১৩ জুন ২০২৬, শনিবার, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
১৩ জুন ২০২৬, শনিবার, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হরিশ্চন্দ্রপুরে গান্ধীজীর সার্ধ শতবর্ষ পালন

 

হরিশ্চন্দ্রপুর,৭ ফেব্রুয়ারি,মহ: নাজিম আক্তার:
“অহিংসাই পরম ধর্ম। সম্পূর্ণ ভাবে গ্রহণ করা সম্ভব না হলে, আমাদের অন্তত এর ধারণাকে গ্রহণ করা উচিত এবং মানুষ হিসেবে হিংসা থেকে সংযত থাকা।”এই গান্ধীজীর নীতিবাক্যকে সামনে রেখে ও তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শুক্রবার সারাদিন ব্যাপী মহাত্মা গান্ধীর ১৫০ তম জন্মজয়ন্তী যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করা হল হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নং চক্রের ব্লক তথ্য মিত্র কেন্দ্রে।

গান্ধীজীর ছবিতে মাল্যদান ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হরিশ্চন্দ্রপুর-১ চক্রের এস আই শর্মিলা ঘোষ, মহকুমা শাসক সব্যসাচী রায়, ব্লক আধিকারিক অনির্বাণ বসু সহ সার্কেলের একচল্লিশটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাগণ।

সার্ধশতবর্ষের এদিনের অনুষ্ঠানে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নং চক্রের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মত।

এস আই শর্মিলা ঘোষ বলেন ‘গান্ধীজির কিছুটা হলেও সঠিক মূল্যায়ণ করতে পেরেছিলেন ব্রিটিশরা। ভারতীয়রা এই মহান মানুষটিকে প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে তার জন্মদিন পালন করে থাকে।
তিনি আরো বলেন,’মহাত্মা গান্ধীর মূল রাজনৈতিক দর্শন ছিল অহিংসা আন্দোলন। তিনি সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। দেশের জন্য তাঁর ত্যাগ ও ভালোবাসা, স্বাধীনতা ও উন্নয়নের জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম ও সুদৃঢ় জাতীয়তাবাদ এই মানুষটিকে মহামানবে পরিণত করেছে।’

ভবানীপুর-বাংরুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নন্দিনী দাস বলেন,’মহাত্মা গান্ধী ছিলেন মানবতার প্রতীক। তাঁকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়নি৷ কিন্তু শান্তি পুরস্কার না পেলেও বিশ্বে শান্তির কথা এলে প্রথমে আসে মহাত্মা গান্ধীর নাম।’

রশিদাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মহম্মদ মিজানুর হক বলেন,মহাত্মা গান্ধী নিজে যেমন সাধারণ মানুষ ছিলেন, তাঁর বার্তাগুলো ছিল তেমনি সহজ। তবে আজকের মতো ওই আমলে ফেসবুক, টুইটার বা মুঠোফোনে এসএমএস (খুদে বার্তা) ছিল না। তিনি রেলের তৃতীয় শ্রেণির যাত্রী হয়ে নিজের বার্তা নিজেই প্রচার করেছেন।’

এদিন অনুষ্ঠিত হয় আবৃত্তি, গান, অঙ্কন, কুইজ ও গান্ধীজীর জীবন ও আদর্শের উপর নাটক “ইউনিটি ইন ডাইভারসিটি’। নাটকটি মঞ্চস্থ করেন পিপলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে পড়ুয়ারা। নাটকটির সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন সেই বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষক অভয় চক্রবর্তী।

বিচারকের ভূমিকায় ছিলেন মহম্মদ মিজানুর হক ও অনুষ্ঠানটির সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন খেজুর বাড়ি ধুমসা ডাঙ্গি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষক মনোজ চক্রবর্তী। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী পড়ুয়াদের বই পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানের সবশেষে সকল শিক্ষকদের মধ্যে ‘ইন্টারনেট সহজলভ্যতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যুব সমাজ’ বিষয়ের উপর বিতর্ক অনুষ্ঠান।

সর্বাধিক পাঠিত

অস্ট্রেলিয়ান ওপেন: সেমিফাইনালে উঠলেন সিন্ধু, কোয়ার্টার ফাইনালে ইয়ামাগুচির কাছে হারলেন তানভি

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

হরিশ্চন্দ্রপুরে গান্ধীজীর সার্ধ শতবর্ষ পালন

আপডেট : ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০, শুক্রবার

 

হরিশ্চন্দ্রপুর,৭ ফেব্রুয়ারি,মহ: নাজিম আক্তার:
“অহিংসাই পরম ধর্ম। সম্পূর্ণ ভাবে গ্রহণ করা সম্ভব না হলে, আমাদের অন্তত এর ধারণাকে গ্রহণ করা উচিত এবং মানুষ হিসেবে হিংসা থেকে সংযত থাকা।”এই গান্ধীজীর নীতিবাক্যকে সামনে রেখে ও তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শুক্রবার সারাদিন ব্যাপী মহাত্মা গান্ধীর ১৫০ তম জন্মজয়ন্তী যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করা হল হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নং চক্রের ব্লক তথ্য মিত্র কেন্দ্রে।

গান্ধীজীর ছবিতে মাল্যদান ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়।

এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হরিশ্চন্দ্রপুর-১ চক্রের এস আই শর্মিলা ঘোষ, মহকুমা শাসক সব্যসাচী রায়, ব্লক আধিকারিক অনির্বাণ বসু সহ সার্কেলের একচল্লিশটা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকাগণ।

সার্ধশতবর্ষের এদিনের অনুষ্ঠানে হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নং চক্রের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মত।

এস আই শর্মিলা ঘোষ বলেন ‘গান্ধীজির কিছুটা হলেও সঠিক মূল্যায়ণ করতে পেরেছিলেন ব্রিটিশরা। ভারতীয়রা এই মহান মানুষটিকে প্রতিবছর যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে তার জন্মদিন পালন করে থাকে।
তিনি আরো বলেন,’মহাত্মা গান্ধীর মূল রাজনৈতিক দর্শন ছিল অহিংসা আন্দোলন। তিনি সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। দেশের জন্য তাঁর ত্যাগ ও ভালোবাসা, স্বাধীনতা ও উন্নয়নের জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম ও সুদৃঢ় জাতীয়তাবাদ এই মানুষটিকে মহামানবে পরিণত করেছে।’

ভবানীপুর-বাংরুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নন্দিনী দাস বলেন,’মহাত্মা গান্ধী ছিলেন মানবতার প্রতীক। তাঁকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়নি৷ কিন্তু শান্তি পুরস্কার না পেলেও বিশ্বে শান্তির কথা এলে প্রথমে আসে মহাত্মা গান্ধীর নাম।’

রশিদাবাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মহম্মদ মিজানুর হক বলেন,মহাত্মা গান্ধী নিজে যেমন সাধারণ মানুষ ছিলেন, তাঁর বার্তাগুলো ছিল তেমনি সহজ। তবে আজকের মতো ওই আমলে ফেসবুক, টুইটার বা মুঠোফোনে এসএমএস (খুদে বার্তা) ছিল না। তিনি রেলের তৃতীয় শ্রেণির যাত্রী হয়ে নিজের বার্তা নিজেই প্রচার করেছেন।’

এদিন অনুষ্ঠিত হয় আবৃত্তি, গান, অঙ্কন, কুইজ ও গান্ধীজীর জীবন ও আদর্শের উপর নাটক “ইউনিটি ইন ডাইভারসিটি’। নাটকটি মঞ্চস্থ করেন পিপলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্ষুদে পড়ুয়ারা। নাটকটির সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন সেই বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষক অভয় চক্রবর্তী।

বিচারকের ভূমিকায় ছিলেন মহম্মদ মিজানুর হক ও অনুষ্ঠানটির সঞ্চালকের ভূমিকায় ছিলেন খেজুর বাড়ি ধুমসা ডাঙ্গি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহ শিক্ষক মনোজ চক্রবর্তী। প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী পড়ুয়াদের বই পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানের সবশেষে সকল শিক্ষকদের মধ্যে ‘ইন্টারনেট সহজলভ্যতায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যুব সমাজ’ বিষয়ের উপর বিতর্ক অনুষ্ঠান।