০৩ জুন ২০২৬, বুধবার, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
০৩ জুন ২০২৬, বুধবার, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বিস্ফোরক দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে উত্তাল হরিশ্চন্দ্রপুর

আনজুম মুনির, মালদা: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বিস্ফোরক দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে উত্তাল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর। একজনের প্রাপ্য সরকারি অনুদান টানা পাঁচ বছর ধরে ঢুকেছে অন্য একজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে! এই ঘটনাকে সামনে এনে বিজেপির দাবি, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি বৃহত্তর দুর্নীতির চক্রের অংশ, যার শিকার হতে পারেন ৩০০রও বেশি পরিবার।

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার সোনাকুল গ্রামের বাসিন্দা নুন নাহার। ২০২০ সালে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ, আজ পর্যন্ত নিজের অ্যাকাউন্টে এক টাকাও পাননি। অথচ নথি ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট বলছে, তাঁর নামে বরাদ্দ হওয়া সরকারি অর্থ ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নিয়মিত জমা পড়েছে গ্রামেরই এক প্রাইভেট টিউটর গোলাম মর্তুজার অ্যাকাউন্টে! সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, টানা পাঁচ বছর ধরে অন্যের টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে ঢুকলেও তিনি কীভাবে কিছুই জানলেন না? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনও রহস্য? অন্যদিকে নুন নাহারের দাবি, তিনি বারবার দুয়ারে সরকার শিবিরে গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও মেলেনি কোনও সমাধান। ফলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তিনি।

বিজেপি নেতা ওমপ্রকাশ ঘোষ দাবি করেছেন, শুধু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নয়, গাছ লাগানো প্রকল্প, ইন্দিরা আবাস যোজনা সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির পাহাড় জমেছে। তাঁর কথায়, “এটা শুধু শুরু। আগামীদিনে আরও বড়বড় কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস হবে।” এদিকে ঘটনায় চাঞ্চল্য বাড়িয়ে দিয়েছেন হরিশ্চন্দ্রপুরের বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এই ধরনের অন্যায় কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।” শুধু তাই নয়, তাঁর ইঙ্গিত আরও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অংশ এবং পূর্বতন এমএলএ তাজমুল হোসেন ঘনিষ্ঠ মহলের ও হরিশ্চন্দ্রপুর বিডিওর যোগ থাকতে পারে। ফলে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।

এখন হরিশ্চন্দ্রপুর জুড়ে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে এটি কি শুধুই প্রশাসনিক গাফিলতি, না কি সরকারি প্রকল্পের টাকা লুটের সুসংগঠিত চক্র? তদন্তের দাবিতে সরব বিরোধীরা। আর সাধারণ মানুষের মনে বাড়ছে উদ্বেগ তাদের প্রাপ্য সরকারি অনুদান আদৌ সঠিক হাতে পৌঁছচ্ছে তো?

“এমন চোরা গোপ্তা কাজ করার কিছু ছিল না” নব তৃণমূল ব্লককে একহাত কুনালের

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বিস্ফোরক দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে উত্তাল হরিশ্চন্দ্রপুর

আপডেট : ৩ জুন ২০২৬, বুধবার

আনজুম মুনির, মালদা: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বিস্ফোরক দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে উত্তাল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর। একজনের প্রাপ্য সরকারি অনুদান টানা পাঁচ বছর ধরে ঢুকেছে অন্য একজনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে! এই ঘটনাকে সামনে এনে বিজেপির দাবি, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি বৃহত্তর দুর্নীতির চক্রের অংশ, যার শিকার হতে পারেন ৩০০রও বেশি পরিবার।

ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার সোনাকুল গ্রামের বাসিন্দা নুন নাহার। ২০২০ সালে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি। কিন্তু অভিযোগ, আজ পর্যন্ত নিজের অ্যাকাউন্টে এক টাকাও পাননি। অথচ নথি ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট বলছে, তাঁর নামে বরাদ্দ হওয়া সরকারি অর্থ ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নিয়মিত জমা পড়েছে গ্রামেরই এক প্রাইভেট টিউটর গোলাম মর্তুজার অ্যাকাউন্টে! সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, টানা পাঁচ বছর ধরে অন্যের টাকা নিজের অ্যাকাউন্টে ঢুকলেও তিনি কীভাবে কিছুই জানলেন না? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও বড় কোনও রহস্য? অন্যদিকে নুন নাহারের দাবি, তিনি বারবার দুয়ারে সরকার শিবিরে গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও মেলেনি কোনও সমাধান। ফলে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন তিনি।

বিজেপি নেতা ওমপ্রকাশ ঘোষ দাবি করেছেন, শুধু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নয়, গাছ লাগানো প্রকল্প, ইন্দিরা আবাস যোজনা সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির পাহাড় জমেছে। তাঁর কথায়, “এটা শুধু শুরু। আগামীদিনে আরও বড়বড় কেলেঙ্কারির পর্দাফাঁস হবে।” এদিকে ঘটনায় চাঞ্চল্য বাড়িয়ে দিয়েছেন হরিশ্চন্দ্রপুরের বর্তমান তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এই ধরনের অন্যায় কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।” শুধু তাই নয়, তাঁর ইঙ্গিত আরও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অংশ এবং পূর্বতন এমএলএ তাজমুল হোসেন ঘনিষ্ঠ মহলের ও হরিশ্চন্দ্রপুর বিডিওর যোগ থাকতে পারে। ফলে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও তীব্র হয়েছে।

এখন হরিশ্চন্দ্রপুর জুড়ে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে এটি কি শুধুই প্রশাসনিক গাফিলতি, না কি সরকারি প্রকল্পের টাকা লুটের সুসংগঠিত চক্র? তদন্তের দাবিতে সরব বিরোধীরা। আর সাধারণ মানুষের মনে বাড়ছে উদ্বেগ তাদের প্রাপ্য সরকারি অনুদান আদৌ সঠিক হাতে পৌঁছচ্ছে তো?