২৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
২৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

তারাতলা বিপর্যয়ে গ্রেফতার ৪, জোর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ

দেবজিত মুখার্জী, কলকাতা: ঘটনা ঘটার কিছু সময় পরেই মুখ্যমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত হয়ে পুলিশকে নির্দেশ দেন কড়া তদন্ত করতে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের ঘণ্টাদেড়েকের মধ্যেই ‘অ্যাকশন’। তারাতলায় গুদাম বিপর্যয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতরা হল সৈয়দ মহম্মদ গুলজার, মহম্মদ আতাউল ও সুভাষ চৌধুরী। জানা গিয়েছে, সৈয়দ মহম্মদ গুলজার ছিল ওই নির্মাণকাজের সুপারভাইজার। আতাউল এবং সুভাষই কাজের জন্য শ্রমিক সরবরাহ করত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। বুধবার বেলা ১২টা ৭ মিনিটে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে তারাতলার তিনতলাক গুদাম। ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে যান বহু শ্রমিক। খবর পাওয়া মাত্রই একের পর এক মন্ত্রী ঘটনাস্থলে যান। ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ঘটনাস্থলে পৌঁছন। উদ্ধারকাজের প্রতি মুহূর্তের আপডেট নিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, দুপুর আড়াইটে নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালের। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় উদ্ধারকাজে সেনার সাহায্য নেওয়া হবে।

সেই মতো তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সেনা। দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় কাজ। ভার্টিকাল ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। কে, কোথায় আটকে রয়েছেন তার হদিশ পেতে ড্রোন উড়িয়ে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। নামানো হয়েছে দু’টি স্নিফার ডগও। রাতেও চলছে উদ্ধারকাজ। ঘটনাস্থলে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব ও মুখ্যসচিব। দফায় দফায় বৈঠক করছেন তাঁরা। ইতিমধ্যে এসএসকেএমে আহতদের সঙ্গে দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, “তারাতলার কারখানায় কর্মরতদের বেশিরভাগই বিহার ও মুঙ্গেরের বাসিন্দা। ঠিক কতজন শ্রমিক ওই ধ্বংসস্তূপের নিচে কাজ করছিলেন, তার হিসাব পেতে লালবাজারকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক সরবরাহকারীকে অবিলম্বে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাহলেই জানা যাবে ঠিক কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। কতজন নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। আর কতজন উদ্ধার হয়েছেন তা স্পষ্ট হবে।”

তৃণমূলের আমলে পাশ হওয়া নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ইমারত তৈরি আপাতত বন্ধ

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

তারাতলা বিপর্যয়ে গ্রেফতার ৪, জোর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার

দেবজিত মুখার্জী, কলকাতা: ঘটনা ঘটার কিছু সময় পরেই মুখ্যমন্ত্রী সেখানে উপস্থিত হয়ে পুলিশকে নির্দেশ দেন কড়া তদন্ত করতে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের ঘণ্টাদেড়েকের মধ্যেই ‘অ্যাকশন’। তারাতলায় গুদাম বিপর্যয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃতরা হল সৈয়দ মহম্মদ গুলজার, মহম্মদ আতাউল ও সুভাষ চৌধুরী। জানা গিয়েছে, সৈয়দ মহম্মদ গুলজার ছিল ওই নির্মাণকাজের সুপারভাইজার। আতাউল এবং সুভাষই কাজের জন্য শ্রমিক সরবরাহ করত। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। বুধবার বেলা ১২টা ৭ মিনিটে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে তারাতলার তিনতলাক গুদাম। ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে যান বহু শ্রমিক। খবর পাওয়া মাত্রই একের পর এক মন্ত্রী ঘটনাস্থলে যান। ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ঘটনাস্থলে পৌঁছন। উদ্ধারকাজের প্রতি মুহূর্তের আপডেট নিচ্ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, দুপুর আড়াইটে নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয় মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়ালের। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় উদ্ধারকাজে সেনার সাহায্য নেওয়া হবে।

সেই মতো তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সেনা। দমকল, বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় কাজ। ভার্টিকাল ড্রিলিংয়ের মাধ্যমে শুরু হয় উদ্ধারকাজ। কে, কোথায় আটকে রয়েছেন তার হদিশ পেতে ড্রোন উড়িয়ে শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। নামানো হয়েছে দু’টি স্নিফার ডগও। রাতেও চলছে উদ্ধারকাজ। ঘটনাস্থলে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রসচিব ও মুখ্যসচিব। দফায় দফায় বৈঠক করছেন তাঁরা। ইতিমধ্যে এসএসকেএমে আহতদের সঙ্গে দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, “তারাতলার কারখানায় কর্মরতদের বেশিরভাগই বিহার ও মুঙ্গেরের বাসিন্দা। ঠিক কতজন শ্রমিক ওই ধ্বংসস্তূপের নিচে কাজ করছিলেন, তার হিসাব পেতে লালবাজারকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক সরবরাহকারীকে অবিলম্বে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাহলেই জানা যাবে ঠিক কতজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। কতজন নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। আর কতজন উদ্ধার হয়েছেন তা স্পষ্ট হবে।”