১৯ মে ২০২৬, মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
১৯ মে ২০২৬, মঙ্গলবার, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রাজস্থানের শ্মশানে রুশ তরুনির ‘নয় ধুনি’ তপস্যা

নিউজ ডেস্ক: দুপুর বারোটার তীব্র দাবদাহের মধ্যে নয় অগ্নিকুণ্ড। চারদিকে হুহু করে জ্বলছে আগুন আর তার বৃত্তমাঝে বসে এক রুশ কন্যা। নাহ, কোনও গল্পকথা বা সিনেমার দৃশ্যও নয়। সম্প্রতি রাজস্থানের পুষ্করের শ্মশান ভূমিতে দেখা গেল এমন এক আশ্চর্য দৃশ্য। আগুনের ঠিক মাঝখানে বসে দেবাদিদেবের আরাধনায় মগ্ন বিদেশি নারী। তিনি মেতে উঠেছেন সনাতন ধর্মের প্রাচীন ও অত্যন্ত কঠিন ‘নয় ধুনী’ তপস্যায়।

সাধিকার নাম যোগিনী অন্নপূর্ণা নাথ। ভস্ম গায়ে, শ্মশানের নিস্তব্ধতায় প্রতিদিন প্রায় সোয়া তিন ঘণ্টা ধরে শিবসাধনার সঙ্গে গুরু বীজ মন্ত্র জপ করেন নাথপন্থী এই যোগিনী। একা অন্নপূর্ণা নন, তাঁর সঙ্গে এই অগ্নিপরীক্ষায় শামিল হয়েছেন তাঁর গুরু বালযোগী দীপক নাথও। গত ৩ মে থেকে শুরু হওয়া এই কঠোর ব্রত চলবে আগামী ২৫ মে পর্যন্ত। শেষ দিনে পূর্ণাহুতি, হোমযজ্ঞ ও সন্ত ভাণ্ডারার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে এই যজ্ঞের।

নাথ সম্প্রদায়ের হঠযোগের অন্যতম রূপ এই ‘নয় ধুনী’ তপস্যা। আধ্যাত্মিক গুরুদের মতে, ‘ধুনী’ শব্দের অর্থ পবিত্র আগুন। এই সাধনায় সাধকের চারপাশের আটটি দিক এবং একদম কেন্দ্রে একটি, অর্থাৎ মোট নয়টি অগ্নিকুণ্ড জ্বালানো হয়। যখন দুপুরের দিকে সূর্যের উত্তাপ চরমে পৌঁছায়, ঠিক তখনই সাধক এই আগুনের বলয়ের মাঝে যোগমুদ্রায় বসেন। শরীরকে তাপ থেকে রক্ষা করতে পুরো অঙ্গে মাখা হয় গোবর থেকে তৈরি বিশেষ ভস্ম। সাধারণত ২১ দিন ধরে চলে এই কঠোর সাধনা। প্রতিদিন ঘুঁটের সংখ্যা বৃদ্ধি করে আগুনের তীব্রতা আরও বাড়ানো হয়। হিন্দুশাস্ত্রে এই ধরনের তপস্যার বহু উল্লেখ রয়েছে।

তৃণমূল রাজনীতির সঙ্গে কি কাকলি আর মানাতে পারছেন না?

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

রাজস্থানের শ্মশানে রুশ তরুনির ‘নয় ধুনি’ তপস্যা

আপডেট : ১৯ মে ২০২৬, মঙ্গলবার

নিউজ ডেস্ক: দুপুর বারোটার তীব্র দাবদাহের মধ্যে নয় অগ্নিকুণ্ড। চারদিকে হুহু করে জ্বলছে আগুন আর তার বৃত্তমাঝে বসে এক রুশ কন্যা। নাহ, কোনও গল্পকথা বা সিনেমার দৃশ্যও নয়। সম্প্রতি রাজস্থানের পুষ্করের শ্মশান ভূমিতে দেখা গেল এমন এক আশ্চর্য দৃশ্য। আগুনের ঠিক মাঝখানে বসে দেবাদিদেবের আরাধনায় মগ্ন বিদেশি নারী। তিনি মেতে উঠেছেন সনাতন ধর্মের প্রাচীন ও অত্যন্ত কঠিন ‘নয় ধুনী’ তপস্যায়।

সাধিকার নাম যোগিনী অন্নপূর্ণা নাথ। ভস্ম গায়ে, শ্মশানের নিস্তব্ধতায় প্রতিদিন প্রায় সোয়া তিন ঘণ্টা ধরে শিবসাধনার সঙ্গে গুরু বীজ মন্ত্র জপ করেন নাথপন্থী এই যোগিনী। একা অন্নপূর্ণা নন, তাঁর সঙ্গে এই অগ্নিপরীক্ষায় শামিল হয়েছেন তাঁর গুরু বালযোগী দীপক নাথও। গত ৩ মে থেকে শুরু হওয়া এই কঠোর ব্রত চলবে আগামী ২৫ মে পর্যন্ত। শেষ দিনে পূর্ণাহুতি, হোমযজ্ঞ ও সন্ত ভাণ্ডারার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে এই যজ্ঞের।

নাথ সম্প্রদায়ের হঠযোগের অন্যতম রূপ এই ‘নয় ধুনী’ তপস্যা। আধ্যাত্মিক গুরুদের মতে, ‘ধুনী’ শব্দের অর্থ পবিত্র আগুন। এই সাধনায় সাধকের চারপাশের আটটি দিক এবং একদম কেন্দ্রে একটি, অর্থাৎ মোট নয়টি অগ্নিকুণ্ড জ্বালানো হয়। যখন দুপুরের দিকে সূর্যের উত্তাপ চরমে পৌঁছায়, ঠিক তখনই সাধক এই আগুনের বলয়ের মাঝে যোগমুদ্রায় বসেন। শরীরকে তাপ থেকে রক্ষা করতে পুরো অঙ্গে মাখা হয় গোবর থেকে তৈরি বিশেষ ভস্ম। সাধারণত ২১ দিন ধরে চলে এই কঠোর সাধনা। প্রতিদিন ঘুঁটের সংখ্যা বৃদ্ধি করে আগুনের তীব্রতা আরও বাড়ানো হয়। হিন্দুশাস্ত্রে এই ধরনের তপস্যার বহু উল্লেখ রয়েছে।