নাজমুস সাহাদাত, কালিয়াচক: ৩৩ বছরের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবন। এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য পড়ুয়ার সঙ্গে তৈরি হয়েছে আত্মিক সম্পর্ক, জমেছে নানা অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি। সেই পথচলার শেষে বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর কর্মজীবনের আনুষ্ঠানিক অধ্যায় শেষ করলেন শিক্ষিকা তানিয়া রহমত। তাঁর শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে কালিয়াচক-১ ব্লকের কালিয়াচক বাবুরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় বিশেষ বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সহকর্মী, পড়ুয়া, প্রশাসনিক আধিকারিক এবং বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে আবেগঘন। তানিয়া রহমতের শিক্ষকতা জীবনের শুরু এনটিপিসি হাই স্কুলে। সেখানে প্রায় ১০ বছর শিক্ষকতা করার পর ২০০৩ সালে কালিয়াচক বাবুরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি হয়ে আসেন তিনি। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি শিক্ষা ক্ষেত্রে তাঁর কাজের স্বীকৃতিও মিলেছে একাধিকবার। তিনি শিক্ষা রত্ন সম্মান-সহ বিভিন্ন পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। বুধবার সেই দীর্ঘ কর্মজীবনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক শিক্ষা) তৃপ্তি গুহ, জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বাসন্তী বর্মন, কালিয়াচক-১ ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক শিবব্রত ব্যানার্জি, যুগ্ম আধিকারিক ফয়জাল শেখ, কালিয়াচক-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দোয়েল সাহা-সহ বিভিন্ন শিক্ষক-শিক্ষিকা, পড়ুয়া, বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা। অনুষ্ঠানে বক্তারা তানিয়া রহমতের দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁর নিষ্ঠা, অভিজ্ঞতা এবং পড়ুয়াদের প্রতি দায়িত্ববোধের কথা স্মরণ করেন সহকর্মীরা। দীর্ঘদিন একই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সুবাদে পড়ুয়া ও সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, বিদায়ের মুহূর্তে তারই প্রতিফলন দেখা যায় অনুষ্ঠানে। তাঁকে সংবর্ধনা জানিয়ে ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য শুভেচ্ছা জানান উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকা, পড়ুয়া ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। কালিয়াচক বাবুরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও তাঁকে বিশেষ উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হয়। বরণপর্ব, সংবর্ধনা এবং শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য মধ্যাহ্নভোজেরও আয়োজন করা হয়েছিল। বিদ্যালয় চত্বরে এদিন সকাল থেকেই ছিল ব্যস্ততা। সহকর্মী ও আয়োজকদের তৎপরতায় শেষ কর্মদিবসটি স্মরণীয় করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ধারারা মদনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন সমাজমাধ্যমে তানিয়া রহমতের দীর্ঘ কর্মজীবনের কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে তানিয়া রহমত মালদহের হয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তাঁর সামাজিক ভূমিকার কথাও উল্লেখ করা হয়। এই বড় আয়োজন সফল করতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একাধিক শিক্ষিকা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বরণপর্ব থেকে শুরু করে অতিথি আপ্যায়ন, অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং বিভিন্ন ব্যবস্থাপনায় তাঁদের সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন আয়োজকেরা। দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের নানা অভিজ্ঞতা, সাফল্য, সহকর্মীদের সঙ্গে কাটানো সময় এবং অসংখ্য পড়ুয়ার ভালোবাসা সঙ্গে নিয়েই এবার কর্মজীবনের আনুষ্ঠানিক অধ্যায় শেষ করলেন তানিয়া রহমত। অবসর মানেই যে সম্পর্কের সমাপ্তি নয়, বিদায়ের এই আয়োজন যেন সেই কথাই মনে করিয়ে দিল। কর্মক্ষেত্র থেকে বিদায় নিলেও তাঁর শেখানো, তাঁর সঙ্গে কাটানো সময় এবং তাঁর শিক্ষকতা জীবনের নানা স্মৃতি ছাত্রছাত্রী, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মনে থেকে যাবে। কালিয়াচক বাবুরহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পর্কও তাই শুধু চাকরির সময়সীমায় আটকে থাকল না, হয়ে রইল স্মৃতির এক দীর্ঘ অধ্যায়।
০৪ অক্টোবর ২০২৬, রবিবার, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
BREAKING :
৩৩ বছরের পাঠশালা, এবার বিদায়ের ঘণ্টা, আবেগঘন সংবর্ধনায় শেষ কর্মদিবস তানিয়া রহমতের
-
নতুন গতি - আপডেট : ৩ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার
- 16
সর্বাধিক পাঠিত
নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder



















