২৭ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
২৭ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

ছেলধরা ও কিডনি পাচারকারী সন্দেহে যুবককে গণধোলাই

  • নতুন গতি
  • আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, মঙ্গলবার
  • 9

নিজস্ব প্রতিনিধি; পূর্ব মেদিনীপুর:

ছেলেধরা গুজবের জেরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় আবারও ঘটল গণধোলাই কাণ্ড। এক বছর চল্লিশের ভবঘুরেকে রীতিমতো বেধড়ক গণধোলাই দিল তমলুক থানার চনসরপুর গ্রামবাসীরা। ঘটনার সূত্রপাত, তমলুক-পাঁশকুড়া রাজ্য সড়কে তেতুলতলার কাছে এই ভবঘুরেকে পাকড়াও করে স্থানীয়রা।এরপর ভবঘুরের মুখে তার বাড়ি উত্তরপ্রদেশ সহ অসংলগ্ন কথাবার্তা শুনেই এলাকাবাসীরা শুরু করে গণধোলাই।

উত্তেজিত জনতা তাকে একাধিক প্রশ্ন করলেও, সেসব প্রশ্নের কোনও উত্তর দিতে পারছিল না সে। এরপরেই তাকে একটি বাড়ির গ্রিলে পেছন দিক করে বেঁধে আবার শুরু হয় গণধোলাই।

নির্মমভাবে শারীরিক অত্যাচারের জেরে ওই ব্যক্তির তখন প্রাণ ওষ্ঠাগত অবস্থা। এমনকি, তার কথাও বুঝতে পারছে না কেউ।

হঠাৎই ওই ভবঘুরেকে পরের কিছু মুহূর্তের মধ্যেই ছেলেধরা ও কিডনি পাচারকারী ধরা পড়েছে বলে প্রচার শুরু করেন একদল গ্রামবাসী। ব্যাস, তারপরে পুনরায় শুরু হয়ে যায় গণধোলাই। প্রায় ঘন্টাখানেক ধরে চলতে থাকে নির্মম অত্যাচার। এরপর স্থানীয় মারফত খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে তমলুক থানার পুলিশ। দফায় দফায় গণধোলাইয়ে গুরুতর আহত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে তমলুক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

তবে এই ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি। প্রসঙ্গত, গত ২০১৮ সালের ১৬ জুন একই ভাবে তমলুকের মাথুরি উত্তরপল্লীতে ছেলেধরা সন্দেহে এইভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল এক যুবককে। পরে অবশ্য জানা যায় ওই যুবক ছিল তমলুকেরই ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা, নাম সঞ্জয় চন্দ্র(৩৬)। ঘটনার দিন সে কাজের যোগাযোগের জন্য এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাতের জন্য গিয়েছিল। দ্বিতীয়ত গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি এই জেলারই দুর্গাচক থানা এলাকার ভাগ্যবন্তপুরে কেবলমাত্র সন্দেহের বশেই গণধোলাইয়ের পর অসুস্থ অবস্থায় এক যুবককে ভর্তি হতে হয়েছিল হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে।

এছাড়াও, গত কয়েকদিনে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়ে একে একে এই ধরণের গুজবের জেরে বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে মারধর ও হেনস্থা করার মত ঘটনা ঘটেছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভবঘুরেদেরকেই এই ধরণের গণধোলাইয়ের শিকার হচ্ছেন। জেলাবাসীরা চাইছেন প্রশাসন কড়া হাতে এই সমস্যার মোকাবিলা না নিলে, এই ঘটনা অব্যাহত থাকবে এবং এক্ষেত্রে বড়সড় অঘটনও ঘটতে পারে।

ইভিএম বিতর্কে উত্তপ্ত খয়রাশোল, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জখম জওয়ান, গ্রেপ্তার ৩

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ছেলধরা ও কিডনি পাচারকারী সন্দেহে যুবককে গণধোলাই

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, মঙ্গলবার

নিজস্ব প্রতিনিধি; পূর্ব মেদিনীপুর:

ছেলেধরা গুজবের জেরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় আবারও ঘটল গণধোলাই কাণ্ড। এক বছর চল্লিশের ভবঘুরেকে রীতিমতো বেধড়ক গণধোলাই দিল তমলুক থানার চনসরপুর গ্রামবাসীরা। ঘটনার সূত্রপাত, তমলুক-পাঁশকুড়া রাজ্য সড়কে তেতুলতলার কাছে এই ভবঘুরেকে পাকড়াও করে স্থানীয়রা।এরপর ভবঘুরের মুখে তার বাড়ি উত্তরপ্রদেশ সহ অসংলগ্ন কথাবার্তা শুনেই এলাকাবাসীরা শুরু করে গণধোলাই।

উত্তেজিত জনতা তাকে একাধিক প্রশ্ন করলেও, সেসব প্রশ্নের কোনও উত্তর দিতে পারছিল না সে। এরপরেই তাকে একটি বাড়ির গ্রিলে পেছন দিক করে বেঁধে আবার শুরু হয় গণধোলাই।

নির্মমভাবে শারীরিক অত্যাচারের জেরে ওই ব্যক্তির তখন প্রাণ ওষ্ঠাগত অবস্থা। এমনকি, তার কথাও বুঝতে পারছে না কেউ।

হঠাৎই ওই ভবঘুরেকে পরের কিছু মুহূর্তের মধ্যেই ছেলেধরা ও কিডনি পাচারকারী ধরা পড়েছে বলে প্রচার শুরু করেন একদল গ্রামবাসী। ব্যাস, তারপরে পুনরায় শুরু হয়ে যায় গণধোলাই। প্রায় ঘন্টাখানেক ধরে চলতে থাকে নির্মম অত্যাচার। এরপর স্থানীয় মারফত খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে তমলুক থানার পুলিশ। দফায় দফায় গণধোলাইয়ে গুরুতর আহত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে তমলুক জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

তবে এই ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি। প্রসঙ্গত, গত ২০১৮ সালের ১৬ জুন একই ভাবে তমলুকের মাথুরি উত্তরপল্লীতে ছেলেধরা সন্দেহে এইভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল এক যুবককে। পরে অবশ্য জানা যায় ওই যুবক ছিল তমলুকেরই ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা, নাম সঞ্জয় চন্দ্র(৩৬)। ঘটনার দিন সে কাজের যোগাযোগের জন্য এক ব্যক্তির সাথে সাক্ষাতের জন্য গিয়েছিল। দ্বিতীয়ত গত ১৫ই ফেব্রুয়ারি এই জেলারই দুর্গাচক থানা এলাকার ভাগ্যবন্তপুরে কেবলমাত্র সন্দেহের বশেই গণধোলাইয়ের পর অসুস্থ অবস্থায় এক যুবককে ভর্তি হতে হয়েছিল হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে।

এছাড়াও, গত কয়েকদিনে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা জুড়ে একে একে এই ধরণের গুজবের জেরে বিভিন্ন জায়গায় মানুষকে মারধর ও হেনস্থা করার মত ঘটনা ঘটেছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভবঘুরেদেরকেই এই ধরণের গণধোলাইয়ের শিকার হচ্ছেন। জেলাবাসীরা চাইছেন প্রশাসন কড়া হাতে এই সমস্যার মোকাবিলা না নিলে, এই ঘটনা অব্যাহত থাকবে এবং এক্ষেত্রে বড়সড় অঘটনও ঘটতে পারে।