০৫ জুন ২০২৬, শুক্রবার, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
০৫ জুন ২০২৬, শুক্রবার, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাড়ির জাঁকজমক নয়, অনাথ আশ্রমেই ছেলের জন্মদিন পালন; মানবিক বার্তা দিলেন জগদীশ রায়

আনজুম মুনির, কোচবিহার: বর্তমান সময়ে জন্মদিন মানেই বাড়িতে বড় আয়োজন, আলো, সাজসজ্জা আর আনন্দ অনুষ্ঠান। তবে সেই প্রচলিত ভাবনার বাইরে গিয়ে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দীর্ঘদিন শিক্ষাক্ষেত্র ও সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত জগদীশ রায়। নিজের ছেলের জন্মদিন বাড়িতে না করে তিনি পালন করলেন অনাথ শিশু, বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষদের সঙ্গে। মাথাভাঙ্গা ব্লকের অশোকবাড়ি এলাকার “জীবন গড়ি ফেরিওয়ালা অনাথ ভক্ত সেবাশ্রম”এ এদিন পালন করা হয় ছোট্ট ঋতুরাজ রায়ের জন্মদিন। প্রায় ৩০ জন অনাথ শিশু, বৃদ্ধ ও মহিলা মিলে আনন্দ ভাগ করে নেন এই বিশেষ দিনে। কেক কাটা, একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া, হাসি-আনন্দ আর ভালোবাসায় ভরে ওঠে গোটা আশ্রম।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঋতুরাজ বর্তমানে বৈরাগীর হাট সারদা শিশু তীর্থে প্রভাত শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। স্কুলের পাশেই এই আশ্রম হওয়ায় ছোট থেকেই আশ্রমের শিশু ও বৃদ্ধদের কথা শুনে এসেছে সে। বিশেষ করে মা গৌরী বর্মনের মুখে তাদের জীবনের কথা শুনেই তার মনে এই ইচ্ছে তৈরি হয় যে, নিজের জন্মদিন তাদের সঙ্গেই পালন করবে।

আর সেই ছোট্ট ইচ্ছেকেই গুরুত্ব দেন জগদীশ রায় ও তাঁর পরিবার। বাড়ির জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান বাদ দিয়ে তাঁরা ছেলের মানবিক অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে পৌঁছে যান আশ্রমে। জগদীশ রায় বলেন, “আমরা চাই ছেলে শুধু পড়াশোনা করুক তা নয়, মানুষের কষ্টও বুঝতে শিখুক। সমাজের সবার কথা ভাবতে শিখুক। ছোটবেলা থেকেই যেন তার মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ তৈরি হয়। আজ ওকে এত খুশি দেখে আমাদেরও খুব ভালো লাগছে।” এই মানবিক উদ্যোগে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আশ্রমের হেড উদ্যোক্তা পিংকি বর্মনও। তিনি ঋতুরাজকে বিশেষ স্মারক ও শুভেচ্ছা জানান এবং স্নেহভরে আশীর্বাদ করেন।

পিংকি বর্মন বলেন, “সমাজ আমাদের ভালো চোখে দেখে না। কিন্তু আমরাও ভালো কাজ করতে চাই, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। তাই এই আশ্রম গড়ে তুলেছি। আমরা ২৫ জন বৃহন্নলা মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে নিজেদের ও আশ্রমের খরচ চালাই। কিন্তু অনেকেই আমাদের এই কাজ বিশ্বাস করতে চান না।” তিনি আরও বলেন, “সমাজের আরও মানুষ যদি তাঁদের বিশেষ দিন—শিশুর জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী বা অন্য আনন্দের মুহূর্ত—আমাদের আশ্রমে এসে পালন করেন, তাহলে এখানকার অনাথ শিশু ও বৃদ্ধ মানুষগুলোও একটু আনন্দ পাবে। এতে সমাজে একটি সুন্দর মানবিক বার্তাও পৌঁছাবে।” একটি ছোট্ট জন্মদিন যেন এদিন বড় এক সামাজিক বার্তা দিয়ে গেল—আনন্দ শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, তা ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত মানবিকতা।

বাড়ির জাঁকজমক নয়, অনাথ আশ্রমেই ছেলের জন্মদিন পালন; মানবিক বার্তা দিলেন জগদীশ রায়

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বাড়ির জাঁকজমক নয়, অনাথ আশ্রমেই ছেলের জন্মদিন পালন; মানবিক বার্তা দিলেন জগদীশ রায়

আপডেট : ৪ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার

আনজুম মুনির, কোচবিহার: বর্তমান সময়ে জন্মদিন মানেই বাড়িতে বড় আয়োজন, আলো, সাজসজ্জা আর আনন্দ অনুষ্ঠান। তবে সেই প্রচলিত ভাবনার বাইরে গিয়ে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দীর্ঘদিন শিক্ষাক্ষেত্র ও সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত জগদীশ রায়। নিজের ছেলের জন্মদিন বাড়িতে না করে তিনি পালন করলেন অনাথ শিশু, বৃদ্ধ ও অসহায় মানুষদের সঙ্গে। মাথাভাঙ্গা ব্লকের অশোকবাড়ি এলাকার “জীবন গড়ি ফেরিওয়ালা অনাথ ভক্ত সেবাশ্রম”এ এদিন পালন করা হয় ছোট্ট ঋতুরাজ রায়ের জন্মদিন। প্রায় ৩০ জন অনাথ শিশু, বৃদ্ধ ও মহিলা মিলে আনন্দ ভাগ করে নেন এই বিশেষ দিনে। কেক কাটা, একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া, হাসি-আনন্দ আর ভালোবাসায় ভরে ওঠে গোটা আশ্রম।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঋতুরাজ বর্তমানে বৈরাগীর হাট সারদা শিশু তীর্থে প্রভাত শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। স্কুলের পাশেই এই আশ্রম হওয়ায় ছোট থেকেই আশ্রমের শিশু ও বৃদ্ধদের কথা শুনে এসেছে সে। বিশেষ করে মা গৌরী বর্মনের মুখে তাদের জীবনের কথা শুনেই তার মনে এই ইচ্ছে তৈরি হয় যে, নিজের জন্মদিন তাদের সঙ্গেই পালন করবে।

আর সেই ছোট্ট ইচ্ছেকেই গুরুত্ব দেন জগদীশ রায় ও তাঁর পরিবার। বাড়ির জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান বাদ দিয়ে তাঁরা ছেলের মানবিক অনুভূতিকে সম্মান জানিয়ে পৌঁছে যান আশ্রমে। জগদীশ রায় বলেন, “আমরা চাই ছেলে শুধু পড়াশোনা করুক তা নয়, মানুষের কষ্টও বুঝতে শিখুক। সমাজের সবার কথা ভাবতে শিখুক। ছোটবেলা থেকেই যেন তার মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ তৈরি হয়। আজ ওকে এত খুশি দেখে আমাদেরও খুব ভালো লাগছে।” এই মানবিক উদ্যোগে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আশ্রমের হেড উদ্যোক্তা পিংকি বর্মনও। তিনি ঋতুরাজকে বিশেষ স্মারক ও শুভেচ্ছা জানান এবং স্নেহভরে আশীর্বাদ করেন।

পিংকি বর্মন বলেন, “সমাজ আমাদের ভালো চোখে দেখে না। কিন্তু আমরাও ভালো কাজ করতে চাই, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই। তাই এই আশ্রম গড়ে তুলেছি। আমরা ২৫ জন বৃহন্নলা মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে নিজেদের ও আশ্রমের খরচ চালাই। কিন্তু অনেকেই আমাদের এই কাজ বিশ্বাস করতে চান না।” তিনি আরও বলেন, “সমাজের আরও মানুষ যদি তাঁদের বিশেষ দিন—শিশুর জন্মদিন, বিবাহ বার্ষিকী বা অন্য আনন্দের মুহূর্ত—আমাদের আশ্রমে এসে পালন করেন, তাহলে এখানকার অনাথ শিশু ও বৃদ্ধ মানুষগুলোও একটু আনন্দ পাবে। এতে সমাজে একটি সুন্দর মানবিক বার্তাও পৌঁছাবে।” একটি ছোট্ট জন্মদিন যেন এদিন বড় এক সামাজিক বার্তা দিয়ে গেল—আনন্দ শুধু নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে, তা ভাগ করে নেওয়ার মধ্যেই রয়েছে প্রকৃত মানবিকতা।