আনজুম মুনির, নদিয়া: বাড়ির একটি শিশু বিজেপির পতাকা লাগিয়েছিল। কেন বিজেপির পতাকা লাগালো ওই বাড়ির শিশু? সেই রাগ পুষে রেখেছিল এলাকার কয়েকজন তৃণমূল নেতৃত্ব। আচমকা রাতের অন্ধকারে বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর এবং মহিলাদের মারধরের অভিযোগ তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়ার শান্তিপুর থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বেরপাড়া মনসাতলা এলাকায়।
অবশেষে শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় পরিবারের তরফে। ২০২৬শে বিধানসভা নির্বাচনের অনেকের ধারণা ছিল চতুর্থবারের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে চলেছে। কিন্তু সব জল্পনা উড়িয়ে ভোট গণনার পর দেখা গেল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাজ্যে পালাবদল ঘটল। ক্ষমতায় এলো বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হলেন একদা মমতা ব্যানার্জির ছায়াসঙ্গী শুভেন্দু অধিকারী।
পালাবদলের পর গোটা রাজ্যজুড়ে বিজেপির বিজয় মিছিল সংঘটিত হয়। সেই আনন্দে নদীয়ার শান্তিপুর থানার বেরপাড়া মনসাতলার এক পরিবারের শিশু রাস্তায় বিজেপির পতাকা লাগিয়েছিল এবং আবির উড়িয়েছিল। কেন সেই আবির সে ওড়ালো এবং পতাকা লাগালো, সেই প্রশ্ন তুলে ওই শিশুকে প্রথমে মারধর করে। মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি, সেই রাগ পুষে রেখে আচমকা ওই শিশুর পরিবারের উপর রাতের অন্ধকারে হামলা চালায় এলাকারই কয়েকজন তৃণমূল নেতৃত্ব। প্রথমে বাড়ি ভাঙচুর তারপরে মহিলাদের ওপর চলে অত্যাচার মারধোর।
অবশেষে শান্তিপুর থানায় দ্বারস্থ হয় ওই পরিবার। প্রথমে অভিযোগ জমা নিতে না চাইলেও পরবর্তীকালে অভিযোগ জমা নেয় শান্তিপুর থানার পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয়েছে তদন্ত। এই বিষয়ে অভিযোগকারী বেদানা পণ্ডিত বলেন, “৭ তারিখে বিজেপি জয়লাভের পর আমার বাড়ির ছোট ছেলেটা একটু আনন্দে বিজেপির পতাকা লাগিয়েছিল এবং আবির খেলেছিল। হয়তো প্রতিবেশী কারোর কাছে সেই আবেগ একটু লাগতে পারে, সেই কারণে তারা ছুটে এসে আমার ছেলেকে মারধর করে। সেই রাগ পুষে রেখে পরবর্তীকালে রাতের অন্ধকারে বেশ কয়েকজন আমার বাড়িতে আক্রমণ চালায়। আমার বাড়ি ভাঙচুর করে এবং আমাকে, আমার শাশুড়িকে মারধর করে। মূলত কেন আমরা বিজেপি করেছি সেই অপরাধে আমাদেরকে মারধোর করা হয়। আমি চাইছি দোষীদের বিরুদ্ধে যাতে যথাযথ ব্যবস্থা নেই প্রশাসন।”
এই বিষয়ে আক্রান্ত শুভ্রা পন্ডিত বলেন, “আমরা বিজেপি করি, সেই অপরাধে আমাদেরকে মারধর করা হয়েছে। আর যারা মারধর করেছে, তারা সকলেই তৃণমূল করে। তবে আমরা আগাগোড়া বিজেপি করতাম। কাউকে বুঝতে দিতাম না। কিন্তু বিজেপি জয়লাভের পর সেটা হয়তো তারা প্রকাশ পেয়েছিল, সেই কারণেই আমাদেরকে মারধর করলো।”
এই বিষয়ে বিজেপি নেতা তথা কাউন্সিলর মহানন্দ বিশ্বাস বলেন, বিজেপি করার অপরাধে মহিলা এবং শিশুদের মারধর করা হয়েছে। এখনো কোন সাহসে এরা বিজেপিকে মারধর করছে, সেটাই বুঝে উঠতে পারছি না। আমি খবর শুনে থানায় ছুটে এসেছি। বড় বাবুর সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।”
নতুন গতি 


























