২০ মে ২০২৬, বুধবার, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
২০ মে ২০২৬, বুধবার, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বীরভূমে পাথর থেকে বিশাল রাজস্ব লোপাটের অভিযোগ: তদন্তের দাবি বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের

 

 

 

খান আরশাদ, বীরভূম:

বীরভূম জেলায় পাথর ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলা এক বিশাল ডি.সি.আর (DCR) কেলেঙ্কারির তথ্য প্রকাশ্যে নিয়ে এলেন সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সিউড়িতে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে বিধায়ক এক রোমহর্ষক তথ্য জানান সম্প্রতি জেলা প্রশাসন ও একাধিক দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে সরাসরি সরকারি তত্ত্বাবধানে রাজস্ব সংগ্রহ শুরু হতেই মাত্র দু’দিনে যে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ সংগৃহীত হয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট যে তৃণমূলের রাজত্বকালে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব লুট করা হত।

বীরভূম জেলায় প্রায় ২৫০টি পাথর খনি রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলিরই বৈধতা নেই। এই অবৈধ পাথর পাচার রুখতে জেলা প্রশাসন চালানের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়। পূর্ববর্তী সময়ে (২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত) একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে এই ডি.সি.আর আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া ছিল। তখন প্রতিদিন মাত্র ১৯ লক্ষ টাকা রাজস্ব জমা পড়ত। পরবর্তীতে, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত (ভোট ঘোষণার আগে) দৈনিক রাজস্ব সংগ্রহ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা।

বেসরকারি সংস্থার এই রাজস্ব সংগ্রহে ব্যাপক অসঙ্গতি দেখে জেলা প্রশাসন নতুন কড়া নীতি প্রণয়ন করে। কোনো একক দপ্তরের দুর্নীতি রুখতে পুলিশ, পরিবহন, ভূমি দপ্তর এবং একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট-এর যৌথ নজরদারিতে মহম্মদবাজার, রামপুরহাট, ময়ূরেশ্বর, নলহাটি ও মুরারই ব্লকের মোট ৯টি চেকগেটে সরাসরি সরকারি তত্ত্বাবধানে রাজস্ব আদায় শুরু হয়। নিয়ম করা হয়, বৈধ ডি.সি.আর ছাড়া গাড়ি ধরা পড়লে স্পটেই ১ লক্ষ টাকা জরিমানা বা গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হবে।

গত ১৭ই মে থেকে সরকারের এই নতুন ব্যবস্থা চালু হতেই রাজস্ব আদায়ের চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে যায়। প্রথম দিন (১৭ই মে) রাজস্ব সংগৃহীত হয় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় দিন (১৮ই মে) রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ একলাফে বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা।

প্রশাসনের আধিকারিকদের অনুমান, এই কড়া নজরদারি বজায় থাকলে দৈনিক রাজস্ব সংগ্রহ ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাবে। ফলে মাসে শুধুমাত্র এই খাত থেকেই ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ঘরে ৯০ থেকে ১০০ কোটি টাকা জমা পড়বে, যা আগে ছিল মাত্র ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা।

বিধায়কের দাবি, প্রতি মাসে যদি এভাবে প্রায় ৭০ কোটি টাকা করে রাজস্ব লোপাট হয়ে থাকে, তবে বিগত ১৫ বছরে এই জেলা থেকে কম করে হলেও ১০ হাজার কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব লুঠ করা হয়েছে।

আগামী ২১শে মে রাঢ়বঙ্গের জেলাগুলি নিয়ে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে। এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ করার জন্য জেলা শাসককে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সাথে, বিগত ১৫ বছর ধরে চলা এই ১০ হাজার কোটি টাকার ডি.সি.আর কেলেঙ্কারির পেছনে কোন প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক চক্র জড়িত, তা উদ্ঘাটন করতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

স্থায়ী নিয়োগ ও বঞ্চনার প্রতিবাদে ‘হাইকোর্ট চলো

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বীরভূমে পাথর থেকে বিশাল রাজস্ব লোপাটের অভিযোগ: তদন্তের দাবি বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের

আপডেট : ১৯ মে ২০২৬, মঙ্গলবার

 

 

 

খান আরশাদ, বীরভূম:

বীরভূম জেলায় পাথর ব্যবসার আড়ালে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলা এক বিশাল ডি.সি.আর (DCR) কেলেঙ্কারির তথ্য প্রকাশ্যে নিয়ে এলেন সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সিউড়িতে একটি সাংবাদিক সম্মেলন করে বিধায়ক এক রোমহর্ষক তথ্য জানান সম্প্রতি জেলা প্রশাসন ও একাধিক দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে সরাসরি সরকারি তত্ত্বাবধানে রাজস্ব সংগ্রহ শুরু হতেই মাত্র দু’দিনে যে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ সংগৃহীত হয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট যে তৃণমূলের রাজত্বকালে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব লুট করা হত।

বীরভূম জেলায় প্রায় ২৫০টি পাথর খনি রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলিরই বৈধতা নেই। এই অবৈধ পাথর পাচার রুখতে জেলা প্রশাসন চালানের মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়। পূর্ববর্তী সময়ে (২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে অক্টোবর পর্যন্ত) একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে এই ডি.সি.আর আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া ছিল। তখন প্রতিদিন মাত্র ১৯ লক্ষ টাকা রাজস্ব জমা পড়ত। পরবর্তীতে, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত (ভোট ঘোষণার আগে) দৈনিক রাজস্ব সংগ্রহ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা।

বেসরকারি সংস্থার এই রাজস্ব সংগ্রহে ব্যাপক অসঙ্গতি দেখে জেলা প্রশাসন নতুন কড়া নীতি প্রণয়ন করে। কোনো একক দপ্তরের দুর্নীতি রুখতে পুলিশ, পরিবহন, ভূমি দপ্তর এবং একজন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট-এর যৌথ নজরদারিতে মহম্মদবাজার, রামপুরহাট, ময়ূরেশ্বর, নলহাটি ও মুরারই ব্লকের মোট ৯টি চেকগেটে সরাসরি সরকারি তত্ত্বাবধানে রাজস্ব আদায় শুরু হয়। নিয়ম করা হয়, বৈধ ডি.সি.আর ছাড়া গাড়ি ধরা পড়লে স্পটেই ১ লক্ষ টাকা জরিমানা বা গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হবে।

গত ১৭ই মে থেকে সরকারের এই নতুন ব্যবস্থা চালু হতেই রাজস্ব আদায়ের চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে যায়। প্রথম দিন (১৭ই মে) রাজস্ব সংগৃহীত হয় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। দ্বিতীয় দিন (১৮ই মে) রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ একলাফে বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা।

প্রশাসনের আধিকারিকদের অনুমান, এই কড়া নজরদারি বজায় থাকলে দৈনিক রাজস্ব সংগ্রহ ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছাবে। ফলে মাসে শুধুমাত্র এই খাত থেকেই ডাবল ইঞ্জিন সরকারের ঘরে ৯০ থেকে ১০০ কোটি টাকা জমা পড়বে, যা আগে ছিল মাত্র ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা।

বিধায়কের দাবি, প্রতি মাসে যদি এভাবে প্রায় ৭০ কোটি টাকা করে রাজস্ব লোপাট হয়ে থাকে, তবে বিগত ১৫ বছরে এই জেলা থেকে কম করে হলেও ১০ হাজার কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব লুঠ করা হয়েছে।

আগামী ২১শে মে রাঢ়বঙ্গের জেলাগুলি নিয়ে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে। এই বিষয়ে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ করার জন্য জেলা শাসককে অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সাথে, বিগত ১৫ বছর ধরে চলা এই ১০ হাজার কোটি টাকার ডি.সি.আর কেলেঙ্কারির পেছনে কোন প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক চক্র জড়িত, তা উদ্ঘাটন করতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।