেপালের রাসুয়া জেলা। বুধবার সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ ভোটে কোশি নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে গিয়ে মুহূর্তের মধ্যে টিমুরে ও স্যাফ্রুবেশি এলাকায় ঢুকে পড়ে জল। প্রবল স্রোতে তছনছ হয়ে যায় টিমুরে বাজার-সহ বিস্তীর্ণ এলাকা।

হড়পা বানের জেরে ভেসে যায় একাধিক যানবাহন ও বিভিন্ন সামগ্রী। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাড়িঘর, রাস্তা এবং সীমান্ত সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো। রাসুয়াগঢ়ী সীমান্ত শুল্ক দফতর এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে। আচমকা জল ঢুকে পড়ায় বহু মানুষ নিরাপদ স্থানে সরার সুযোগও পাননি।
এই বিপর্যয়ের কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তিব্বতের উজানে হিমবাহ হ্রদ ফেটে যাওয়া, অস্থায়ী জলাধার বা বাঁধ ভেঙে পড়া কিংবা অতিবৃষ্টির কারণে এই বিপুল জলস্রোত তৈরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
জলস্রোতের ধাক্কায় রাসুয়া জেলার বিদ্যুৎ পরিকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতির মুখে। রাসুয়াগঢ়ী, চিলিমে এবং ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ত্রিশূলী-৩বি প্রকল্পের ২২০ কেভি উপকেন্দ্র-সহ একাধিক সঞ্চালন ও বণ্টন ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাসুয়া ও সংলগ্ন এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে।
পরিস্থিতির প্রভাব নীচের দিকেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার নদীতীরবর্তী এলাকাগুলিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ। তবে প্রবল স্রোত ও ধ্বংসাবশেষের কারণে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হচ্ছে। টিমুরেতে আটকে পড়াদের উদ্ধারে পাঠানো হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হেলিপ্যাডে নামতে পারেনি। পরে নেপাল সেনাবাহিনীর এমআই-১৭ হেলিকপ্টারে চিকিৎসক ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়।
এদিকে টিমুরে ও স্যাফ্রুবেশির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। কয়েকজনের এখনও খোঁজ মেলেনি। কয়েকজন সশস্ত্র পুলিশ সদস্যের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে খবর।
পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সরকার পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। তাঁর দাবি, নেপালে প্রায় ১০৫ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের সন্ধান, উদ্ধার এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে। নেপাল পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী হওয়ায় রাজ্য সরকারও পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে বলে জানান তিনি। কেন্দ্র ও রাজ্য সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন শংকর ঘোষ।
এখন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য আটকে থাকা মানুষদের দ্রুত উদ্ধার, নিখোঁজদের সন্ধান এবং নদীতীরবর্তী এলাকায় আরও বড় বিপর্যয় ঠেকানো।