২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

তিন তালাক, পরকীয়া ও সমকামিতা এবং মসজিদকে লক্ষ্য করে অনুষ্ঠিত হলো এক বিশাল জনসভা।

মোহাঃ কামরুজ্জামান। কালিয়াচক, মালদা। নতুন গতি :

“তিন তালাক,পরকীয়া ও সমকামিতা এবং নামাজের জন্য মসজিদ বাধ্যতামূলক নয়” এসবের ব্যাপারে আমাদের মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিলো তাকে লক্ষ্য করে এক জনসভার আয়োজন করে জামাতে ইসলামী হিন্দ। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় কালিয়াচক থানার শেরশাহী লক্ষীপুর সিনিয়র মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে। সভায় উপস্থিত ছিলেন বহু গুনিধর শিক্ষাবিদ্গণ। উপস্থিত ছিলেন পিস টিভির প্রবক্তা এবং বিশিষ্ট শিক্ষক ও লেখক মৌলানা বদরুদ্দোজা নদভী সাহেব, রাজ্য শরয়ী পঞ্চায়েতের সম্পাদক মুফতি মাওলানা তাহেরুল হক সাহেব, জামাতে ইসলামী হিন্দের জেলা নাজিম মোহাঃ জিল্লুর রহমান সাহেব, মহিলা সভা নেত্রী জয়নব আরা বেগম, ইঞ্জিনিয়ার নুরুল ইসলাম এবং উপস্থিত ছিলেন সমাজের আরো বিশিষ্ট সুশীল শিক্ষাবিদ্গণ।

সভায় পুরুষ ও মহিলাদের সমাগম ছিলো নজর কাড়ার মতো। শহর এবং গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসে হাজার হাজার মানুষ

উক্ত সভায় বহু মান্য গণ্য ব্যক্তি গণ বক্তব্য রাখেন। মৌলানা বদরুদ্দোজা সাহেব বক্তব্য দিতে গেলেন যে, সুপ্রিম কোর্ট বলেছে স্বামী যদি স্ত্রীকে কোনো কারণে তালাক দেয় তবে স্বামীর তিন বছরের জন্য জেলে যেতে হবে। আর তার(স্ত্রীর) ভরণপোষণের খরচ তার গৃহস্থালি থেকে দিতে হবে। তালাক সম্পর্কে তিনি আরও বলেন তালাক শুধু মুখে মুখস্থ ভাবে তালাক দিয়ে দিলেই তালাক হয়ে যায় না। তালাক দিতে হলে অনেক নিয়মাবলী অনুসরণ করতে হবে। তাতে অনেক কিছু নিয়ম রয়েছে। কিন্তু যাইহোক এই রায় ঘোষণা ইসলাম ধর্মের উপর আঘাত করা বা হস্তক্ষেপ করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

পরকীয়া ব্যাপারে তিনি বলেন পরকীয়া হচ্ছে একটা নোংরামী ব্যাধি যা নিজ পরিবারের জন্য আপনি রাতদিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করেন। যাতে আপনি আপনার স্ত্রীর ভালোবাসা আপ্লুত হবেন বলে, আপনার সুখের সংসার হবে বলে। কিন্তু সেটা না হয়ে আপনি কাজ থেকে এসে দেখবেন বাড়িতে স্ত্রী অন্য কারো সঙ্গে কুকর্মে লিপ্ত রয়েছে। আর তার প্রতিবাদ করার আপনার কোনো ক্ষমতা থাকবে না। অথচ আপনাকে মুখ বন্ধ করে দিয়েছে এই সুপ্রিম কোর্ট। আপনার বাড়িতে যে বাচ্চাটি জন্ম নেবে সে কার বীর্যের বাচ্চা আছে আপনি নিশ্চিত হতে পারছেন না। কিন্তু সেই বাচ্চাটিকে নিজ কষ্টের উপার্জনে মানুষ করতে হবে। তাই আপনার ঘর যে বাচ্চাটি ভুমিষ্ট হবে সেই বাচ্চা হবে জারজ বাচ্চা।

মসজিদ সম্পর্কে তিনি বলেন মসজিদ হলো এক পবিত্র ধর্মস্থান। মসজিদ হলো মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে ধর্ম পালন করার একমাত্র ধর্মস্থান। প্রত্যেক ধর্মেরই ধর্মস্থান রয়েছে। তবে সব বাদ দিয়ে মুসলিমদের ধর্মস্থানে কেন হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। আমাদের দেশ ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ হয়েও কেন এক ধর্মকে লক্ষ্য করে তার উপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে? মসজিদ হলো আল্লাহকে স্মরণ করার জায়গা। এখানে তোমরা আর অন্য কাউকে শরিক করিও না।

জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ করে বলেন যে, আপনারা মাজহাবী লা মাজহাবী না করে ফিরকাবাজি না করে নিরপেক্ষ ভাবে এইসব নোংরামীর বিরুদ্ধে জেগে উঠুন এবং গর্জে উঠুন। আমরা যে কোনো অবস্থায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ব প্রতিবাদ করবো গর্জে উঠবো। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্যায়কে মুছে দেওয়ার জন্য সোচ্চার হবো। আমরা ভারতের মহামান্য কোর্টকে নির্দিষ্ট করে কোনো এক ধর্মের উপর হস্তক্ষেপ করতে দেবো না। সে ধর্ম হিন্দু,মুসলিম এবং খ্রিস্টান যাই হোক না কেন।

জামাতের একজন বিশিষ্ট সভানেত্রী জয়নব আরা বলেন যে, সুপ্রিম কোর্টের রায় তালাক এবং পরকীয়া নারী জাতীর প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে নয় আসলে তাদের ন্যায্য অধিকারকে কেড়ে নেওয়া এবং অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।

অবশেষে জেলা নাজিম জিল্লুর রহমান সাহেব বলেন যে, বিশেষ করে বর্তমানে দেশে মুসলিম এবং দলিতদের উপর নির্মম ভাবে অত্যাচার দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। তার প্রতিকার আমরা চাই। আমরা নিজেদের অধিকার, হোক বা প্রাপ্য সঠিকভাবে যেন পাই। এটাই আমাদের দাবি।

সিউড়িতে ধর্ষণ অভিযোগে বিজেপি নেতা গ্রেফতার, চাঞ্চল্য বীরভূমে

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

তিন তালাক, পরকীয়া ও সমকামিতা এবং মসজিদকে লক্ষ্য করে অনুষ্ঠিত হলো এক বিশাল জনসভা।

আপডেট : ২৯ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার

মোহাঃ কামরুজ্জামান। কালিয়াচক, মালদা। নতুন গতি :

“তিন তালাক,পরকীয়া ও সমকামিতা এবং নামাজের জন্য মসজিদ বাধ্যতামূলক নয়” এসবের ব্যাপারে আমাদের মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছিলো তাকে লক্ষ্য করে এক জনসভার আয়োজন করে জামাতে ইসলামী হিন্দ। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় কালিয়াচক থানার শেরশাহী লক্ষীপুর সিনিয়র মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে। সভায় উপস্থিত ছিলেন বহু গুনিধর শিক্ষাবিদ্গণ। উপস্থিত ছিলেন পিস টিভির প্রবক্তা এবং বিশিষ্ট শিক্ষক ও লেখক মৌলানা বদরুদ্দোজা নদভী সাহেব, রাজ্য শরয়ী পঞ্চায়েতের সম্পাদক মুফতি মাওলানা তাহেরুল হক সাহেব, জামাতে ইসলামী হিন্দের জেলা নাজিম মোহাঃ জিল্লুর রহমান সাহেব, মহিলা সভা নেত্রী জয়নব আরা বেগম, ইঞ্জিনিয়ার নুরুল ইসলাম এবং উপস্থিত ছিলেন সমাজের আরো বিশিষ্ট সুশীল শিক্ষাবিদ্গণ।

সভায় পুরুষ ও মহিলাদের সমাগম ছিলো নজর কাড়ার মতো। শহর এবং গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসে হাজার হাজার মানুষ

উক্ত সভায় বহু মান্য গণ্য ব্যক্তি গণ বক্তব্য রাখেন। মৌলানা বদরুদ্দোজা সাহেব বক্তব্য দিতে গেলেন যে, সুপ্রিম কোর্ট বলেছে স্বামী যদি স্ত্রীকে কোনো কারণে তালাক দেয় তবে স্বামীর তিন বছরের জন্য জেলে যেতে হবে। আর তার(স্ত্রীর) ভরণপোষণের খরচ তার গৃহস্থালি থেকে দিতে হবে। তালাক সম্পর্কে তিনি আরও বলেন তালাক শুধু মুখে মুখস্থ ভাবে তালাক দিয়ে দিলেই তালাক হয়ে যায় না। তালাক দিতে হলে অনেক নিয়মাবলী অনুসরণ করতে হবে। তাতে অনেক কিছু নিয়ম রয়েছে। কিন্তু যাইহোক এই রায় ঘোষণা ইসলাম ধর্মের উপর আঘাত করা বা হস্তক্ষেপ করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

পরকীয়া ব্যাপারে তিনি বলেন পরকীয়া হচ্ছে একটা নোংরামী ব্যাধি যা নিজ পরিবারের জন্য আপনি রাতদিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করেন। যাতে আপনি আপনার স্ত্রীর ভালোবাসা আপ্লুত হবেন বলে, আপনার সুখের সংসার হবে বলে। কিন্তু সেটা না হয়ে আপনি কাজ থেকে এসে দেখবেন বাড়িতে স্ত্রী অন্য কারো সঙ্গে কুকর্মে লিপ্ত রয়েছে। আর তার প্রতিবাদ করার আপনার কোনো ক্ষমতা থাকবে না। অথচ আপনাকে মুখ বন্ধ করে দিয়েছে এই সুপ্রিম কোর্ট। আপনার বাড়িতে যে বাচ্চাটি জন্ম নেবে সে কার বীর্যের বাচ্চা আছে আপনি নিশ্চিত হতে পারছেন না। কিন্তু সেই বাচ্চাটিকে নিজ কষ্টের উপার্জনে মানুষ করতে হবে। তাই আপনার ঘর যে বাচ্চাটি ভুমিষ্ট হবে সেই বাচ্চা হবে জারজ বাচ্চা।

মসজিদ সম্পর্কে তিনি বলেন মসজিদ হলো এক পবিত্র ধর্মস্থান। মসজিদ হলো মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ ভাবে ধর্ম পালন করার একমাত্র ধর্মস্থান। প্রত্যেক ধর্মেরই ধর্মস্থান রয়েছে। তবে সব বাদ দিয়ে মুসলিমদের ধর্মস্থানে কেন হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। আমাদের দেশ ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ হয়েও কেন এক ধর্মকে লক্ষ্য করে তার উপর হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে? মসজিদ হলো আল্লাহকে স্মরণ করার জায়গা। এখানে তোমরা আর অন্য কাউকে শরিক করিও না।

জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ করে বলেন যে, আপনারা মাজহাবী লা মাজহাবী না করে ফিরকাবাজি না করে নিরপেক্ষ ভাবে এইসব নোংরামীর বিরুদ্ধে জেগে উঠুন এবং গর্জে উঠুন। আমরা যে কোনো অবস্থায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ব প্রতিবাদ করবো গর্জে উঠবো। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে অন্যায়কে মুছে দেওয়ার জন্য সোচ্চার হবো। আমরা ভারতের মহামান্য কোর্টকে নির্দিষ্ট করে কোনো এক ধর্মের উপর হস্তক্ষেপ করতে দেবো না। সে ধর্ম হিন্দু,মুসলিম এবং খ্রিস্টান যাই হোক না কেন।

জামাতের একজন বিশিষ্ট সভানেত্রী জয়নব আরা বলেন যে, সুপ্রিম কোর্টের রায় তালাক এবং পরকীয়া নারী জাতীর প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে নয় আসলে তাদের ন্যায্য অধিকারকে কেড়ে নেওয়া এবং অধিকারে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।

অবশেষে জেলা নাজিম জিল্লুর রহমান সাহেব বলেন যে, বিশেষ করে বর্তমানে দেশে মুসলিম এবং দলিতদের উপর নির্মম ভাবে অত্যাচার দিনে দিনে বেড়েই চলেছে। তার প্রতিকার আমরা চাই। আমরা নিজেদের অধিকার, হোক বা প্রাপ্য সঠিকভাবে যেন পাই। এটাই আমাদের দাবি।