২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

হুগলিতে বিশ্ব ইজতেমার আগে রবিবার জোর কদমে চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি

শেখ সিরাজ: হুগলির দাদপুর পুইনানের বিশ্ব ইজতেমায় আটাশে ডিসেম্বর রবিবার জোহরের নামাজের পূর্বে হাজার হাজার মানুষের মিছিল এসে মিলিত হয় ইজতেমা স্থলে। তাঁদের একটাই উদ্দেশ্য, মূল জামাতের আগে রবিবারের ছুটিতে ইজতেমায় অংশগ্রহণ, আল্লাহর সন্তুষ্টি ও মুসলিম উম্মার কল্যাণ সাধন করা। রবিবারের কাক ভোর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার কুচবিহার, বীরভূম, বাঁকুড়া , হাওড়া, হুগলি, দুই চব্বিশ পরগনা, নদীয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ ২ মেদিনীপুর প্রভৃতি জেলা থেকে মুসল্লীরা এই ইজতেমা প্রাঙ্গনে উপস্থিত হন। আর মাত্র চার দিন পর বিশ্ব ইজতেমার এই মহান চারদিন দুই, তিন, চার জানুয়ারি প্রথম তিনদিন মূল অনুষ্ঠান হবে। ৫ই জানুয়ারি ফজরের নামাজের পর পরিসমাপ্তি ঘটবে দোয়া ও আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে। আজকের ২৮ জানুয়ারি রবিবারের এই ইজতেমায় যোগ দিয়ে আগেভাগে নেকি অর্জন করতে চাইছেন মুসল্লিরা। দাদপুর পুইনানের বিশ্ব ইজতেমার কর্তৃপক্ষরা জানালেন যে, মূল রাস্তা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার ভেতরে মঞ্চ তৈরি হয়েছে।। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩২ বছর পর হুগলি দাদপুর পুইনানে দুই তিন চার ও পাঁচই জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার মহান সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এই বিশ্ব ইজতেমার মহান সমাবেশে পশ্চিমবঙ্গের বাইরে বিহার, ঝাড়খণ্ড, উড়িষ্যা, আসাম ত্রিপুরা, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকেও লক্ষ লক্ষ মুসল্লী এই মহান ইজতেমাতে যোগ দেবেন। কলকাতা থেকে প্রায় 40 কিলোমিটার ও বর্ধমান থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এবং ধনেখালি স্টেশন থেকে ৮ কিলোমিটার এবং চুঁচুড়া স্টেশন থেকে প্রায় 18 কিলোমিটার দূরে এই বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করা হয়েছে। আনুমানিক প্রায় 450 বিঘার মত জমির উপর তৈরি করা হয়েছে এই ইজতেমা ময়দান। আয়োজকদের সূত্রে আরো জানা যায়, ভারতবর্ষের ও বিদেশের বিভিন্ন দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ধর্মপাণ মুসলমান এখানে সমবেত হবেন। তাঁদের একটাই উদ্দেশ্য, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ ও পরকালের মঙ্গল কামনা। এই ইজতেমাকে সফল করার জন্য ইতিপূর্বে ই এসেছিলেন রাজ্যের পৌর ও উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী, সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান ও পুবের কলমের সম্পাদক আহমেদ হাসান ইমরান, বিধায়িকা অসীমা পাত্র, ফুরফুরা শরীফের জনাব কাশেম সিদ্দিকী, হুগলির এসপি কামনাশীষ সেন, হুগলির ডিএম খোরশেদ আলী কাদেরী সহ দাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুন্সি হামিদুর রহমান প্রমূখ। হুগলির সর্বানন্দপুর গ্রাম থেকে এস মোঃ নাসের, হুগলির ফরিদপুর থেকে শেখ শাহজাহান, মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া থেকে তালহা খান, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট থেকে শেখ জাফর, আসামে শিলচর থেকে শেখ আলমাস আলী সহ আরো বিভিন্ন ধর্মপান মুসুল্লিরা এসেছেন এই বিশ্ব ইজতেমায়। তাঁরা সকলেই জানালেন, এই ইজতেমায় সুশৃংখল ও শান্তিপূর্ণভাবে সকলে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। দাদপুর পুইনানের বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিদের স্বাস্থ্যপরিসেবার জন্য মোট ছয়টি স্বাস্থ্য ক্যাম্প আছে। দু’নম্বর ক্যাম্পে ডাক্তার আইজুল ইসলাম ও মুজিবর রহমান সহ অনেকেই জানালেন, সকল সদস্যরা দায়িত্ব সহকারে মুসুল্লিদের সেবা করছেন। হুগলি জেলার দাদপুর পুইনানের মতো এত বড় বিশ্ব ইজতেমা, ইতিপূর্বে কোথাও হয়নি বলে অনেক ধর্ম পান মুসল্লিরা জানালেন। ইতি ধনিয়াখালি হল্ট স্টেশন থেকে মহেশপুর হাই রোডের পাশ দিয়ে পুইনান, সুগন্ধা, দিল্লি রোড পর্যন্ত ব্যাপক নিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণের পুলিশ প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকগন রাস্তার দুই ধারে দিনরাত কাজ করছেন। পাশাপাশি বহু হোটেল, বিভিন্ন পোশাক পসরা, শীতের সরঞ্জামসহ বহু দোকানপাট বসেছে।। মূল ইজতেমার চার দিন আগে ইজতেমার সকল প্রস্তুতি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হয়েছে । সব মিলিয়ে এখানকার বিশ্ব ইজতেমায় শান্তিপূর্ণভাবে সফল হবে বলে মুসুল্লিরা আশা করছেন।

সিউড়িতে ধর্ষণ অভিযোগে বিজেপি নেতা গ্রেফতার, চাঞ্চল্য বীরভূমে

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

হুগলিতে বিশ্ব ইজতেমার আগে রবিবার জোর কদমে চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, সোমবার

শেখ সিরাজ: হুগলির দাদপুর পুইনানের বিশ্ব ইজতেমায় আটাশে ডিসেম্বর রবিবার জোহরের নামাজের পূর্বে হাজার হাজার মানুষের মিছিল এসে মিলিত হয় ইজতেমা স্থলে। তাঁদের একটাই উদ্দেশ্য, মূল জামাতের আগে রবিবারের ছুটিতে ইজতেমায় অংশগ্রহণ, আল্লাহর সন্তুষ্টি ও মুসলিম উম্মার কল্যাণ সাধন করা। রবিবারের কাক ভোর থেকেই পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলার কুচবিহার, বীরভূম, বাঁকুড়া , হাওড়া, হুগলি, দুই চব্বিশ পরগনা, নদীয়া, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ ২ মেদিনীপুর প্রভৃতি জেলা থেকে মুসল্লীরা এই ইজতেমা প্রাঙ্গনে উপস্থিত হন। আর মাত্র চার দিন পর বিশ্ব ইজতেমার এই মহান চারদিন দুই, তিন, চার জানুয়ারি প্রথম তিনদিন মূল অনুষ্ঠান হবে। ৫ই জানুয়ারি ফজরের নামাজের পর পরিসমাপ্তি ঘটবে দোয়া ও আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে। আজকের ২৮ জানুয়ারি রবিবারের এই ইজতেমায় যোগ দিয়ে আগেভাগে নেকি অর্জন করতে চাইছেন মুসল্লিরা। দাদপুর পুইনানের বিশ্ব ইজতেমার কর্তৃপক্ষরা জানালেন যে, মূল রাস্তা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার ভেতরে মঞ্চ তৈরি হয়েছে।। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৩২ বছর পর হুগলি দাদপুর পুইনানে দুই তিন চার ও পাঁচই জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমার মহান সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এই বিশ্ব ইজতেমার মহান সমাবেশে পশ্চিমবঙ্গের বাইরে বিহার, ঝাড়খণ্ড, উড়িষ্যা, আসাম ত্রিপুরা, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের অন্যান্য রাজ্য থেকেও লক্ষ লক্ষ মুসল্লী এই মহান ইজতেমাতে যোগ দেবেন। কলকাতা থেকে প্রায় 40 কিলোমিটার ও বর্ধমান থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এবং ধনেখালি স্টেশন থেকে ৮ কিলোমিটার এবং চুঁচুড়া স্টেশন থেকে প্রায় 18 কিলোমিটার দূরে এই বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করা হয়েছে। আনুমানিক প্রায় 450 বিঘার মত জমির উপর তৈরি করা হয়েছে এই ইজতেমা ময়দান। আয়োজকদের সূত্রে আরো জানা যায়, ভারতবর্ষের ও বিদেশের বিভিন্ন দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ ধর্মপাণ মুসলমান এখানে সমবেত হবেন। তাঁদের একটাই উদ্দেশ্য, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ ও পরকালের মঙ্গল কামনা। এই ইজতেমাকে সফল করার জন্য ইতিপূর্বে ই এসেছিলেন রাজ্যের পৌর ও উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী, সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান ও পুবের কলমের সম্পাদক আহমেদ হাসান ইমরান, বিধায়িকা অসীমা পাত্র, ফুরফুরা শরীফের জনাব কাশেম সিদ্দিকী, হুগলির এসপি কামনাশীষ সেন, হুগলির ডিএম খোরশেদ আলী কাদেরী সহ দাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মুন্সি হামিদুর রহমান প্রমূখ। হুগলির সর্বানন্দপুর গ্রাম থেকে এস মোঃ নাসের, হুগলির ফরিদপুর থেকে শেখ শাহজাহান, মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া থেকে তালহা খান, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট থেকে শেখ জাফর, আসামে শিলচর থেকে শেখ আলমাস আলী সহ আরো বিভিন্ন ধর্মপান মুসুল্লিরা এসেছেন এই বিশ্ব ইজতেমায়। তাঁরা সকলেই জানালেন, এই ইজতেমায় সুশৃংখল ও শান্তিপূর্ণভাবে সকলে থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। দাদপুর পুইনানের বিশ্ব ইজতেমায় মুসল্লিদের স্বাস্থ্যপরিসেবার জন্য মোট ছয়টি স্বাস্থ্য ক্যাম্প আছে। দু’নম্বর ক্যাম্পে ডাক্তার আইজুল ইসলাম ও মুজিবর রহমান সহ অনেকেই জানালেন, সকল সদস্যরা দায়িত্ব সহকারে মুসুল্লিদের সেবা করছেন। হুগলি জেলার দাদপুর পুইনানের মতো এত বড় বিশ্ব ইজতেমা, ইতিপূর্বে কোথাও হয়নি বলে অনেক ধর্ম পান মুসল্লিরা জানালেন। ইতি ধনিয়াখালি হল্ট স্টেশন থেকে মহেশপুর হাই রোডের পাশ দিয়ে পুইনান, সুগন্ধা, দিল্লি রোড পর্যন্ত ব্যাপক নিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণের পুলিশ প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকগন রাস্তার দুই ধারে দিনরাত কাজ করছেন। পাশাপাশি বহু হোটেল, বিভিন্ন পোশাক পসরা, শীতের সরঞ্জামসহ বহু দোকানপাট বসেছে।। মূল ইজতেমার চার দিন আগে ইজতেমার সকল প্রস্তুতি চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হয়েছে । সব মিলিয়ে এখানকার বিশ্ব ইজতেমায় শান্তিপূর্ণভাবে সফল হবে বলে মুসুল্লিরা আশা করছেন।