২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কুলটিতে রেলের জমিতে চললো বুলডোজার, গৃহহীন কয়েক হাজার মানুষ

দেবজিৎ মুখার্জি, পশ্চিম বর্ধমান: আসানসোলের কুলটি থানার অন্তর্গত বরাকর বালতোড়িয়া গণেশ মেলা ময়দানে রেল জমিতে  থাকা বস্তিতে বুলডোজার চালালো রেল। মঙ্গলবারের এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে কয়েক হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় শাসক দলের নেতা এবং রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁরা বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে এই এলাকায় বাস করছি। আমরা এখানেই জন্মেছি, আমাদের প্রজন্মের অনেকেই এই জায়গাতেই মারা গেছেন। শতাধিক মাটি ও ইটের বাড়িতে আমরা হাজার হাজার মানুষ এখানে বাস করি। অথচ, একদিন আগে রেল কর্মীরা এসে আমাদের এই জায়গা খালি করে দিতে বলল। আর এদিন সকালে তারা আমাদের বাড়ির ওপর বুলডোজার চালাচ্ছে। এই প্রখর গরমে আমরা কোথায় যাব? আমাদের বাড়িতে অনেক রোগী, শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ মানুষ থাকেন। হঠাৎ করে আমরা কার বাড়িতে যাব? আমরা কোথায় থাকব? আমরা কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করব?”

তাঁদের আরও অভিযোগ, “নির্বাচনের সময়ে রাজনীতিবিদরা আমাদের বসতিতে আসতেন এবং আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে আমাদের কোথাও যেতে হবে না। কিন্তু এখন আমরা কোথায় আশ্রয় পাব? দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বরাকরে এসেছিলেন। তিনি আমাদের ভোট নিয়ে তাঁর দলের সরকার গঠন করেছেন। কিন্তু আজ আমরা গৃহহীন হয়ে পড়ছি। আমাদের পুনর্বাসনের কোনো আশ্বাস দেওয়া হয়নি। কোন কিছু নির্ধারণ করা হয়নি। তারা আরো বলেন, আমরা আমাদের নিজেদের দেশেই গৃহহীন হয়ে পড়ছি। আমরা অনুরোধ করছি সরকারকে আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করুন। আমরা এখানে অনেক বছর ধরে বসবাস করছি।”

বুলডোজার চালানোর খবর পেয়ে কুলটি বিধানসভা থেকে কংগ্রেস প্রার্থী রবি যাদব ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। যে মানুষদের ভোট সরকার নিয়েছে, তাদের নিয়ে আজ এভাবে খেলা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত শাসক দলের  নেতারা এই মানুষদের ভালোমন্দ জানতে আসেননি বা কোনো আশ্বাসও দেননি। এখানে ৪০০র বেশি পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। এটা এখানকার মানুষের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের উপর সরাসরি আক্রমণ। আমরা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে সম্পূর্ণ আবাসন, যথাযথ বিকল্প ব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচার দাবি করছি। আমি সরকারকে অনুরোধ করছি এখানকার মানুষের প্রতি যেন কোনো অবিচার না করা হয়।”

সর্বাধিক পাঠিত

জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের শতভাগ বাস্তবায়নে বীরভূমের খয়রাশোলে মেগা পর্যালোচনা বৈঠকে বিধায়ক সহ আধিকারিকেরা –

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

কুলটিতে রেলের জমিতে চললো বুলডোজার, গৃহহীন কয়েক হাজার মানুষ

আপডেট : ২০ মে ২০২৬, বুধবার

দেবজিৎ মুখার্জি, পশ্চিম বর্ধমান: আসানসোলের কুলটি থানার অন্তর্গত বরাকর বালতোড়িয়া গণেশ মেলা ময়দানে রেল জমিতে  থাকা বস্তিতে বুলডোজার চালালো রেল। মঙ্গলবারের এই ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে কয়েক হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েন।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় শাসক দলের নেতা এবং রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁরা বলেন, “আমরা বহু বছর ধরে এই এলাকায় বাস করছি। আমরা এখানেই জন্মেছি, আমাদের প্রজন্মের অনেকেই এই জায়গাতেই মারা গেছেন। শতাধিক মাটি ও ইটের বাড়িতে আমরা হাজার হাজার মানুষ এখানে বাস করি। অথচ, একদিন আগে রেল কর্মীরা এসে আমাদের এই জায়গা খালি করে দিতে বলল। আর এদিন সকালে তারা আমাদের বাড়ির ওপর বুলডোজার চালাচ্ছে। এই প্রখর গরমে আমরা কোথায় যাব? আমাদের বাড়িতে অনেক রোগী, শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ মানুষ থাকেন। হঠাৎ করে আমরা কার বাড়িতে যাব? আমরা কোথায় থাকব? আমরা কীভাবে জীবিকা নির্বাহ করব?”

তাঁদের আরও অভিযোগ, “নির্বাচনের সময়ে রাজনীতিবিদরা আমাদের বসতিতে আসতেন এবং আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে আমাদের কোথাও যেতে হবে না। কিন্তু এখন আমরা কোথায় আশ্রয় পাব? দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বরাকরে এসেছিলেন। তিনি আমাদের ভোট নিয়ে তাঁর দলের সরকার গঠন করেছেন। কিন্তু আজ আমরা গৃহহীন হয়ে পড়ছি। আমাদের পুনর্বাসনের কোনো আশ্বাস দেওয়া হয়নি। কোন কিছু নির্ধারণ করা হয়নি। তারা আরো বলেন, আমরা আমাদের নিজেদের দেশেই গৃহহীন হয়ে পড়ছি। আমরা অনুরোধ করছি সরকারকে আমাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করুন। আমরা এখানে অনেক বছর ধরে বসবাস করছি।”

বুলডোজার চালানোর খবর পেয়ে কুলটি বিধানসভা থেকে কংগ্রেস প্রার্থী রবি যাদব ঘটনাস্থলে আসেন। তিনি বলেন, “এই ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। যে মানুষদের ভোট সরকার নিয়েছে, তাদের নিয়ে আজ এভাবে খেলা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত শাসক দলের  নেতারা এই মানুষদের ভালোমন্দ জানতে আসেননি বা কোনো আশ্বাসও দেননি। এখানে ৪০০র বেশি পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। এটা এখানকার মানুষের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের উপর সরাসরি আক্রমণ। আমরা প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে সম্পূর্ণ আবাসন, যথাযথ বিকল্প ব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচার দাবি করছি। আমি সরকারকে অনুরোধ করছি এখানকার মানুষের প্রতি যেন কোনো অবিচার না করা হয়।”