২৩ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
২৩ জুন ২০২৬, মঙ্গলবার, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

রেল মানচিত্রে এবার বীরভূমের সীমান্তবর্তী অঞ্চল রাজনগর

  • নতুন গতি
  • আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার
  • 31

 

 

 

 

খান আরশাদ, বীরভূম:
বীরভূমের সীমান্ত সংলগ্ন প্রান্তিক ব্লক রাজনগরে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এবার রেল মানচিত্রে ঠাঁই পেতে চলেছে একসময়ের বীরভূমের প্রাচীন রাজধানী রাজনগর। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা বীরভূমের ভূমিপুত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
বীরভূম জেলার পশ্চিমাংশের ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী ব্লক রাজনগর। স্বাধীনতার পর কয়েক দশক কেটে গেলেও এখনও এই জনপদ রেল পরিষেবার বাইরে। এবার সেই খরা কাটাতে তৎপরতা শুরু হলো। সিউড়ি থেকে রাজনগর হয়ে ঝাড়খণ্ডের দুমকা পর্যন্ত নতুন রেললাইন সম্প্রসারণের দাবি জানিয়ে সরাসরি রেলমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলেন বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। বুধবার এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।
বীরভূমের সদর শহর সিউড়ির খুব কাছে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও ভৌগোলিক অবস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে রাজনগর অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। বর্তমানে সিউড়ি থেকে দুমকা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ থাকলেও তা রাজনগরকে স্পর্শ করে না। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, সিউড়ি থেকে একটি শাখা লাইন রাজনগর হয়ে দুমকা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হলে গোটা এলাকার আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটবে।
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে দেখা করে একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি জমা দেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
রাজনগরের রেললাইন হলে কি কি সুবিধা হবে?
ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে অগ্রগতি:
রাজনগর ও সংলগ্ন অঞ্চলের পাথর শিল্প এবং কৃষি পণ্যের পরিবহনে এই রেললাইন বিশেষ ভূমিকা নেবে।
সীমান্তবর্তী উন্নয়ন:
ঝাড়খণ্ড ও বাংলার সংযোগস্থল হিসেবে এই পথে রেল চললে দুই রাজ্যের মানুষের যাতায়াতে সময় কমবে।
পর্যটন ও শিক্ষা:
বক্রেশ্বর বা সিউড়ি সংলগ্ন এলাকার মানুষ খুব সহজেই এই পথে যাতায়াত করতে পারবেন।
এ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, “রাজনগর বীরভূমের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার মানুষ এখানে একটি রেলস্টেশনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আমি কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝিয়ে বলেছি। তিনি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। রেলবোর্ডের টেকনিক্যাল সার্ভে সম্পন্ন হলে আগামী দিনে আমরা একটা বড়সড় সুসংবাদ পেতে পারি।”
খুশি এলাকাবাসী:
এই খবর চাউর হতেই খুশির হাওয়া রাজনগর ব্লক জুড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, রেললাইন হলে শুধু যাতায়াত নয়, কর্মসংস্থানের এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। এলাকার ব্যবসায়ীরাও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। রেল মন্ত্রক এই প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দিলে বীরভূমের রেল মানচিত্রে যুক্ত হবে এক নতুন পালক।
এখন দেখার রেল মন্ত্রক এই প্রস্তাবিত প্রকল্পের সমীক্ষার কাজ কত দ্রুত শুরু করে।

সর্বাধিক পাঠিত

বীরভূমে ৭ লক্ষ টাকার জাল লটারির টিকিট উদ্ধার, গ্রেফতার ১

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

রেল মানচিত্রে এবার বীরভূমের সীমান্তবর্তী অঞ্চল রাজনগর

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, বৃহস্পতিবার

 

 

 

 

খান আরশাদ, বীরভূম:
বীরভূমের সীমান্ত সংলগ্ন প্রান্তিক ব্লক রাজনগরে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। জেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি মেনে এবার রেল মানচিত্রে ঠাঁই পেতে চলেছে একসময়ের বীরভূমের প্রাচীন রাজধানী রাজনগর। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা বীরভূমের ভূমিপুত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
বীরভূম জেলার পশ্চিমাংশের ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী ব্লক রাজনগর। স্বাধীনতার পর কয়েক দশক কেটে গেলেও এখনও এই জনপদ রেল পরিষেবার বাইরে। এবার সেই খরা কাটাতে তৎপরতা শুরু হলো। সিউড়ি থেকে রাজনগর হয়ে ঝাড়খণ্ডের দুমকা পর্যন্ত নতুন রেললাইন সম্প্রসারণের দাবি জানিয়ে সরাসরি রেলমন্ত্রীর দ্বারস্থ হলেন বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। বুধবার এ বিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।
বীরভূমের সদর শহর সিউড়ির খুব কাছে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও ভৌগোলিক অবস্থান এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে রাজনগর অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। বর্তমানে সিউড়ি থেকে দুমকা পর্যন্ত রেল যোগাযোগ থাকলেও তা রাজনগরকে স্পর্শ করে না। জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের প্রস্তাব অনুযায়ী, সিউড়ি থেকে একটি শাখা লাইন রাজনগর হয়ে দুমকা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হলে গোটা এলাকার আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটবে।
সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে দেখা করে একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি জমা দেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
রাজনগরের রেললাইন হলে কি কি সুবিধা হবে?
ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে অগ্রগতি:
রাজনগর ও সংলগ্ন অঞ্চলের পাথর শিল্প এবং কৃষি পণ্যের পরিবহনে এই রেললাইন বিশেষ ভূমিকা নেবে।
সীমান্তবর্তী উন্নয়ন:
ঝাড়খণ্ড ও বাংলার সংযোগস্থল হিসেবে এই পথে রেল চললে দুই রাজ্যের মানুষের যাতায়াতে সময় কমবে।
পর্যটন ও শিক্ষা:
বক্রেশ্বর বা সিউড়ি সংলগ্ন এলাকার মানুষ খুব সহজেই এই পথে যাতায়াত করতে পারবেন।
এ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমকে জানান, “রাজনগর বীরভূমের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। দীর্ঘদিন ধরেই এলাকার মানুষ এখানে একটি রেলস্টেশনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। আমি কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝিয়ে বলেছি। তিনি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। রেলবোর্ডের টেকনিক্যাল সার্ভে সম্পন্ন হলে আগামী দিনে আমরা একটা বড়সড় সুসংবাদ পেতে পারি।”
খুশি এলাকাবাসী:
এই খবর চাউর হতেই খুশির হাওয়া রাজনগর ব্লক জুড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, রেললাইন হলে শুধু যাতায়াত নয়, কর্মসংস্থানের এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে। এলাকার ব্যবসায়ীরাও এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। রেল মন্ত্রক এই প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দিলে বীরভূমের রেল মানচিত্রে যুক্ত হবে এক নতুন পালক।
এখন দেখার রেল মন্ত্রক এই প্রস্তাবিত প্রকল্পের সমীক্ষার কাজ কত দ্রুত শুরু করে।