২৫ অগাস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
২৫ অগাস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত

হাসান লস্কর কুলতলী, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা: গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে সুন্দরবনের কুলতলীর জালাবেড়িয়া এক নম্বর অঞ্চলের পালের চকে গ্ৰামে আজও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সঙ্গে এখানে আয়োজিত হলো দুই দিনের ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়, যা স্থানীয় মানুষের কাছে ‘মৈই ছাড়া’ নামেও পরিচিত। এই প্রতিযোগিতা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার কৃষিজীবী মানুষের আবেগ, বিশ্বাস ও লোকসংস্কৃতির দীর্ঘ ইতিহাস।বিশেষ করে কৃষকরা ভালো ফসলের আশায় এবং কৃষিকাজের সঙ্গে গবাদি পশুর নিবিড় সম্পর্ককে স্মরণ করেই এই ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকেন। গ্রাম বাংলার বিভিন্ন ব্লক ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে গরুর মালিকেরা তাঁদের প্রশিক্ষিত পশু নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।প্রতিযোগিতাকে ঘিরে আগে থেকেই শুরু হয় উৎসবের আমেজ। মাঠের চারপাশে ভিড় জমাতে থাকেন সাধারণ মানুষ। শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সের মানুষই এই ঐতিহ্যবাহী দৌড় দেখতে উৎসাহ নিয়ে হাজির হন। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী গরুগুলিকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয় এবং মালিকদের মধ্যেও থাকে জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা।আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করতে থাকে একাধিক পুরস্কারের ব্যবস্থা। ফলে প্রতিযোগিতা ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই দৌড় দেখতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়। কোথাও কোথাও মেলা, খাবারের দোকান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনও এই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে উৎসবের পরিবেশ তৈরি করে।আধুনিকতার চাপে গ্রাম বাংলার বহু লোকজ ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই জায়গায় গরুর দৌড়ের মতো প্রাচীন লোকসংস্কৃতির আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার গ্রামীণ জীবন, কৃষি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।তবে এই ধরনের আয়োজন যাতে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও পশুকল্যাণের নিয়ম মেনে পরিচালিত হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি পশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এমন আয়োজন আরও বড় পরিসরে করা যেতে পারে।গ্রাম বাংলার মাটি, কৃষক, গবাদি পশু আর লোকসংস্কৃতির এই মেলবন্ধন তাই শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়—এ যেন বাংলার চিরচেনা গ্রামীণ জীবনের এক জীবন্ত ছবি। প্রতিটি বছরে গ্রামবাসীদের ব্যবস্থাপনায় চিরাচরিত ঐতিহ্য গরুর দৌড় মৈই ছাড়া অনুষ্ঠিত হয়।

বিট অফিস সংলগ্ন স্টিল নেট অকেজো—যেকোনো মুহূর্তে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়,যা মৈই ছাড়া নামেই খ্যাত

আপডেট : ২৫ অগাস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার
হাসান লস্কর কুলতলী, দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা: গ্রাম বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখতে সুন্দরবনের কুলতলীর জালাবেড়িয়া এক নম্বর অঞ্চলের পালের চকে গ্ৰামে আজও জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সঙ্গে এখানে আয়োজিত হলো দুই দিনের ঐতিহ্যবাহী গরুর দৌড়, যা স্থানীয় মানুষের কাছে ‘মৈই ছাড়া’ নামেও পরিচিত। এই প্রতিযোগিতা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার কৃষিজীবী মানুষের আবেগ, বিশ্বাস ও লোকসংস্কৃতির দীর্ঘ ইতিহাস।বিশেষ করে কৃষকরা ভালো ফসলের আশায় এবং কৃষিকাজের সঙ্গে গবাদি পশুর নিবিড় সম্পর্ককে স্মরণ করেই এই ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকেন। গ্রাম বাংলার বিভিন্ন ব্লক ও প্রত্যন্ত এলাকা থেকে গরুর মালিকেরা তাঁদের প্রশিক্ষিত পশু নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।প্রতিযোগিতাকে ঘিরে আগে থেকেই শুরু হয় উৎসবের আমেজ। মাঠের চারপাশে ভিড় জমাতে থাকেন সাধারণ মানুষ। শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সের মানুষই এই ঐতিহ্যবাহী দৌড় দেখতে উৎসাহ নিয়ে হাজির হন। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী গরুগুলিকে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয় এবং মালিকদের মধ্যেও থাকে জয়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা।আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করতে থাকে একাধিক পুরস্কারের ব্যবস্থা। ফলে প্রতিযোগিতা ঘিরে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই দৌড় দেখতে হাজার হাজার মানুষের সমাগম হয়। কোথাও কোথাও মেলা, খাবারের দোকান ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনও এই প্রতিযোগিতাকে ঘিরে উৎসবের পরিবেশ তৈরি করে।আধুনিকতার চাপে গ্রাম বাংলার বহু লোকজ ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই জায়গায় গরুর দৌড়ের মতো প্রাচীন লোকসংস্কৃতির আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার গ্রামীণ জীবন, কৃষি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছে।তবে এই ধরনের আয়োজন যাতে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও পশুকল্যাণের নিয়ম মেনে পরিচালিত হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি। ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার পাশাপাশি পশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এমন আয়োজন আরও বড় পরিসরে করা যেতে পারে।গ্রাম বাংলার মাটি, কৃষক, গবাদি পশু আর লোকসংস্কৃতির এই মেলবন্ধন তাই শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়—এ যেন বাংলার চিরচেনা গ্রামীণ জীবনের এক জীবন্ত ছবি। প্রতিটি বছরে গ্রামবাসীদের ব্যবস্থাপনায় চিরাচরিত ঐতিহ্য গরুর দৌড় মৈই ছাড়া অনুষ্ঠিত হয়।