খান আরশাদ বীরভূম:
বর্তমান চরম মূল্যবৃদ্ধির বাজারে নামমাত্র সাম্মানিক ও কাজের কোনো সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা ছাড়াই দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করে চলার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠলেন সি.এস.পি (CSP) কর্মীরা। আজ, ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে রাজনগর সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের করণ চত্বরে ‘সারা বাংলা সি.এস.পি কর্মী ইউনিয়ন’ (AIUTUC অনুমোদিত) রাজনগর ব্লক কমিটির উদ্যোগে এক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। একই সঙ্গে বিডিও (BDO)-র নিকট তাদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া সম্বলিত একটি স্মারক লিপিও জমা দেওয়া হয়।
সিএসপি কর্মীরা ক্ষোভ উগরে জানান যে, তাঁরা ২০০৮ সাল থেকে এই কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ২০১৩-১৪ সালের দিকে সি.এস.পি হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পান। কিন্তু বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে তাঁদের যেটুকু সাম্মানিক বা বেতন দেওয়া হয়, তা দিয়ে সংসার চালানো একপ্রকার অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে গ্রামে গ্রামে গিয়ে দল গঠন, মানুষের অভাব-অভিযোগ শোনা এবং নানা সরকারি কাজ সামলাতে হয় তাঁদের। অথচ তাঁদের কোনো নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট বেতন দেওয়ার ব্যবস্থা নেই; বরং সংঘ সমূহের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয় এবং কর্মীদের নিজস্ব কোনো পরিচয়পত্র বা আই-কার্ড ও ইউনিফর্ম পর্যন্ত নেই।
এদিন সংগঠনের পক্ষ থেকে তহমিনা খাতুন, মিঠু বাগদি, নুরেন্নেসা খাতুনরা জানান সরকারের কাছে ১৬ দফা দাবির মূলত যেগুলি জোরালোভাবে পেশ করা হয়েছে, তা হলো:
১- বর্তমান বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মাসিক বেতন অন্তত ১৫ হাজার টাকা করতে হবে। সাম্প্রতিক প্রকাশিত নতুন ম্যানুয়ালে যে ৪ হাজার টাকা ধার্য করা হয়েছে, তা আন্দোলনকারীরা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
২- ব্লক থেকে স্থায়ী এনগেজমেন্ট লেটার, নিজস্ব পরিচয়পত্র (আই-কার্ড) ও ইউনিফর্ম দিতে হবে।
৩- ষাট বছর পর্যন্ত কাজের নিশ্চয়তা, মাতৃত্বকালীন ও চিকিৎসা ছুটি, উৎসব ভাতা বা বোনাস এবং টিএ (TA) ও মোবাইল রিচার্জের খরচ দিতে হবে।
কর্মকালীন কোনো কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ও পরিবারের একজনকে চাকরি দিতে হবে।
ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, অবিলম্বে যদি তাঁদের এই মৌলিক দাবিগুলির সুরাহা না করা হয়, তবে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর ও তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলতে বাধ্য হবেন রাজনগর ব্লকের সি.এস.পি কর্মীরা।
নতুন গতি 

















