২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

কলকাতা থেকে হরিশচন্দ্রপুরে ত্রাণ দিতে এসে হেনস্থার শিকার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্নধার

উজির আলী, নতুনগতি,মালদা:০৩ ই মে ঢিল ছোড়া দূরত্বে বিডিও অফিস। তারপরেও মেলেনি ত্রান। অথচ ৪০০ কিমি দূর থেকে এসে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরে দু:স্থদের ত্রান দিয়ে গেল একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। এমনকি একটি পাড়ায় ঢুকতে গেলে তাদের কে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পশ্চিমবঙ্গ জ্যোতিষ একতা মঞ্চ | বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বেশ কিছুদিন আগে খবর প্রকাশিত হয় মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার খনতা তিওর পাড়া আরো বিভিন্ন এলাকা গুলো লকডাউন এর জেরে প্রায় অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। কোথাও বা ভরসা কচু শাক কোথাও বা কাঁচা আম দিয়ে পেট ভড়াচ্ছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

এই খবর পেয়ে প্রায় চারশো কিলোমিটার দূর কলকাতা থেকে ওয়েস্টবেঙ্গল অ্যাস্ট্রোলজার অরগানাইজেশন নামক এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গাড়ি বোঝাই ত্রাণ নিয়ে আজ হরিশ্চন্দ্রপুর ওই এলাকায় ত্রাণ দিতে এসেছিল। ৪০০ কিমি পথ গাড়ি চালিয়ে এসে খানিক বিশ্রাম এর উদ্দেশ্যে হরিশ্চন্দ্রপুর কালি পুকুর ধর্মশালায় গেলে ধর্মশালা লাগোয়া পাড়ার কিছু বাসিন্দারা ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাদের হেনস্থা করে। তাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

ধর্মশালা ঢুকতে বাধা দেয়। লাঠিসোটা নিয়ে তাদের দিকে তেড়ে যায়। এবং পাড়া থেকে বেরিয়ে যেতে বলে। সংস্থার সদস্যরা বারবার হাতজোড় করে বোঝালেও কোন কাজ হয়নি। এরপর সংস্থার পক্ষ থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকাগুলিতে তারা সোজা চলে যান এবং সেখানেই তাদের আনার ত্রাণ সামগ্রী গুলি বিতরণ করে দেন।

এপ্রসঙ্গে ওই সংস্থার সদস্য সৌমদেব ভারতী জানান তারা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার কয়েকটি গ্রামের দুঃস্থ মানুষদের দুরাবস্থার কথা জানতে পেরে কলকাতা থেকে ত্রাণ নিয়ে ছুটে এসেছি। কিন্তু স্থানীয় এক বাসিন্দা সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা ওই ধর্মশালায় গিয়ে ছিলাম খানিক ক্ষণ বিশ্রাম এর জন্য। কিন্তু সেখানকার বাসিন্দারা অত্যন্ত অভব্য আচরণ করে আমাদের সঙ্গে। আমাদের গায়ে রাজনৈতিক রঙ লাগাবার চেষ্টা করা হয়। আমরা কলকাতার জ্যোতিষ একতা মঞ্চের সদস্য। জ্যোতিষ ছাড়াও সমাজের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি আমাদের সংস্থার সদস্য। আমরা আজ এলাকার বিভিন্ন এলাকায় আমাদের সংস্থার পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলাম। কিন্তু এভাবে আমাদেরকে যে হেনস্থা করা হলো এটা ভেবেই আমাদের খুব খারাপ লাগছে।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য বাপন মল্লিক কে ফোন এ ধরা হলে তিনি জানান তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার হয়েছে জানতে পেরে আমি ঘটনাস্থলে আসি, গ্রামের মধ্যে একটা করণা আতঙ্ক রয়েছে তাই জন্য একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া হয়েছে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে ।
এ প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সঞ্জয় কুমার দাস জানান এলাকার কিছু পাড়ায় করোনা নিয়ে মানুষ অতি সক্রিয়তা অবলম্বন করছেন। অযথা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। পাড়া গুলী ঢোকার মুখে বাঁশ দিয়ে ঘিরে ফেলছেন। এ ব্যাপারে আমরা এলাকার বাসিন্দাদের বারেবারে সতর্ক করছি। অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার কথাও বলছি। ওই সমস্ত এলাকায় আমরা বাস গুলো খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।

এদিকে ত্রাণ পেয়ে খুশি হরিশ্চন্দ্রপুর খন্তা তিওর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা গীতা দাস জানালেন আমাদের পাড়ার পাশে হরিশ্চন্দ্রপুর 2 নং ব্লক অফিস। কিন্তু সেখান থেকে আমরা কোন সরকারি সুযোগ-সুবিধা এখনো পেলাম না। রেশন থেকে পাঁচ কেজি চাল পাচ্ছি মাথাপিছু। তা দিয়ে কিছুই হয় না। লকডাউন এর জন্য আমাদের কাজকর্ম সব বন্ধ বাড়িতে বসে আছি হাতে টাকা পয়সা নেই। আজকে কলকাতা থেকে কিছু লোক এসে আমাদেরকে ত্রাণসামগ্রী দিয়ে গেল।বাইরে থেকে এভাবে খাবার-দাবার পেয়ে আমাদের সংসার আপাতত চলছে। আমরা চাই সরকার আমাদের দিকে নজর দিক।

সিউড়িতে ধর্ষণ অভিযোগে বিজেপি নেতা গ্রেফতার, চাঞ্চল্য বীরভূমে

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

কলকাতা থেকে হরিশচন্দ্রপুরে ত্রাণ দিতে এসে হেনস্থার শিকার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্নধার

আপডেট : ৩ মে ২০২০, রবিবার

উজির আলী, নতুনগতি,মালদা:০৩ ই মে ঢিল ছোড়া দূরত্বে বিডিও অফিস। তারপরেও মেলেনি ত্রান। অথচ ৪০০ কিমি দূর থেকে এসে মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুরে দু:স্থদের ত্রান দিয়ে গেল একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। এমনকি একটি পাড়ায় ঢুকতে গেলে তাদের কে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পশ্চিমবঙ্গ জ্যোতিষ একতা মঞ্চ | বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বেশ কিছুদিন আগে খবর প্রকাশিত হয় মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার খনতা তিওর পাড়া আরো বিভিন্ন এলাকা গুলো লকডাউন এর জেরে প্রায় অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন। কোথাও বা ভরসা কচু শাক কোথাও বা কাঁচা আম দিয়ে পেট ভড়াচ্ছেন সেখানকার বাসিন্দারা।

এই খবর পেয়ে প্রায় চারশো কিলোমিটার দূর কলকাতা থেকে ওয়েস্টবেঙ্গল অ্যাস্ট্রোলজার অরগানাইজেশন নামক এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গাড়ি বোঝাই ত্রাণ নিয়ে আজ হরিশ্চন্দ্রপুর ওই এলাকায় ত্রাণ দিতে এসেছিল। ৪০০ কিমি পথ গাড়ি চালিয়ে এসে খানিক বিশ্রাম এর উদ্দেশ্যে হরিশ্চন্দ্রপুর কালি পুকুর ধর্মশালায় গেলে ধর্মশালা লাগোয়া পাড়ার কিছু বাসিন্দারা ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাদের হেনস্থা করে। তাদের অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে।

ধর্মশালা ঢুকতে বাধা দেয়। লাঠিসোটা নিয়ে তাদের দিকে তেড়ে যায়। এবং পাড়া থেকে বেরিয়ে যেতে বলে। সংস্থার সদস্যরা বারবার হাতজোড় করে বোঝালেও কোন কাজ হয়নি। এরপর সংস্থার পক্ষ থেকে গাড়ি ঘুরিয়ে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকাগুলিতে তারা সোজা চলে যান এবং সেখানেই তাদের আনার ত্রাণ সামগ্রী গুলি বিতরণ করে দেন।

এপ্রসঙ্গে ওই সংস্থার সদস্য সৌমদেব ভারতী জানান তারা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার কয়েকটি গ্রামের দুঃস্থ মানুষদের দুরাবস্থার কথা জানতে পেরে কলকাতা থেকে ত্রাণ নিয়ে ছুটে এসেছি। কিন্তু স্থানীয় এক বাসিন্দা সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা ওই ধর্মশালায় গিয়ে ছিলাম খানিক ক্ষণ বিশ্রাম এর জন্য। কিন্তু সেখানকার বাসিন্দারা অত্যন্ত অভব্য আচরণ করে আমাদের সঙ্গে। আমাদের গায়ে রাজনৈতিক রঙ লাগাবার চেষ্টা করা হয়। আমরা কলকাতার জ্যোতিষ একতা মঞ্চের সদস্য। জ্যোতিষ ছাড়াও সমাজের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি আমাদের সংস্থার সদস্য। আমরা আজ এলাকার বিভিন্ন এলাকায় আমাদের সংস্থার পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করলাম। কিন্তু এভাবে আমাদেরকে যে হেনস্থা করা হলো এটা ভেবেই আমাদের খুব খারাপ লাগছে।

স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য বাপন মল্লিক কে ফোন এ ধরা হলে তিনি জানান তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার হয়েছে জানতে পেরে আমি ঘটনাস্থলে আসি, গ্রামের মধ্যে একটা করণা আতঙ্ক রয়েছে তাই জন্য একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, তাদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া হয়েছে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে ।
এ প্রসঙ্গে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি সঞ্জয় কুমার দাস জানান এলাকার কিছু পাড়ায় করোনা নিয়ে মানুষ অতি সক্রিয়তা অবলম্বন করছেন। অযথা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। পাড়া গুলী ঢোকার মুখে বাঁশ দিয়ে ঘিরে ফেলছেন। এ ব্যাপারে আমরা এলাকার বাসিন্দাদের বারেবারে সতর্ক করছি। অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার কথাও বলছি। ওই সমস্ত এলাকায় আমরা বাস গুলো খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করছি।

এদিকে ত্রাণ পেয়ে খুশি হরিশ্চন্দ্রপুর খন্তা তিওর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা গীতা দাস জানালেন আমাদের পাড়ার পাশে হরিশ্চন্দ্রপুর 2 নং ব্লক অফিস। কিন্তু সেখান থেকে আমরা কোন সরকারি সুযোগ-সুবিধা এখনো পেলাম না। রেশন থেকে পাঁচ কেজি চাল পাচ্ছি মাথাপিছু। তা দিয়ে কিছুই হয় না। লকডাউন এর জন্য আমাদের কাজকর্ম সব বন্ধ বাড়িতে বসে আছি হাতে টাকা পয়সা নেই। আজকে কলকাতা থেকে কিছু লোক এসে আমাদেরকে ত্রাণসামগ্রী দিয়ে গেল।বাইরে থেকে এভাবে খাবার-দাবার পেয়ে আমাদের সংসার আপাতত চলছে। আমরা চাই সরকার আমাদের দিকে নজর দিক।