১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
১৮ এপ্রিল ২০২৬, শনিবার, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

ব্যালট ও চারাগাছে সেতুবন্ধন: বীরভূমে সবুজ সংকল্পে গণতন্ত্রের প্রস্তুতি

 

 

খান আরশাদ, বীরভূম :

রাঙামাটির লাল ধুলোয় এবার শুধু ভোটের প্রচার নয়, মিশলো আগামীর অক্সিজেনও। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বীরভূম জেলা প্রশাসন বেছে নিল এক অনন্য পথ_ যেখানে পরিবেশ চেতনা আর গণতান্ত্রিক অধিকার মিলেমিশে একাকার। রবিবাসরীয়তে জেলার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের ৫৫টি বুথে পালিত হলো এক অভিনব ‘সুইপ’ (SVEEP) কর্মসূচি। উদ্দেশ্য একটাই_ বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ভোটারদের মনের জড়তা কাটিয়ে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রেখে বুথমুখী করা।

সবুজায়নে ভোটার সচেতনতা: এদিন ঘড়ির কাঁটায় ঠিক ১১টা। বীরভূমের ১৯টি ব্লকের নির্ধারিত বুথগুলোতে চলল চারাগাছ রোপণের মহোৎসব। নির্বাচন কমিশনের এই বিশেষ উদ্যোগের লক্ষ্য মূলত সেই সব বুথ, যেখানে বিগত নির্বাচনগুলোতে ভোটদানের হার ছিল বেশ কম। চারাগাছ রোপণের সমান্তরালে সেখানে চলল ভোটদানের আবশ্যিকতা নিয়ে প্রচার। বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) উপস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে বোঝানো হলো, একটি গাছ যেমন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অক্সিজেন জোগায়, একটি সুচিন্তিত ভোট ঠিক তেমনই সুস্থ গণতন্ত্রের অক্সিজেন।

নবীন ও নবীন প্রজন্মের ঘটল সহাবস্থান। এদিনের কর্মসূচির রাজপথ থেকে গলি_ সর্বত্রই দেখা গেল প্রজন্মের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। কোথাও অশীতিপর বৃদ্ধ রোপণ করলেন আগামীর মহীরুহ, কোথাও আবার প্রথমবারের ভোটারদের উচ্ছ্বসিত অংশগ্রহণ মনে করিয়ে দিল নতুন ভারতের সংকল্পের কথা। পড়ুয়াদের কলকাকলিতে মুখর বুথ চত্বরগুলো যেন এক একটি সামাজিক সচেতনতার পাঠশালায় পরিণত হল এদিন।

সিউড়ি থেকে রামপুরহাট কিংবা শান্তিনিকেতনের প্রান্তিক এলাকা— সর্বত্রই এদিন ধ্বনিত হয়েছে নিরপেক্ষতার সুর। বৃক্ষরোপণ শেষে ভোটাররা সমস্বরে শপথ গ্রহণ করেন। কোনো ভয় বা প্রলোভন নয়, বরং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই যে গণতন্ত্রের শিকড় মজবুত হয়, সেই বার্তাই ছিল এদিনের মূল উপজীব্য।

আগামী ২৩শে এপ্রিল বীরভূমের নির্বাচনী মহারণ। তার আগে প্রশাসনের এই ‘সবুজ প্রচার’ ভোটারদের মনে কতটা সাহস ও উদ্দীপনা জোগাতে পারে, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল। তবে রবিবারের এই কর্মসূচি যে বীরভূমের জনমানসে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

প্রশাসনের আশা, আজকের এই ‘সবুজ বার্তা’ নির্বাচনের দিন বুথমুখী মানুষের ভিড়ে এক ইতিবাচক প্রতিফলন ঘটাবে।

এই কর্মসূচির মাধ্যমেই নেওয়া হল শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অঙ্গীকার।

 

 

মেমারীতে ছবির প্রিমিয়ার শোতে অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়।

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ব্যালট ও চারাগাছে সেতুবন্ধন: বীরভূমে সবুজ সংকল্পে গণতন্ত্রের প্রস্তুতি

আপডেট : ১২ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার

 

 

খান আরশাদ, বীরভূম :

রাঙামাটির লাল ধুলোয় এবার শুধু ভোটের প্রচার নয়, মিশলো আগামীর অক্সিজেনও। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে বীরভূম জেলা প্রশাসন বেছে নিল এক অনন্য পথ_ যেখানে পরিবেশ চেতনা আর গণতান্ত্রিক অধিকার মিলেমিশে একাকার। রবিবাসরীয়তে জেলার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের ৫৫টি বুথে পালিত হলো এক অভিনব ‘সুইপ’ (SVEEP) কর্মসূচি। উদ্দেশ্য একটাই_ বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ভোটারদের মনের জড়তা কাটিয়ে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রেখে বুথমুখী করা।

সবুজায়নে ভোটার সচেতনতা: এদিন ঘড়ির কাঁটায় ঠিক ১১টা। বীরভূমের ১৯টি ব্লকের নির্ধারিত বুথগুলোতে চলল চারাগাছ রোপণের মহোৎসব। নির্বাচন কমিশনের এই বিশেষ উদ্যোগের লক্ষ্য মূলত সেই সব বুথ, যেখানে বিগত নির্বাচনগুলোতে ভোটদানের হার ছিল বেশ কম। চারাগাছ রোপণের সমান্তরালে সেখানে চলল ভোটদানের আবশ্যিকতা নিয়ে প্রচার। বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) উপস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে বোঝানো হলো, একটি গাছ যেমন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অক্সিজেন জোগায়, একটি সুচিন্তিত ভোট ঠিক তেমনই সুস্থ গণতন্ত্রের অক্সিজেন।

নবীন ও নবীন প্রজন্মের ঘটল সহাবস্থান। এদিনের কর্মসূচির রাজপথ থেকে গলি_ সর্বত্রই দেখা গেল প্রজন্মের এক অপূর্ব মেলবন্ধন। কোথাও অশীতিপর বৃদ্ধ রোপণ করলেন আগামীর মহীরুহ, কোথাও আবার প্রথমবারের ভোটারদের উচ্ছ্বসিত অংশগ্রহণ মনে করিয়ে দিল নতুন ভারতের সংকল্পের কথা। পড়ুয়াদের কলকাকলিতে মুখর বুথ চত্বরগুলো যেন এক একটি সামাজিক সচেতনতার পাঠশালায় পরিণত হল এদিন।

সিউড়ি থেকে রামপুরহাট কিংবা শান্তিনিকেতনের প্রান্তিক এলাকা— সর্বত্রই এদিন ধ্বনিত হয়েছে নিরপেক্ষতার সুর। বৃক্ষরোপণ শেষে ভোটাররা সমস্বরে শপথ গ্রহণ করেন। কোনো ভয় বা প্রলোভন নয়, বরং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমেই যে গণতন্ত্রের শিকড় মজবুত হয়, সেই বার্তাই ছিল এদিনের মূল উপজীব্য।

আগামী ২৩শে এপ্রিল বীরভূমের নির্বাচনী মহারণ। তার আগে প্রশাসনের এই ‘সবুজ প্রচার’ ভোটারদের মনে কতটা সাহস ও উদ্দীপনা জোগাতে পারে, সেদিকেই নজর রাখছে রাজনৈতিক মহল। তবে রবিবারের এই কর্মসূচি যে বীরভূমের জনমানসে এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে, তা বলাই বাহুল্য।

প্রশাসনের আশা, আজকের এই ‘সবুজ বার্তা’ নির্বাচনের দিন বুথমুখী মানুষের ভিড়ে এক ইতিবাচক প্রতিফলন ঘটাবে।

এই কর্মসূচির মাধ্যমেই নেওয়া হল শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের অঙ্গীকার।