২১ জুন ২০২৬, রবিবার, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩
২১ জুন ২০২৬, রবিবার, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩

চালতা ফরেস্ট ও রোমতি নদী এলাকায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা, বেড়ে চলেছে পর্যটকদের ঝুঁকিপূর্ণ ভিড়

বিশেশ্বর রায়, ক্রান্তি: মাল ব্লকের ওদলাবাড়ি সংলগ্ন চালতা ফরেস্ট এলাকায় বন দপ্তরের জারি করা নিষেধাজ্ঞা কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত দুই বছর ধরে বন দপ্তরের পক্ষ থেকে এই এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, এই জঙ্গল এলাকায় নিয়মিত বুনো হাতির আনাগোনা দেখা যায়, যা যেকোনো মুহূর্তে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চালতা ফরেস্টের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রোমতি নদীতেও হাতির দল মাঝেমধ্যেই জল খেতে নামে। ফলে ওই এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বন দপ্তর। এই কারণেই বন দপ্তরের পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড বসিয়ে স্পষ্টভাবে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এখনও বহু মানুষ ওই এলাকায় প্রবেশ করছেন।

অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্ষা মরসুমে পাহাড়ি নদীগুলিতে নামা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ, এই সময় হঠাৎ করে হড়পা বান বা আকস্মিক জলস্রোতের কারণে বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু সেই নির্দেশও মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

শুক্রবার দেখা যায়, বাইরে থেকে আগত বহু পর্যটক, বিশেষ করে যুবক-যুবতীরা দলে দলে চালতা ফরেস্ট এলাকায় প্রবেশ করেন এবং রোমতি নদীর তীরে ঘোরাফেরা করেন। শুধু তাই নয়, নদীর মধ্যে নেমে সেলফি ও ভিডিও তোলার প্রবণতাও দেখা যায়, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন ও বন দপ্তর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে যেমন বুনো হাতির আকস্মিক আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে বর্ষাকালে পাহাড়ি নদীতে হড়পা বান খুব দ্রুত আসতে পারে। ফলে সামান্য অসাবধানতাও বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বন দপ্তর ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কতা জারি করা হলেও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, এখনই ওই এলাকায় আরও কঠোর টহলদারি ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রেললাইনের পাশে পড়ে যুবক, আত্মহত্যার চেষ্টা নাকি দুর্ঘটনা? ধোঁয়াশায় বামনহাট

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

চালতা ফরেস্ট ও রোমতি নদী এলাকায় নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা, বেড়ে চলেছে পর্যটকদের ঝুঁকিপূর্ণ ভিড়

আপডেট : ২১ জুন ২০২৬, রবিবার

বিশেশ্বর রায়, ক্রান্তি: মাল ব্লকের ওদলাবাড়ি সংলগ্ন চালতা ফরেস্ট এলাকায় বন দপ্তরের জারি করা নিষেধাজ্ঞা কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গত দুই বছর ধরে বন দপ্তরের পক্ষ থেকে এই এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, এই জঙ্গল এলাকায় নিয়মিত বুনো হাতির আনাগোনা দেখা যায়, যা যেকোনো মুহূর্তে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চালতা ফরেস্টের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া রোমতি নদীতেও হাতির দল মাঝেমধ্যেই জল খেতে নামে। ফলে ওই এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বন দপ্তর। এই কারণেই বন দপ্তরের পক্ষ থেকে সাইনবোর্ড বসিয়ে স্পষ্টভাবে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এখনও বহু মানুষ ওই এলাকায় প্রবেশ করছেন।

অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বর্ষা মরসুমে পাহাড়ি নদীগুলিতে নামা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কারণ, এই সময় হঠাৎ করে হড়পা বান বা আকস্মিক জলস্রোতের কারণে বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু সেই নির্দেশও মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

শুক্রবার দেখা যায়, বাইরে থেকে আগত বহু পর্যটক, বিশেষ করে যুবক-যুবতীরা দলে দলে চালতা ফরেস্ট এলাকায় প্রবেশ করেন এবং রোমতি নদীর তীরে ঘোরাফেরা করেন। শুধু তাই নয়, নদীর মধ্যে নেমে সেলফি ও ভিডিও তোলার প্রবণতাও দেখা যায়, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন ও বন দপ্তর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একদিকে যেমন বুনো হাতির আকস্মিক আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে, অন্যদিকে বর্ষাকালে পাহাড়ি নদীতে হড়পা বান খুব দ্রুত আসতে পারে। ফলে সামান্য অসাবধানতাও বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বন দপ্তর ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্কতা জারি করা হলেও পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, এখনই ওই এলাকায় আরও কঠোর টহলদারি ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।