২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ‍্যকে অক্ষুণ্ন রাখতে জেলায় জেলায় সম্মেলন

নতুন গতি:  শনিবার (২৪ আগস্ট) পশ্চিমবঙ্গ রাজ‍্য জমিয়তে উলামা হিন্দ এ নিয়ে জমিয়ত ভবনের আবু তালেব চৌধুরী কনফারেন্স রুমে রাজ‍্য জমিয়তে উলামা হিন্দের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জমিয়তে উলামা হিন্দের রাজ‍্য সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী‌।

বৈঠক শেষে মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, রাজ‍্যজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে আমন ও একতা সম্মেলন। যেমন জমিয়তের প্রতিনিধি থাকবে অনুরূপভাবে ফুরফুরা, বেরেলভী, আহলে হাদিসসহ অন‍্যান‍্য মতাদর্শের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নেবেন। একইভাবে দেশপ্রেমিক ধর্মনিরপেক্ষ বিদ্বজ্জনদের আমন্ত্রণ জানানো হবে ওই সভাগুলোতে।

তিনি বলেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর মালদার সুজাপুরের পাশাপাশি মেদিনীপুর, বারুইপুর, বর্ধমান, বসিরহাট, চুঁচুড়া, আরামবাগ, তমলুক, মুর্শিদাবাদ, কৃষ্ণনগরসহ রাজ‍্যের বিভিন্ন শহরে আমন ও একতা সম্মেলন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ‍্য জমিয়ত।

‘কিন্তু কেন প্রয়োজন হল এ ধরনের সম্মেলন করার’ এর ব্যাখায় সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জমিয়তে উলামা হিন্দ তার জন্মলগ্ন থেকেই জাতীয় সংহতি ও ঐকের উপর অবিচল হয়ে আছে। জমিয়ত উৎশৃঙ্খলতা, নাশকতা, সাম্প্রদায়িকতা, বিচ্ছিন্নতাকে প্রশয় দেয়নি। বরং শক্তি দিয়ে তার সাধ‍্যের মতো প্রতিরোধ করে টিকে আছে। তাই এই কঠিন সন্ধিক্ষণে দৃঢ়তার সঙ্গে জমিয়তের প্রতিটি ইউনিটকে সেই ধারা অব‍্যাহত রাখতে হবে।

প্রসঙ্গত, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে সর্ব ভারতীয় জমিয়তে উলামা হিন্দের মজলিসে মুনতাজিমের সভা অনুষ্ঠিত হবে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাতে ৩০০ প্রতিনিধি যোগদান করে, সেইজন্য জেলা সভাপতি, সম্পাদককে নির্দেশ দেওয়া হয়। যারা সেখানে যোগদান করবেন, তাদের নাম নামের তালিকা রাজ‍্য অফিসে এবং দিল্লি অফিসে পাঠাতে হবে।

বৈঠকে মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে সুদীর্ঘ আলোচনা হয়। সেখানে স্থির হয়, আবাসিক ছাত্রদের খানাপিনা, পোশাকসহ যাবতীয় প্রয়োজনের প্রতি মাদ্রাসাকর্তৃপক্ষ গভীরভাবে নজর দেবেন। কোনোওভাবে কোনও দুষ্কৃতিকারী মাদ্রাসার ক্ষতি সাধন না করতে পারে সে বিষয়ে নজর দেয়া ও অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কোথাও কোথাও সিসিটিভি লাগানোর বিষয়ে সব মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়। মাদ্রাসার অর্থ ধর্মীয় শিক্ষা গ্ৰহণ নয়, পারিপার্শ্বিক সামাজের সঙ্গে মেলবন্ধন, ভালোবাসা, সুষ্ঠু পরিবেশ পড়াশোনা এ বিষয়গুলি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে মেনে চলতে হবে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা আব্দুস সালাম রহিমী, মাওলানা আবুল কাসেম, দাউদ হাসান, মাওলানা জাকারিয়া কাসেমী, মুফতি আব্দুস সালাম, মুফতি রফিকুল ইসলাম, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ চৌধুরী, মাওলানা আনিসুর রহমান, মাওলানা বদরুল আলম, মুফতি আমিনুদ্দিন, হাফেজ নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

সিউড়িতে ধর্ষণ অভিযোগে বিজেপি নেতা গ্রেফতার, চাঞ্চল্য বীরভূমে

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ‍্যকে অক্ষুণ্ন রাখতে জেলায় জেলায় সম্মেলন

আপডেট : ২৬ অগাস্ট ২০১৯, সোমবার

নতুন গতি:  শনিবার (২৪ আগস্ট) পশ্চিমবঙ্গ রাজ‍্য জমিয়তে উলামা হিন্দ এ নিয়ে জমিয়ত ভবনের আবু তালেব চৌধুরী কনফারেন্স রুমে রাজ‍্য জমিয়তে উলামা হিন্দের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জমিয়তে উলামা হিন্দের রাজ‍্য সভাপতি মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী‌।

বৈঠক শেষে মাওলানা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, রাজ‍্যজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে আমন ও একতা সম্মেলন। যেমন জমিয়তের প্রতিনিধি থাকবে অনুরূপভাবে ফুরফুরা, বেরেলভী, আহলে হাদিসসহ অন‍্যান‍্য মতাদর্শের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে অংশ নেবেন। একইভাবে দেশপ্রেমিক ধর্মনিরপেক্ষ বিদ্বজ্জনদের আমন্ত্রণ জানানো হবে ওই সভাগুলোতে।

তিনি বলেন, আগামী ১ সেপ্টেম্বর মালদার সুজাপুরের পাশাপাশি মেদিনীপুর, বারুইপুর, বর্ধমান, বসিরহাট, চুঁচুড়া, আরামবাগ, তমলুক, মুর্শিদাবাদ, কৃষ্ণনগরসহ রাজ‍্যের বিভিন্ন শহরে আমন ও একতা সম্মেলন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ‍্য জমিয়ত।

‘কিন্তু কেন প্রয়োজন হল এ ধরনের সম্মেলন করার’ এর ব্যাখায় সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী বলেন, জমিয়তে উলামা হিন্দ তার জন্মলগ্ন থেকেই জাতীয় সংহতি ও ঐকের উপর অবিচল হয়ে আছে। জমিয়ত উৎশৃঙ্খলতা, নাশকতা, সাম্প্রদায়িকতা, বিচ্ছিন্নতাকে প্রশয় দেয়নি। বরং শক্তি দিয়ে তার সাধ‍্যের মতো প্রতিরোধ করে টিকে আছে। তাই এই কঠিন সন্ধিক্ষণে দৃঢ়তার সঙ্গে জমিয়তের প্রতিটি ইউনিটকে সেই ধারা অব‍্যাহত রাখতে হবে।

প্রসঙ্গত, আগামী ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে সর্ব ভারতীয় জমিয়তে উলামা হিন্দের মজলিসে মুনতাজিমের সভা অনুষ্ঠিত হবে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে যাতে ৩০০ প্রতিনিধি যোগদান করে, সেইজন্য জেলা সভাপতি, সম্পাদককে নির্দেশ দেওয়া হয়। যারা সেখানে যোগদান করবেন, তাদের নাম নামের তালিকা রাজ‍্য অফিসে এবং দিল্লি অফিসে পাঠাতে হবে।

বৈঠকে মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে সুদীর্ঘ আলোচনা হয়। সেখানে স্থির হয়, আবাসিক ছাত্রদের খানাপিনা, পোশাকসহ যাবতীয় প্রয়োজনের প্রতি মাদ্রাসাকর্তৃপক্ষ গভীরভাবে নজর দেবেন। কোনোওভাবে কোনও দুষ্কৃতিকারী মাদ্রাসার ক্ষতি সাধন না করতে পারে সে বিষয়ে নজর দেয়া ও অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কোথাও কোথাও সিসিটিভি লাগানোর বিষয়ে সব মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়। মাদ্রাসার অর্থ ধর্মীয় শিক্ষা গ্ৰহণ নয়, পারিপার্শ্বিক সামাজের সঙ্গে মেলবন্ধন, ভালোবাসা, সুষ্ঠু পরিবেশ পড়াশোনা এ বিষয়গুলি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে মেনে চলতে হবে।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, মাওলানা আব্দুস সালাম রহিমী, মাওলানা আবুল কাসেম, দাউদ হাসান, মাওলানা জাকারিয়া কাসেমী, মুফতি আব্দুস সালাম, মুফতি রফিকুল ইসলাম, মাওলানা ইমদাদুল্লাহ চৌধুরী, মাওলানা আনিসুর রহমান, মাওলানা বদরুল আলম, মুফতি আমিনুদ্দিন, হাফেজ নজরুল ইসলাম প্রমুখ।