২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

“পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক নিয়োগের অভিজ্ঞতা ভয়ঙ্কর” মাদ্রাসা নিয়োগ প্রসঙ্গে বললেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি

আনজুম মুনীর: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি যে সর্বকালের সমস্ত দুর্নীতিকে ছাপিয়ে গেছে, তা সকলেই জানেন। এবার প্রসঙ্গ মাদ্রাসায় নিয়োগ। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহের বেঞ্চ জানতে চায়, “নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি কি নেওয়া হয়েছিল? ⁠হাজারো মাদ্রাসা রয়েছে। রাজ‍্যে সবার পরিচালন কমিটি নিজের মতো নিয়োগ করবে, আর সরকার তার টাকা মেটাবে?” নিয়োগকারীদের নিয়ে প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালত বলে, “⁠কারা নিয়োগকারী? তাঁদের কি যোগ্যতা রয়েছে?” মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চের বক্তব্য, গত এক দশকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ভয়ঙ্কর। পাশাপাশি তাদের পর্যবেক্ষণ, মাদ্রাসা রুল মেনে মাদ্রাসার পরিচালন কমিটি গঠন হয়নি।

তৃণমূল সরকারের আমলে প্রধানত ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মাদ্রাসাগুলিতে প্রচুর শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ হয়েছিল, যা করেছিল সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলির পরিচালন কমিটি। অভিযোগ ওঠে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে ‘ওয়াক-ইন-ইন্টারভিউ’-র মাধ্যমে নিয়োগ হয়। মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।

সেই মামলারই শুনানিতে এদিন শীর্ষ আদালত মাদ্রাসাগুলির পরিচালন কমিটি ও বিগত তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে। এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহের তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, “গত ১০ বছরে পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা ভয়ঙ্কর। মাদ্রাসা রুল মেনে মাদ্রাসার পরিচালন কমিটি গঠন হয়নি।” এরপরই ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, “কীভাবে পরিচালন কমিটি নিয়োগ করার দায়িত্ব নিতে পারে? মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন যখন কার্যকর নয়, তখন নিয়ম অনুযায়ী স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ হওয়া উচিত। কীভাবে পরিচালন কমিটি নিয়োগ করতে পারে? হাইকোর্ট কি এই ব্যাপারে কোনও নির্দেশ দিয়েছে?”

সর্বাধিক পাঠিত

জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের শতভাগ বাস্তবায়নে বীরভূমের খয়রাশোলে মেগা পর্যালোচনা বৈঠকে বিধায়ক সহ আধিকারিকেরা –

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

“পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষক নিয়োগের অভিজ্ঞতা ভয়ঙ্কর” মাদ্রাসা নিয়োগ প্রসঙ্গে বললেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি

আপডেট : ২০ মে ২০২৬, বুধবার

আনজুম মুনীর: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি যে সর্বকালের সমস্ত দুর্নীতিকে ছাপিয়ে গেছে, তা সকলেই জানেন। এবার প্রসঙ্গ মাদ্রাসায় নিয়োগ। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহের বেঞ্চ জানতে চায়, “নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি কি নেওয়া হয়েছিল? ⁠হাজারো মাদ্রাসা রয়েছে। রাজ‍্যে সবার পরিচালন কমিটি নিজের মতো নিয়োগ করবে, আর সরকার তার টাকা মেটাবে?” নিয়োগকারীদের নিয়ে প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালত বলে, “⁠কারা নিয়োগকারী? তাঁদের কি যোগ্যতা রয়েছে?” মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহের বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চের বক্তব্য, গত এক দশকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ভয়ঙ্কর। পাশাপাশি তাদের পর্যবেক্ষণ, মাদ্রাসা রুল মেনে মাদ্রাসার পরিচালন কমিটি গঠন হয়নি।

তৃণমূল সরকারের আমলে প্রধানত ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সালের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় মাদ্রাসাগুলিতে প্রচুর শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ হয়েছিল, যা করেছিল সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলির পরিচালন কমিটি। অভিযোগ ওঠে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে ‘ওয়াক-ইন-ইন্টারভিউ’-র মাধ্যমে নিয়োগ হয়। মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।

সেই মামলারই শুনানিতে এদিন শীর্ষ আদালত মাদ্রাসাগুলির পরিচালন কমিটি ও বিগত তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করে। এদিন মামলার শুনানিতে বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহের তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, “গত ১০ বছরে পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা ভয়ঙ্কর। মাদ্রাসা রুল মেনে মাদ্রাসার পরিচালন কমিটি গঠন হয়নি।” এরপরই ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, “কীভাবে পরিচালন কমিটি নিয়োগ করার দায়িত্ব নিতে পারে? মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন যখন কার্যকর নয়, তখন নিয়ম অনুযায়ী স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ হওয়া উচিত। কীভাবে পরিচালন কমিটি নিয়োগ করতে পারে? হাইকোর্ট কি এই ব্যাপারে কোনও নির্দেশ দিয়েছে?”