০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩

জয়ের মার্জিন দিলেন শুভেন্দু

নিজস্ব প্রতিবেদন: ২০১৬ সাল থেকে নন্দীগ্রামের বিধায়ক তিনি। এখন নন্দীগ্রামে উন্নয়ন না হওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি দায়ী করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নন্দীগ্রামে প্রশাসনিক বৈঠকের পর তিনি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বললেন, “নন্দীগ্রাম ভালো থাকলে আমি ভালো থাকি। এবার নন্দীগ্রামে রেকর্ড মার্জিনে জয় হাসিল করতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটে হেরে নন্দীগ্রামের উন্নয়ন বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এবার মার্জিন বাড়িয়ে সেই জবাব দিতে হবে।”
এ জন্য তিনি ফলতার নির্বাচনে জয়ের মাপকাঠি খাঁড়া করে দেন। বলেন, ফলতাকেও ছাপিয়ে যেতে হবে নন্দীগ্রামকে। এদিন সেই লক্ষ্যে নন্দীগ্রামে একগুচ্ছ প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।
২০২৬ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার উপনির্বাচনে ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভায় পদ্ম ফুটিয়ে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু অধিকারী এবার চাইছেন, নিজের ছেড়ে যাওয়া আসন নন্দীগ্রামে ফলতাকেও ছাপিয়ে যেতে। এদিন অনুষ্ঠানে বিজেপিকে জয়যুক্ত করতে নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে সেই আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ২০২৬-এ ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও জয়ী হওয়ায় নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে। তাই উপনির্বাচন হচ্ছে নন্দীগ্রামে। তার আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বিগত পাঁচ বছরের উপেক্ষার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তৃণমূল জমানার শেষ পাঁচ বছরে নন্দীগ্রাম উপেক্ষিত হয়েছে। ২০২১ সালে তাঁর কাছে হারের পর রাগে-হিংসায় নন্দীগ্রামের যাবতীয় উন্নয়ন বন্ধ করে দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু রেল প্রকল্পের উদাহারণ টানেন। নন্দীগ্রামে রেলস্টেশন করার দাবি অনেক পুরনো। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, মাত্র ছয় একর জমির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তৃণমূল সরকার সেটুকুও রেলকে দেয়নি। এবার তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েই সাড়ে তিন একর জমি রেলকে হস্তান্তর করেছেন। বাকিটাও আগামী মার্চের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। “এবার নন্দীগ্রাম-বটতলা রেলস্টেশনে উঠব আর বাজকুলে গিয়ে নামব। প্রথম ট্রেনে আমিই চড়ব আপনাদের নিয়ে।” প্রত্যয়ী ঘোষণায় জানান শুভেন্দু।
এদিন একগুচ্ছ প্রকল্পের শিলান্যাস করার পাশাপাশি, এলাকায় ১১ হাজার ৭০০টি বাড়ি নির্মাণের কথাও জানান তিনি। নন্দীগ্রামে একটি নতুন দমকল কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রামে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নীতকরণের কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। বলেন, “৩২টি রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার হচ্ছে। নন্দীগ্রামে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলছে আজ। পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পরিষেবা আরও সহজলভ্য করতেই একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।” পাশাপাশি এদিনের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বিকশিত ভারত জি রাম জির আওতায় কাজ এবং অর্থ প্রকল্পের সূচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নরেন্দ্র মোদির এই প্রকল্পের মাধ্যমে জব কার্ড ধারীরা বছরে ১২৫ দিনের কাজ পাবেন সমস্ত জব কার্ড হোল্ডারদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি বছরের ৩৪,৫০০ টাকা যুক্ত হবে।” একইসঙ্গে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য অর্থ বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। গ্রামোন্নয়ন এবং পঞ্চায়েত দফতরের পক্ষ থেকে গৃহ নির্মাণের সহায়তার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এর আগে প্রথম কিস্তি ৬০,০০০ টাকা পেয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। এদিন ৭৩০০ উপভোক্তাকে দ্বিতীয় কিস্তির ৬০,০০০ টাকা হস্তান্তর করা হল।” তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আয়ূষ্মান ভারতের প্রসঙ্গ। বলেন, “নন্দীগ্রামের একটা বড় অংশের মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক। তারা এই কার্ডের মাধ্যমে ভিন রাজ্যেও চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। এরপরই তিনি উপনির্বাচনের কথা প্রসঙ্গে বলেন, “নন্দীগ্রামের মানুষের সঙ্গে আমার দু’দশকের সম্পর্ক। এখানকার মানুষ আমাকে ফেরায়নি, ফেরাবে না। এবার ফলতার থেকেও বড় ব্যবধানে এখানে জয় পেতে হবে। নন্দীগ্রামে আমাকে আপনারা ৮০ হাজার ভোটে জিতিয়েছিলেন এবার ব্যবধান আরও বাড়াতে হবে। রাজ্যের উন্নয়ন যেমন আমার প্রধান কর্তব্য, তেমনি অগ্রাধিকারের তালিকায় এক নম্বরে থাকবে এই নন্দীগ্রাম।”
সর্বাধিক পাঠিত

আদিবাসীদের ‘ভেড়চাল’ মন্তব্যের প্রতিবাদ; বীরভূমের বিভিন্ন থানায় বিজেপি সাংসদের বিরুদ্ধে ডেপুটেশন

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

জয়ের মার্জিন দিলেন শুভেন্দু

আপডেট : ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার
নিজস্ব প্রতিবেদন: ২০১৬ সাল থেকে নন্দীগ্রামের বিধায়ক তিনি। এখন নন্দীগ্রামে উন্নয়ন না হওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি দায়ী করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নন্দীগ্রামে প্রশাসনিক বৈঠকের পর তিনি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বললেন, “নন্দীগ্রাম ভালো থাকলে আমি ভালো থাকি। এবার নন্দীগ্রামে রেকর্ড মার্জিনে জয় হাসিল করতে হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটে হেরে নন্দীগ্রামের উন্নয়ন বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এবার মার্জিন বাড়িয়ে সেই জবাব দিতে হবে।”
এ জন্য তিনি ফলতার নির্বাচনে জয়ের মাপকাঠি খাঁড়া করে দেন। বলেন, ফলতাকেও ছাপিয়ে যেতে হবে নন্দীগ্রামকে। এদিন সেই লক্ষ্যে নন্দীগ্রামে একগুচ্ছ প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী।
২০২৬ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার উপনির্বাচনে ১ লক্ষ ৯ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভায় পদ্ম ফুটিয়ে আত্মবিশ্বাসী শুভেন্দু অধিকারী এবার চাইছেন, নিজের ছেড়ে যাওয়া আসন নন্দীগ্রামে ফলতাকেও ছাপিয়ে যেতে। এদিন অনুষ্ঠানে বিজেপিকে জয়যুক্ত করতে নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে সেই আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ২০২৬-এ ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও জয়ী হওয়ায় নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে। তাই উপনির্বাচন হচ্ছে নন্দীগ্রামে। তার আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বিগত পাঁচ বছরের উপেক্ষার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তৃণমূল জমানার শেষ পাঁচ বছরে নন্দীগ্রাম উপেক্ষিত হয়েছে। ২০২১ সালে তাঁর কাছে হারের পর রাগে-হিংসায় নন্দীগ্রামের যাবতীয় উন্নয়ন বন্ধ করে দিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী। এ প্রসঙ্গে শুভেন্দু রেল প্রকল্পের উদাহারণ টানেন। নন্দীগ্রামে রেলস্টেশন করার দাবি অনেক পুরনো। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, মাত্র ছয় একর জমির প্রয়োজন ছিল। কিন্তু তৃণমূল সরকার সেটুকুও রেলকে দেয়নি। এবার তিনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েই সাড়ে তিন একর জমি রেলকে হস্তান্তর করেছেন। বাকিটাও আগামী মার্চের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। “এবার নন্দীগ্রাম-বটতলা রেলস্টেশনে উঠব আর বাজকুলে গিয়ে নামব। প্রথম ট্রেনে আমিই চড়ব আপনাদের নিয়ে।” প্রত্যয়ী ঘোষণায় জানান শুভেন্দু।
এদিন একগুচ্ছ প্রকল্পের শিলান্যাস করার পাশাপাশি, এলাকায় ১১ হাজার ৭০০টি বাড়ি নির্মাণের কথাও জানান তিনি। নন্দীগ্রামে একটি নতুন দমকল কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। নন্দীগ্রামে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উন্নীতকরণের কথাও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। বলেন, “৩২টি রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার হচ্ছে। নন্দীগ্রামে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলছে আজ। পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের পরিষেবা আরও সহজলভ্য করতেই একাধিক প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।” পাশাপাশি এদিনের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় প্রকল্প বিকশিত ভারত জি রাম জির আওতায় কাজ এবং অর্থ প্রকল্পের সূচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “নরেন্দ্র মোদির এই প্রকল্পের মাধ্যমে জব কার্ড ধারীরা বছরে ১২৫ দিনের কাজ পাবেন সমস্ত জব কার্ড হোল্ডারদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি বছরের ৩৪,৫০০ টাকা যুক্ত হবে।” একইসঙ্গে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের জন্য অর্থ বরাদ্দের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। গ্রামোন্নয়ন এবং পঞ্চায়েত দফতরের পক্ষ থেকে গৃহ নির্মাণের সহায়তার কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এর আগে প্রথম কিস্তি ৬০,০০০ টাকা পেয়েছিলেন সাধারণ মানুষ। এদিন ৭৩০০ উপভোক্তাকে দ্বিতীয় কিস্তির ৬০,০০০ টাকা হস্তান্তর করা হল।” তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আয়ূষ্মান ভারতের প্রসঙ্গ। বলেন, “নন্দীগ্রামের একটা বড় অংশের মানুষ পরিযায়ী শ্রমিক। তারা এই কার্ডের মাধ্যমে ভিন রাজ্যেও চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন। এরপরই তিনি উপনির্বাচনের কথা প্রসঙ্গে বলেন, “নন্দীগ্রামের মানুষের সঙ্গে আমার দু’দশকের সম্পর্ক। এখানকার মানুষ আমাকে ফেরায়নি, ফেরাবে না। এবার ফলতার থেকেও বড় ব্যবধানে এখানে জয় পেতে হবে। নন্দীগ্রামে আমাকে আপনারা ৮০ হাজার ভোটে জিতিয়েছিলেন এবার ব্যবধান আরও বাড়াতে হবে। রাজ্যের উন্নয়ন যেমন আমার প্রধান কর্তব্য, তেমনি অগ্রাধিকারের তালিকায় এক নম্বরে থাকবে এই নন্দীগ্রাম।”