০৫ জুলাই ২০২৬, রবিবার, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩
০৫ জুলাই ২০২৬, রবিবার, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটি দেখা আমার জীবনের অন্যতম সেরা এক অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে

মায়ামি থেকে দীপক নন্দী: মায়ামির স্টেডিয়ামে হাজারো দর্শকের সামনে বসে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের শেষ ৩২-এর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটি দেখা আমার জীবনের অন্যতম সেরা এক অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। মাঠের উত্তাপ আর গ্যালারির উত্তেজনা মিলিয়ে ফুটবল যে কেন পৃথিবীর ১ নম্বর খেলা, তা আজ আরও বুঝতে পারলাম।

ম্যাচের আগে সবাই ধরে নিয়েছিল আজ আর্জেন্টিনাই ভালো ভাবে জিতবে। আমিও বলেছিলাম, এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৯০ ভাগ আর কেপ ভার্দের ১০ ভাগ। তবুও মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল না,না,
মেসিদেরই জয়ের সম্ভাবনা একশ ভাগই। ভেবেছিলাম, ২-০ ব্যবধানে জিতে মেসিরা শেষ ১৬-তে পা রাখবে।

কিন্তু মাঠের খেলা যে এতটা রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনায় রূপ নেবে, তা কে ভেবেছিল! ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬৯ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দে যে মেসিদের সঙ্গে এমন লড়াকু ফুটবল খেলবে তা এককথায় ছিল অবিশ্বাস্য। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে ৯০ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখার যে কীর্তি দেখাল তারা তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। প্রথমে স্পেন, তারপর উরুগুয়ে এবং সর্বশেষ মেসির আর্জেন্টিনার সঙ্গে তারা যে লাড়ুক ফুটবল খেলল তা অবিশ্বাস্য।

১-১ হয়ে যাওয়ার পর স্টেডিয়ামে বসে ভাবছিলাম, খেলাটা হয়তো অতিরিক্ত সময়ে যাবে। কিন্তু তা হয়নি।আমি নিজে জার্মানির সমর্থক হলেও এই বিশ্বকাপে জার্মানির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনাকেই আমি সমর্থন করছি। কারণ আজ পর্যন্ত ১২টা বিশ্ব কাপ দেখেছি, প্রতিটি বিশ্ব কাপেই জার্মানি ও আর্জেন্টিনার সমান ম্যাচ দেখেছি। আজকের ম্যাচটা আমি দারুণ উপভোগ করেছি। গোল যেমনটা আশা করেছিলাম, তার চেয়েও অনেক বেশি গোল হয়েছে এই ম্যাচে।

মাঠের প্রায় সব দর্শকই স্টেডিয়ামে এসেছিলেন একজন মানুষের জন্য।
তিনি হলেন লিওনেল মেসি। এই বিশ্বকাপে মেসি প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে রেকর্ড টানা ৮টি ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। কেপ ভার্দের সঙ্গে পুরো ম্যাচে মেসির খেলায় ছিল কিছু জাদুকরি ঝলক। আর তাতেই তিনি নিজেকে চেনালেন। এককথায় তিনি অসাধারণ। আর্জেন্টিনার এই জয়ে মেসির অবদান অনেক। এমনকি আর্জেন্টিনার জয়ের গোলটিও এসেছে মেসির কর্নার থেকেই। তাই দিন শেষে আমার চোখে তিনিই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়।

মেসির করনার থেকে আর্জেন্টিনার জয়ের গোলটা হওয়ার পর সারা স্টেডিয়াম একদম স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। গ্যালারিতে বসে মনে হচ্ছিল যেন আনন্দ আর বেদনার এক মহাকাব্য দেখছি।

টাইব্রেকারে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলতে মিশর

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটি দেখা আমার জীবনের অন্যতম সেরা এক অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে

আপডেট : ৪ জুলাই ২০২৬, শনিবার

মায়ামি থেকে দীপক নন্দী: মায়ামির স্টেডিয়ামে হাজারো দর্শকের সামনে বসে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের শেষ ৩২-এর রুদ্ধশ্বাস ম্যাচটি দেখা আমার জীবনের অন্যতম সেরা এক অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। মাঠের উত্তাপ আর গ্যালারির উত্তেজনা মিলিয়ে ফুটবল যে কেন পৃথিবীর ১ নম্বর খেলা, তা আজ আরও বুঝতে পারলাম।

ম্যাচের আগে সবাই ধরে নিয়েছিল আজ আর্জেন্টিনাই ভালো ভাবে জিতবে। আমিও বলেছিলাম, এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার জয়ের সম্ভাবনা ৯০ ভাগ আর কেপ ভার্দের ১০ ভাগ। তবুও মাঝে মাঝে মনে হচ্ছিল না,না,
মেসিদেরই জয়ের সম্ভাবনা একশ ভাগই। ভেবেছিলাম, ২-০ ব্যবধানে জিতে মেসিরা শেষ ১৬-তে পা রাখবে।

কিন্তু মাঠের খেলা যে এতটা রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনায় রূপ নেবে, তা কে ভেবেছিল! ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৬৯ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দে যে মেসিদের সঙ্গে এমন লড়াকু ফুটবল খেলবে তা এককথায় ছিল অবিশ্বাস্য। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে ৯০ মিনিট পর্যন্ত আটকে রাখার যে কীর্তি দেখাল তারা তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। প্রথমে স্পেন, তারপর উরুগুয়ে এবং সর্বশেষ মেসির আর্জেন্টিনার সঙ্গে তারা যে লাড়ুক ফুটবল খেলল তা অবিশ্বাস্য।

১-১ হয়ে যাওয়ার পর স্টেডিয়ামে বসে ভাবছিলাম, খেলাটা হয়তো অতিরিক্ত সময়ে যাবে। কিন্তু তা হয়নি।আমি নিজে জার্মানির সমর্থক হলেও এই বিশ্বকাপে জার্মানির বিদায়ের পর আর্জেন্টিনাকেই আমি সমর্থন করছি। কারণ আজ পর্যন্ত ১২টা বিশ্ব কাপ দেখেছি, প্রতিটি বিশ্ব কাপেই জার্মানি ও আর্জেন্টিনার সমান ম্যাচ দেখেছি। আজকের ম্যাচটা আমি দারুণ উপভোগ করেছি। গোল যেমনটা আশা করেছিলাম, তার চেয়েও অনেক বেশি গোল হয়েছে এই ম্যাচে।

মাঠের প্রায় সব দর্শকই স্টেডিয়ামে এসেছিলেন একজন মানুষের জন্য।
তিনি হলেন লিওনেল মেসি। এই বিশ্বকাপে মেসি প্রতিটি ম্যাচেই গোল করেছেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে রেকর্ড টানা ৮টি ম্যাচে গোল করার অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। কেপ ভার্দের সঙ্গে পুরো ম্যাচে মেসির খেলায় ছিল কিছু জাদুকরি ঝলক। আর তাতেই তিনি নিজেকে চেনালেন। এককথায় তিনি অসাধারণ। আর্জেন্টিনার এই জয়ে মেসির অবদান অনেক। এমনকি আর্জেন্টিনার জয়ের গোলটিও এসেছে মেসির কর্নার থেকেই। তাই দিন শেষে আমার চোখে তিনিই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়।

মেসির করনার থেকে আর্জেন্টিনার জয়ের গোলটা হওয়ার পর সারা স্টেডিয়াম একদম স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। গ্যালারিতে বসে মনে হচ্ছিল যেন আনন্দ আর বেদনার এক মহাকাব্য দেখছি।