২৭ মে ২০২৬, বুধবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
২৭ মে ২০২৬, বুধবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ভারতে সাপেদের গ্রামের কথা শুনলে চমকে উঠতে হয়

আনজুম মুনির: গ্রীষ্ম পেরিয়ে বর্ষার দিকে এগোনো যায় যত, ততই সাপের ভয় বাড়ে। বাড়ির কোন আনাচ-কানাচে যে ঢুকে বসে থাকতে পারে বিষধর সাপ, সামান্য ভুলচুকে ছোবল বসাতে পারে, সে ভয় তাড়িয়ে বেড়ায় গৃহস্থকে। সাপের বিষের চিকিৎসা থাকলেও, মুখের সামনেই যদি ফণা তুলে দাঁড়ায় ভয়াবহ এক সাপ, কারই বা ভয় করবে না?

কিন্তু যদি বলি এমন এক গ্রামের গল্প, যেখানে ভয় তো দূরের কথা, নিশ্চিন্তে সহাবস্থান করে সাপ ও মানুষেরা, তবে কি বিশ্বাস করবেন? এ কোনও সিনেমার গল্প নয়। একেবারে জলজ্যান্ত বাস্তব। বাইরের বিশ্বের কাছে তা আজগুবি লাগলেও, এই গল্প যাঁদের নিয়ে, তাঁদের কাছে দিনের আলোর মতো স্বাভাবিক।

মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলার শেতফল গ্রামের। স্থানীয়রা একে ‘সাপেদের গ্রাম’ বলেই চেনে। সাপেদের যে ভয় পাওয়া যেতে পারে, তা বুঝি জানাই নেই গ্রামের মানুষের। কুকুর-বিড়ালের মতোই সহজভাবে গ্রামজুড়ে বাস করে ভয়ানক বিষধর সাপ। স্বয়ং গোখরো সাপেদের আস্তানা এই গ্রাম, যাদের ফণা দেখলে বুকের রক্ত হিম হয়ে যাবে, তাদেরকেই রীতিমতো আদর-যত্ন করে থাকতে দেয় শেতফলবাসী। এখানকার প্রত্যেক গৃহস্থ বাড়িতেই নাকি সাপেদের বিশ্রামের জন্য আলাদা করে বরাদ্দ করা থাকে নির্দিষ্ট স্থান। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই গ্রামের মানুষ সাপের সঙ্গেই বেড়ে ওঠে বলে তাদের গতিপ্রকৃতিকে বোঝে অন্তর দিয়ে। ফলে সহাবস্থানে কোনও অসুবিধা হয় না।

অনুব্রতর নিচুপট্টির বাড়িতে নেই কোনো নিরাপত্তারক্ষি

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ভারতে সাপেদের গ্রামের কথা শুনলে চমকে উঠতে হয়

আপডেট : ২৭ মে ২০২৬, বুধবার

আনজুম মুনির: গ্রীষ্ম পেরিয়ে বর্ষার দিকে এগোনো যায় যত, ততই সাপের ভয় বাড়ে। বাড়ির কোন আনাচ-কানাচে যে ঢুকে বসে থাকতে পারে বিষধর সাপ, সামান্য ভুলচুকে ছোবল বসাতে পারে, সে ভয় তাড়িয়ে বেড়ায় গৃহস্থকে। সাপের বিষের চিকিৎসা থাকলেও, মুখের সামনেই যদি ফণা তুলে দাঁড়ায় ভয়াবহ এক সাপ, কারই বা ভয় করবে না?

কিন্তু যদি বলি এমন এক গ্রামের গল্প, যেখানে ভয় তো দূরের কথা, নিশ্চিন্তে সহাবস্থান করে সাপ ও মানুষেরা, তবে কি বিশ্বাস করবেন? এ কোনও সিনেমার গল্প নয়। একেবারে জলজ্যান্ত বাস্তব। বাইরের বিশ্বের কাছে তা আজগুবি লাগলেও, এই গল্প যাঁদের নিয়ে, তাঁদের কাছে দিনের আলোর মতো স্বাভাবিক।

মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলার শেতফল গ্রামের। স্থানীয়রা একে ‘সাপেদের গ্রাম’ বলেই চেনে। সাপেদের যে ভয় পাওয়া যেতে পারে, তা বুঝি জানাই নেই গ্রামের মানুষের। কুকুর-বিড়ালের মতোই সহজভাবে গ্রামজুড়ে বাস করে ভয়ানক বিষধর সাপ। স্বয়ং গোখরো সাপেদের আস্তানা এই গ্রাম, যাদের ফণা দেখলে বুকের রক্ত হিম হয়ে যাবে, তাদেরকেই রীতিমতো আদর-যত্ন করে থাকতে দেয় শেতফলবাসী। এখানকার প্রত্যেক গৃহস্থ বাড়িতেই নাকি সাপেদের বিশ্রামের জন্য আলাদা করে বরাদ্দ করা থাকে নির্দিষ্ট স্থান। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এই গ্রামের মানুষ সাপের সঙ্গেই বেড়ে ওঠে বলে তাদের গতিপ্রকৃতিকে বোঝে অন্তর দিয়ে। ফলে সহাবস্থানে কোনও অসুবিধা হয় না।