বেশ কয়েক মাসের রসদ সঙ্গে নিয়েই দিল্লির দরবারে উপস্থিত বিক্ষোভকারীরা সঙ্গে ওষুধ, অ্যাম্বুল্যান্স
নতুন গতি ডিজিটাল ডেস্ক : দাবি আদায়ের লড়াইয়ে সময় লাগতে পারে অনেক। তার উপর রয়েছে করোনা এবং উত্তর ভারতের কড়া শীত। এ সব কথা মাথায় রেখেই বেশ কয়েক মাসের রসদ সঙ্গে নিয়েই দিল্লির দরবারে উপস্থিত বিক্ষোভকারীরা।
কৃষকদের বিক্ষোভ সপ্তম দিনে পড়েছে। বিজ্ঞানভবনে এক দফা আলোচনাও হয়েছে সরকারের সঙ্গে। কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে নয়া ৩ কৃষি আইন প্রত্যাহারে নারাজ কেন্দ্র। উল্টো দিকে অনড় কৃষকরাও। টানাপড়েন যে আরও কত দিন চলবে তার নিশ্চয়তা নেই। তাই আগেভাগে পরিকল্পনা করে খাবার, জল, বালিশ, বিছানা, কম্বল, ত্রিপল, ওষুধ, অ্যাম্বুল্যান্স— এ সব গুছিয়ে নিয়েই পথে নেমে পড়েছেন পঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড-সহ বেশ কয়েকটি রাজ্যের কৃষকরা।
হরিয়ানার কুরুক্ষেত্র থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে দেশের রাজধানীতে এ যেন আর এক ‘কুরুক্ষেত্র’। বিশাল সেনাবাহিনী নিয়ে রাজা-মহারাজাদের অভিযান। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে দীর্ঘ কাল ধরে সীমানা অবরুদ্ধ করে রাখার কৌশল। এমন সব অভিযানে সঙ্গে থাকত প্রচুর খাবারদাবার, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং নিত্য প্রয়োজনীয় অন্য জিনিসপত্রও। ইতিহাসে এমন বর্ণনা মেলে বিস্তর। কয়েকশো কিলোমিটার রাস্তা পেরিয়ে কৃষকদের ‘দিল্লি চলো’ অভিযানেও ঠিক যেন সেই ছবি। হরিয়ানা-দিল্লির সিঙ্ঘু সীমানায় জিটি কার্নাল রোডের পাশে সাজানো বিক্ষোভকারীদের একের পর এক শিবির।
বিক্ষোভকারী কৃষকদের জন্য খোলা হয়েছে লঙ্গরখানা।

দাঁত মাজার ব্রাশ, মাজন থেকে শুরু করে খাবার, পানীয় জল, ওষুধ বা ঘুমনোর জন্য প্রয়োজনীয় কম্বল, বিছানা— সবই মজুত কৃষকদের ট্রাক্টরে। জামাকাপড় কাচার জন্য রয়েছে ডিটারজেন্ট এবং সাবান। তা শুকনোর জন্য সার দিয়ে দাঁড় করানো ট্রাক্টরে বাঁধা হয়েছে দড়ি। এক ঝলকে দেখলে মনে হবে রাজপথের পাশেই নতুন কোনও জনপদ।
সকালে ঘুম ভাঙার পর বিক্ষোভকারীদের হাতে হাতে চা, ক্ষীর ইত্যাদি সরবরাহ করছে খালসা এড ফাউন্ডেশন। দেওয়া হচ্ছে মিনারেল ওয়াটারের বোতলও। ফাউন্ডেশনের অধিকর্তা অমরপ্রীত সিংহ বলছেন, ‘‘খাবার ছাড়াও মহিলাদের জন্য আমরা ২০টি মোবাইল শৌচাগার বসিয়েছি। কৃষকরা এখানে দিনরাত বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। আমরা চাই না ওঁরা কোনও অসুবিধার সম্মুখীন হোন।’’
যেমন পঞ্জাবের কপূরথালা থেকে একদল কৃষক দিল্লি পৌঁছেছেন অ্যাম্বুল্যান্স নিয়ে। সঙ্গে রয়েছে বিপুল পরিমাণ ওষুধপত্রও। দিল্লির সীমানায় যেখানে অবরোধ চলছে, সেই সিঙ্ঘু এলাকায় খোলা হয়েছে স্বাস্থ্যশিবির। তার পরিচালক অবতার সিংহ ওয়ালিয়া বলছেন, ‘‘চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা দেখা দিলে কী করতে হবে সে জন্য আমাদের সঙ্গে রয়েছেন চিকিৎসকও। আমরা কৃষকদের কাপড়ের মাস্ক বিলি করছি। এখানে অনেক লঙ্গরখানাও খোলা হয়েছে।’’
বিজ্ঞানভবনে মঙ্গলবার কৃষক সংগঠনগুলির ৩৫ জনের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিংহ তোমর, কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল এবং শিল্প প্রতিমন্ত্রী সোম প্রকাশ। কিন্তু প্রথম দফার সেই আলোচনা ব্যর্থ। এ দিন বৈঠকের পর কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘‘আলোচনা চলবে। আমি কৃষকদের বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। আমরা ৩ ডিসেম্বর ফের আলোচনায় বসব। বিক্ষোভে ইতি টানার জন্য কৃষকদের কাছে আবেদন করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।’’ কিন্তু তাতে রণে ভঙ্গ দেননি আন্দোলনকারীরা।
কিন্তু এ ভাবে কত দিন? কত দিনের রসদ মজুত রয়েছে ভাঁড়ারে? আন্দোলনকারীদের একটি শিবিরের পরিচালকরা বলছেন, তাঁদের সঙ্গে রয়েছে অন্তত ৬ মাসের খাবারদাবার এবং অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।
কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে আটক শাহিনবাগের ‘দাদি’ বিলকিস।
নতুন গতি 




























