২৭ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
২৭ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

১৯৪৭ সালের যুদ্ধে শহিদ হয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার উসমান খান তার সমাধি সংস্কার করছেন সেনা

নতুন গতি ওয়েব ডেস্ক: প্রতিবেদকঃ১৯৪৭-৪৮ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় প্রথম সারির অফিসার ব্রিগেডিয়ার মুহাম্মদ উসমানের কবর সংস্কার করে দিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। দক্ষিণ দিল্লির জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়ার নিকটে বাটলা হাউস কাবরস্থানের ভিআইপি বিভাগে সাদা মার্বেল পাথরের কবরটি অবস্থিত রয়েছে। কিন্তু কবরটি ওই অঞ্চলের দুর্বৃত্তদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

গত মঙ্গলবার ভারতীয় সেনাবাহিনী কবরটি মেরামত করার অনুমতি চেয়ে চিঠি দেয় জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়াকে। রেকর্ডের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে একটি চিঠি চেয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠানো হয়। সেনাবাহিনীর একজন প্রবীণ কর্মকর্তা বলেন, কবরটি আমরা মেরামত করে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর ব্রিগেডিয়ার উসমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার সমাধিতে সংশ্লিষ্ট সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। কিন্তু এই বছর মহামারির করোনা ভাইরাসের কারণে পুষ্পস্তবক অর্পণ হয়নি। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কবরস্থানের মালিকানাধীন এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে। এর মেরামতের জন্য নিহতের পরিবার দায়িত্বে রয়েছে। কিন্তু সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রতি বছরই কবর ও তার আশপাশের জায়গা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা মঙ্গলবার কবরটি তদন্ত করতে এসেছিলেন। সউদি আরবে বসবাসরত ব্রিগেডিয়ার উসমানের নাতনি মির ফিরোজউদ্দিন বলেন, সমাধির ভাঙচুরের খবর প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেভাবে মেরামত করা হল তা খুবই অনুপ্রেরণামূলক এবং ইতিবাচক।

১৯৪৭ সালের যুদ্ধে শহিদ হয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার উসমান খান। দেশভাগের সময় পাকিস্তান তাঁকে নিজের দেশের সেনাপ্রধান নিয়োগ করতে চেয়েছিল। তিনি যাননি। নিজের জন্মভূমিতেই থেকে গিয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাক যুদ্ধে শহিদ হয়েছিলেন বহু বীর। তাঁদের মধ্যে পদমর্যাদার নিরিখে সর্বোচ্চ ছিলেন উসমানই।মৃত্যুর পর ভারত সরকার তাঁকে মহাবীর চক্রে সম্মানিত করেন।

জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়ার কাছে সমাধিস্থ করা হয় উসমানকে। সেই ‘নৌসেরার শের’-এর কবরই ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। কবরের ওপর লেখা ছিল শহিদের বীরগাঁথা। তাঁর জীবন, কাজ,কেন তাঁকে জাতীয় বীরের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, লেখা ছিল সব। সেই সবই ভেঙে আগাছা গজিয়েছিল।

খবর প্রকাশ্যে আসতেই কবর মেরামত করে ভারতীয় সেনা। এপিথেটের পাথরও সারানো হয়েছে। চারপাশে লাল পাথরেও রং করা হয়েছে। পাবলিক ইনফর্মেশন বিভাগের অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল জানালেন, ‘উসমান জাতীয় বীর ছিলেন। আমরা কবর মেরামতে দ্রুত পদক্ষেপ করেছি।’ জামিয়ার সহায়তায় কবর মেরামত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ইভিএম বিতর্কে উত্তপ্ত খয়রাশোল, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জখম জওয়ান, গ্রেপ্তার ৩

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

১৯৪৭ সালের যুদ্ধে শহিদ হয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার উসমান খান তার সমাধি সংস্কার করছেন সেনা

আপডেট : ২ জানুয়ারী ২০২১, শনিবার

নতুন গতি ওয়েব ডেস্ক: প্রতিবেদকঃ১৯৪৭-৪৮ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় প্রথম সারির অফিসার ব্রিগেডিয়ার মুহাম্মদ উসমানের কবর সংস্কার করে দিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। দক্ষিণ দিল্লির জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়ার নিকটে বাটলা হাউস কাবরস্থানের ভিআইপি বিভাগে সাদা মার্বেল পাথরের কবরটি অবস্থিত রয়েছে। কিন্তু কবরটি ওই অঞ্চলের দুর্বৃত্তদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

গত মঙ্গলবার ভারতীয় সেনাবাহিনী কবরটি মেরামত করার অনুমতি চেয়ে চিঠি দেয় জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়াকে। রেকর্ডের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে একটি চিঠি চেয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ইতিমধ্যেই চিঠি পাঠানো হয়। সেনাবাহিনীর একজন প্রবীণ কর্মকর্তা বলেন, কবরটি আমরা মেরামত করে দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছর ব্রিগেডিয়ার উসমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার সমাধিতে সংশ্লিষ্ট সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। কিন্তু এই বছর মহামারির করোনা ভাইরাসের কারণে পুষ্পস্তবক অর্পণ হয়নি। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কবরস্থানের মালিকানাধীন এবং এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে। এর মেরামতের জন্য নিহতের পরিবার দায়িত্বে রয়েছে। কিন্তু সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রতি বছরই কবর ও তার আশপাশের জায়গা পরিষ্কার করে দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা মঙ্গলবার কবরটি তদন্ত করতে এসেছিলেন। সউদি আরবে বসবাসরত ব্রিগেডিয়ার উসমানের নাতনি মির ফিরোজউদ্দিন বলেন, সমাধির ভাঙচুরের খবর প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যেভাবে মেরামত করা হল তা খুবই অনুপ্রেরণামূলক এবং ইতিবাচক।

১৯৪৭ সালের যুদ্ধে শহিদ হয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার উসমান খান। দেশভাগের সময় পাকিস্তান তাঁকে নিজের দেশের সেনাপ্রধান নিয়োগ করতে চেয়েছিল। তিনি যাননি। নিজের জন্মভূমিতেই থেকে গিয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাক যুদ্ধে শহিদ হয়েছিলেন বহু বীর। তাঁদের মধ্যে পদমর্যাদার নিরিখে সর্বোচ্চ ছিলেন উসমানই।মৃত্যুর পর ভারত সরকার তাঁকে মহাবীর চক্রে সম্মানিত করেন।

জামিয়া মিল্লিয়া ইসলামিয়ার কাছে সমাধিস্থ করা হয় উসমানকে। সেই ‘নৌসেরার শের’-এর কবরই ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। কবরের ওপর লেখা ছিল শহিদের বীরগাঁথা। তাঁর জীবন, কাজ,কেন তাঁকে জাতীয় বীরের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, লেখা ছিল সব। সেই সবই ভেঙে আগাছা গজিয়েছিল।

খবর প্রকাশ্যে আসতেই কবর মেরামত করে ভারতীয় সেনা। এপিথেটের পাথরও সারানো হয়েছে। চারপাশে লাল পাথরেও রং করা হয়েছে। পাবলিক ইনফর্মেশন বিভাগের অতিরিক্ত ডিরেক্টর জেনারেল জানালেন, ‘উসমান জাতীয় বীর ছিলেন। আমরা কবর মেরামতে দ্রুত পদক্ষেপ করেছি।’ জামিয়ার সহায়তায় কবর মেরামত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।