২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

নিজামুদ্দিনের ঘটনায় গোটা সম্প্রদায়কে দোষারোপ করা উচিত না সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত

 

নিজস্ব সংবাদদাতা: এতদিন পর মুখ খুললেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত। অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষ্যেএক কর্মী সভায় ভাষণ দিতে গিয়েএদিন তিনি বলেন, কিছু মানুষের জন্য করোনা সংক্রমণ হয়ে থাকলেও নিজামুদ্দিন মারকাজকে কেন্দ্র করে গোটা সম্প্রদায়কে দোষারোপ করা কখনই উচিত নয়। এভাবে দেশের মধ্যে সম্প্রদায়গত বিদ্বেষ ছড়ানো হলে তাতে দেশের ক্ষতি। দেশের বিরোধী যে সমস্ত শক্তি দেশকে দুর্বল করতে চায়, একমাত্র তারাই এভাবে কথা বলেন। তিনি বলেন,, “আমরা সকলেই ভারতের সন্তান। কারও ভুলের জন্য আমরা গোটা সম্প্রদায়কে দায়ী করতে পারি না। মনে রাখতে হবে কিছু ভারত-বিরোধী শক্তি ওই বিভেদকে কাজে লাগিয়ে দেশে ভাঙন ধরাতে তৎপর রয়েছে।’’।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সভাপতি এ কথা বলবার পর কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আর কোনো কথাই বলা হয়নি। এতদিন মোদি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল দেশে করণা রোগ ছড়িয়ে পড়ার পিছনে এক-চতুর্থাংশ তাইনা নিজামুদ্দিন মারকাজে অংশগ্রহনকারী জামাত সদস্যরা।

সংঘ প্রধান ভাগবতের এদিনের ভাষণে ছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুর। নাগপুরে আর এস এস এর সদর দপ্তর কর্মীদের উদ্দেশ্যে ভাষণে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে মহারাষ্ট্রে দুই সাধুকে যেভাবে পিটিয়ে মারা হলো সেটা দেশের পক্ষে কলঙ্কজনক। তিনি স্থানীয় মানুষকে এবং প্রশাসনকে জন্য দায়ী করেছেন, কিন্তু একবারের জন্যও মুসলিম বিরোধী কোনো মন্তব্য করেননি।  হিন্দুত্বের রাজনীতির প্রধান মুখপাত্র হয়েও এদিন তিনি এতদিন ধরে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেন।

এতদিন বিজেপি নেতারা করোনা সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সরাসরি নিজামুদ্দিন মারকাজ এ জামাত সদস্যদের বিরুদ্ধে একটানা বিষোদগার করে চলেছিলেন। মহারাষ্ট্রের পালঘরের ঘটনাতে   সরাসরি কোনরকম তদন্তের আগে মুসলমানদের প্ররোচনায় এটা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। সদস্য সমর্থকরাও বিভিন্ন মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি মুসলিম বিরোধী মন্তব্য করে  সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন বলে বিভিন্ন মানুষ অভিযোগ করেছিলেন। এদিন সেই প্রশ্নের উত্তরে মোহন ভাগবত বলেন,’ আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্ব প্রশাসনের। কেউ যদি ভুল করে থাকে তার দায়িত্ব কোনদিন কোন গোটা সম্প্রদায় হতে পারে না।’ তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সকল ভেদাভেদ শ্রেণী বৈষম্য ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বার্থে সকলকে লড়াই করতে হবে।

তথ্যসূত্র বার্তা সাম্প্রতিক

সিউড়িতে ধর্ষণ অভিযোগে বিজেপি নেতা গ্রেফতার, চাঞ্চল্য বীরভূমে

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

নিজামুদ্দিনের ঘটনায় গোটা সম্প্রদায়কে দোষারোপ করা উচিত না সঙ্ঘপ্রধান মোহন ভাগবত

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২০, মঙ্গলবার

 

নিজস্ব সংবাদদাতা: এতদিন পর মুখ খুললেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের প্রধান মোহন ভাগবত। অক্ষয় তৃতীয়া উপলক্ষ্যেএক কর্মী সভায় ভাষণ দিতে গিয়েএদিন তিনি বলেন, কিছু মানুষের জন্য করোনা সংক্রমণ হয়ে থাকলেও নিজামুদ্দিন মারকাজকে কেন্দ্র করে গোটা সম্প্রদায়কে দোষারোপ করা কখনই উচিত নয়। এভাবে দেশের মধ্যে সম্প্রদায়গত বিদ্বেষ ছড়ানো হলে তাতে দেশের ক্ষতি। দেশের বিরোধী যে সমস্ত শক্তি দেশকে দুর্বল করতে চায়, একমাত্র তারাই এভাবে কথা বলেন। তিনি বলেন,, “আমরা সকলেই ভারতের সন্তান। কারও ভুলের জন্য আমরা গোটা সম্প্রদায়কে দায়ী করতে পারি না। মনে রাখতে হবে কিছু ভারত-বিরোধী শক্তি ওই বিভেদকে কাজে লাগিয়ে দেশে ভাঙন ধরাতে তৎপর রয়েছে।’’।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সভাপতি এ কথা বলবার পর কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আর কোনো কথাই বলা হয়নি। এতদিন মোদি সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছিল দেশে করণা রোগ ছড়িয়ে পড়ার পিছনে এক-চতুর্থাংশ তাইনা নিজামুদ্দিন মারকাজে অংশগ্রহনকারী জামাত সদস্যরা।

সংঘ প্রধান ভাগবতের এদিনের ভাষণে ছিল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুর। নাগপুরে আর এস এস এর সদর দপ্তর কর্মীদের উদ্দেশ্যে ভাষণে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে মহারাষ্ট্রে দুই সাধুকে যেভাবে পিটিয়ে মারা হলো সেটা দেশের পক্ষে কলঙ্কজনক। তিনি স্থানীয় মানুষকে এবং প্রশাসনকে জন্য দায়ী করেছেন, কিন্তু একবারের জন্যও মুসলিম বিরোধী কোনো মন্তব্য করেননি।  হিন্দুত্বের রাজনীতির প্রধান মুখপাত্র হয়েও এদিন তিনি এতদিন ধরে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেন।

এতদিন বিজেপি নেতারা করোনা সন্ত্রাস ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সরাসরি নিজামুদ্দিন মারকাজ এ জামাত সদস্যদের বিরুদ্ধে একটানা বিষোদগার করে চলেছিলেন। মহারাষ্ট্রের পালঘরের ঘটনাতে   সরাসরি কোনরকম তদন্তের আগে মুসলমানদের প্ররোচনায় এটা হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল। সদস্য সমর্থকরাও বিভিন্ন মিডিয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি মুসলিম বিরোধী মন্তব্য করে  সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন বলে বিভিন্ন মানুষ অভিযোগ করেছিলেন। এদিন সেই প্রশ্নের উত্তরে মোহন ভাগবত বলেন,’ আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করার দায়িত্ব প্রশাসনের। কেউ যদি ভুল করে থাকে তার দায়িত্ব কোনদিন কোন গোটা সম্প্রদায় হতে পারে না।’ তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সকল ভেদাভেদ শ্রেণী বৈষম্য ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বার্থে সকলকে লড়াই করতে হবে।

তথ্যসূত্র বার্তা সাম্প্রতিক