২৭ জুন ২০২৬, শনিবার, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
২৭ জুন ২০২৬, শনিবার, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

ছেলে ধরা সন্দেহে চার যুবককে গণপিটুনি

  • নতুন গতি
  • আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার
  • 9

হরিশ্চন্দ্রপুর, ১৯ সেপ্টেম্বর: ছেলে ধরা সন্দেহে চার যুবককে গণপিটুনি দিল স্থানীয় লোকেরা।ভিন্ন রাজ্য থেকে আসা চারজন যাযাবরকে ছেলেধরা সন্দেহে এলাকার লোকজন ধরে ফেলে।একজন আহত, হরিশ্চন্দ্রপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে হরিশ্চন্দ্রপুর -১ নং ব্লকের তুলসীহাটা জিপির তুলসীহাটা বাস স্ট্যান্ডে।বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১১ টা নাগাদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,প্রায় ১০ দিন ধরে হরিশ্চন্দ্রপুর গামি ৮১ নং জাতীয় সড়কের ধারে কাবুয়া রোডের পাশে অস্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেছে।এদিন গেরুয়া পোশাক ধারণ করে সাধু ছন্দবেসে তুলসীহাটা সিনেমা হলের পাশে মিনাবাজার থেকে শিশু অপহরণ মূলক সন্দেহে চারজনকে ধরে গণপিটুনি দেন।উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে একজন আহত হন ।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। উত্তেজিত জনতা পুলিশের উপরে চড়াও হন এবং গাড়ির কাচও ভেঙে ফেলেন।পুলিশ চারজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভিন রাজ্য থেকে এরা প্রতিবছর দলবেধে পরিবার সহ আর্য়ুরবেদিক ওষুধ ও মাদুলি বিক্রি করত আসে।মাস দুয়েকের মধ্যে আবার তারা নিজ রাজ্যে ফিরে যান।

এদিন ছেলেধরা সন্দেহে এলাকার লোকজনেরা তাদেরকে গণপ্রহার করে।এখন তারা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে এদেরকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে। কখনো সাধু বেশে, কখনো গেরুয়া পোশাক ধারণ করে, কখনো মাথায় নামাজ পড়া টুপি, পাঞ্জাবী,পাজামা পরে, কখনো আবার ভিখারী সেজে ভিক্ষা চাইতে দেখা যায়।

এদিন সকাল ৯ টা নাগাদ তুলসীহাটার কোনো এক টেক্সি চালকের বাড়িতে ভিক্ষা চাইতে গেলে তাদের বেশভূষা দেখে মনে সন্দেহ জাগে। তখন টেক্সি চালক বাড়িতে ছিলেন না। তার স্ত্রী স্নান করছিন, মা রান্না ঘরে ছিল। তার ছেলে মেয়ে দাওয়াই বসে খেলা করছিল। ভিক্ষা দিয়ে তাদেরকে বিদায় করার কয়েক মুহূর্তে ছেলেধরা বলে এলাকায় হুলস্থুল পরে যায়।

খবর পেয়েই হরিশ্চন্দ্রপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও চাঁচল মহকুমা থেকে মিলিটারি বাহিনী ঘটনা স্থলে ছুটে এসে তা নিয়ন্ত্রণ করেন।ঘন্টা খানেকের মধ্যেই যাযাবরদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

তাদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে , ছুরি, মাদক ও নেশা জাতীয় দ্রব্য, বিস্কুট, নামাজ পরা টুপি, পাঞ্জাবী, পাজামা, বাইক প্রভৃতি।

ওরা সবসময় ছন্দবেশ ধারণ করে বেড়াতো। যে এলাকায় যেত সেই এলাকা বিশেষে পোশাক ধারণ করতো

তুলসিহাটা গ্রাম থেকে চারজন, রাড়িয়াল গ্রাম থেকে দুই জন ও বাংরুয়া গ্রাম থেকে একজনকে পুলিশ ধরেছে।কয়েকজন এখনো পলাতক। পুলিশ তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাছে।

তৃণমূলের আমলে পাশ হওয়া নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ইমারত তৈরি আপাতত বন্ধ

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

ছেলে ধরা সন্দেহে চার যুবককে গণপিটুনি

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বৃহস্পতিবার

হরিশ্চন্দ্রপুর, ১৯ সেপ্টেম্বর: ছেলে ধরা সন্দেহে চার যুবককে গণপিটুনি দিল স্থানীয় লোকেরা।ভিন্ন রাজ্য থেকে আসা চারজন যাযাবরকে ছেলেধরা সন্দেহে এলাকার লোকজন ধরে ফেলে।একজন আহত, হরিশ্চন্দ্রপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে হরিশ্চন্দ্রপুর -১ নং ব্লকের তুলসীহাটা জিপির তুলসীহাটা বাস স্ট্যান্ডে।বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১১ টা নাগাদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,প্রায় ১০ দিন ধরে হরিশ্চন্দ্রপুর গামি ৮১ নং জাতীয় সড়কের ধারে কাবুয়া রোডের পাশে অস্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেছে।এদিন গেরুয়া পোশাক ধারণ করে সাধু ছন্দবেসে তুলসীহাটা সিনেমা হলের পাশে মিনাবাজার থেকে শিশু অপহরণ মূলক সন্দেহে চারজনকে ধরে গণপিটুনি দেন।উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে একজন আহত হন ।খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ। উত্তেজিত জনতা পুলিশের উপরে চড়াও হন এবং গাড়ির কাচও ভেঙে ফেলেন।পুলিশ চারজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভিন রাজ্য থেকে এরা প্রতিবছর দলবেধে পরিবার সহ আর্য়ুরবেদিক ওষুধ ও মাদুলি বিক্রি করত আসে।মাস দুয়েকের মধ্যে আবার তারা নিজ রাজ্যে ফিরে যান।

এদিন ছেলেধরা সন্দেহে এলাকার লোকজনেরা তাদেরকে গণপ্রহার করে।এখন তারা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরে এদেরকে এলাকায় দেখা যাচ্ছে। কখনো সাধু বেশে, কখনো গেরুয়া পোশাক ধারণ করে, কখনো মাথায় নামাজ পড়া টুপি, পাঞ্জাবী,পাজামা পরে, কখনো আবার ভিখারী সেজে ভিক্ষা চাইতে দেখা যায়।

এদিন সকাল ৯ টা নাগাদ তুলসীহাটার কোনো এক টেক্সি চালকের বাড়িতে ভিক্ষা চাইতে গেলে তাদের বেশভূষা দেখে মনে সন্দেহ জাগে। তখন টেক্সি চালক বাড়িতে ছিলেন না। তার স্ত্রী স্নান করছিন, মা রান্না ঘরে ছিল। তার ছেলে মেয়ে দাওয়াই বসে খেলা করছিল। ভিক্ষা দিয়ে তাদেরকে বিদায় করার কয়েক মুহূর্তে ছেলেধরা বলে এলাকায় হুলস্থুল পরে যায়।

খবর পেয়েই হরিশ্চন্দ্রপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ও চাঁচল মহকুমা থেকে মিলিটারি বাহিনী ঘটনা স্থলে ছুটে এসে তা নিয়ন্ত্রণ করেন।ঘন্টা খানেকের মধ্যেই যাযাবরদেরকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

তাদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে , ছুরি, মাদক ও নেশা জাতীয় দ্রব্য, বিস্কুট, নামাজ পরা টুপি, পাঞ্জাবী, পাজামা, বাইক প্রভৃতি।

ওরা সবসময় ছন্দবেশ ধারণ করে বেড়াতো। যে এলাকায় যেত সেই এলাকা বিশেষে পোশাক ধারণ করতো

তুলসিহাটা গ্রাম থেকে চারজন, রাড়িয়াল গ্রাম থেকে দুই জন ও বাংরুয়া গ্রাম থেকে একজনকে পুলিশ ধরেছে।কয়েকজন এখনো পলাতক। পুলিশ তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাছে।