২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

থ্যালাসেমিয়া শিশুর জীবন বাঁচাতে চন্দ্রপুর থানা পুলিশের মানবিক মুখ

 

 

 

খান আরশাদ, বীরভূম:

থ্যালাসেমিয়া শিশুর জীবন বাঁচাতে বীরভূমের চন্দ্রপুর থানার পুলিশের মানবিক মুখ দেখা গেল।
খাঁকি পোশাকের পুলিশ দেখলেই একটা সময় মানুষ শত ক্রোশ দূরে সরে যেত। এখন সময় পাল্টেছে। সাথে পরিবেশ পরিস্থিতিও পাল্টেছে । সেই পুলিশ এখন সাধারণ মানুষকে কাছে টেনেছে, ফলে বর্তমানে পুলিশ এখন বন্ধুর ভূমিকায়।
এরকমই এক পুলিশের ভূমিকা দেখা গেল। বীরভূমের চন্দ্রপুর থানা পুলিশের মানবিক মুখ দেখল ওই থানারই অন্তগত তাঁতীপাড়া গ্রামের দীনবন্ধু বাগদী ও তার ছোট্ট মেয়ে বৈশাখী বাগদী সহ এলাকাবাসী। জানা গেছে চন্দ্রপুর থানার তাঁতিপাড়া গ্রামের দীনবন্ধু বাগদীর থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত মেয়ে বৈশাখী বাগদিকে নিয়ে চন্দ্রপুর থানায় যায়। সেই সময় কর্তব্যরত এ এস আই রুদ্র প্রতাপ সিংহের কাছে আবেদন জানান, তার মেয়ে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত এবং আজকেই রক্তের প্রয়োজন। কিন্তু আক্রান্তের গ্রুপের রক্ত কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না, খুব দুঃশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি, একটা কিছু করুন। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত মেয়ের বাবার কাতর আবেদন, কোথাও রক্তের জোগাড় না হওয়ায় শেষ ভরসা হিসেবে থানার দারস্থ হয়েছি। এবার কিছু একটা করুন স্যার। সেই করুন আবেদনে কর্তব্যরত ASI রুদ্র প্রতাপ সিংহ বিষয়টি চন্দ্রপুর থানার OC অভিষেক ঘোষকে জানান। তিনিও এক মুহূর্ত দেরি না করেই থানার অন্যান্য আধিকারিক এবং পুলিশ কর্মীদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বাচ্চা মেয়েটির রক্তের গ্রুপের সাথে কার রক্তের গ্রুপের মিল আছে তার সন্ধান করতে থাকেন।

অবশেষে ‘O’ পজেটিভ রক্তের গ্রুপ মিলে যায় চন্দ্রপুর থানারই ASI জয়ন্ত রায়ের রক্তের গ্রুপের সাথে। ASI জয়ন্ত রায় সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান ওই থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বাচ্চা মেয়েটিকে রক্ত দেওয়ার জন্য। অবশেষে চন্দ্রপুর থানার OC অভিষেক ঘোষের নির্দেশ মতো ASI জয়ন্ত রায় ও রুদ্র প্রতাপ সিং বাচ্চা মেয়েটি সহ তার বাবাকে নিয়ে গাড়ি করে তড়িঘড়ি চলে যান সিউড়ি সদর হাসপাতালে রক্ত দিতে। রক্ত দেওয়া হয় থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বাচ্চা মেয়েটিকে। রক্ত পেয়ে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বাচ্চা মেয়ে বৈশাখী বাগদী সুস্থতা অনুভব করে।

স্বভাবতই চন্দ্রপুর থানার OC অভিষেক ঘোষ, ASI রক্তদাতা জয়ন্ত রায় এবং রুদ্র প্রতাপ সিংহ সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিক ও পুলিশ কর্মীদের তৎপরতার সাথে ফের একবার মানবিক মুখ দেখা যায় । পুলিশ যে মানুষের বন্ধু -সহযোগী এবং বিপদের সময়ে পাশে থাকার উপযুক্ত ভরসা, সে কথা অকপটে স্বীকার করে নিয়েই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন চন্দ্রপুর থানাকে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বৈশাখী বাগদী,তার বাবা দীনবন্ধু বাগদী সহ পরিবারের লোকজন। স্বভাবতই চন্দ্রপুর থানার পুলিশের এই মানবিক মুখের পঞ্চ-প্রশংসায় এলাকাবাসী।

 

সিউড়িতে ধর্ষণ অভিযোগে বিজেপি নেতা গ্রেফতার, চাঞ্চল্য বীরভূমে

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

থ্যালাসেমিয়া শিশুর জীবন বাঁচাতে চন্দ্রপুর থানা পুলিশের মানবিক মুখ

আপডেট : ১ মার্চ ২০২৫, শনিবার

 

 

 

খান আরশাদ, বীরভূম:

থ্যালাসেমিয়া শিশুর জীবন বাঁচাতে বীরভূমের চন্দ্রপুর থানার পুলিশের মানবিক মুখ দেখা গেল।
খাঁকি পোশাকের পুলিশ দেখলেই একটা সময় মানুষ শত ক্রোশ দূরে সরে যেত। এখন সময় পাল্টেছে। সাথে পরিবেশ পরিস্থিতিও পাল্টেছে । সেই পুলিশ এখন সাধারণ মানুষকে কাছে টেনেছে, ফলে বর্তমানে পুলিশ এখন বন্ধুর ভূমিকায়।
এরকমই এক পুলিশের ভূমিকা দেখা গেল। বীরভূমের চন্দ্রপুর থানা পুলিশের মানবিক মুখ দেখল ওই থানারই অন্তগত তাঁতীপাড়া গ্রামের দীনবন্ধু বাগদী ও তার ছোট্ট মেয়ে বৈশাখী বাগদী সহ এলাকাবাসী। জানা গেছে চন্দ্রপুর থানার তাঁতিপাড়া গ্রামের দীনবন্ধু বাগদীর থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত মেয়ে বৈশাখী বাগদিকে নিয়ে চন্দ্রপুর থানায় যায়। সেই সময় কর্তব্যরত এ এস আই রুদ্র প্রতাপ সিংহের কাছে আবেদন জানান, তার মেয়ে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত এবং আজকেই রক্তের প্রয়োজন। কিন্তু আক্রান্তের গ্রুপের রক্ত কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না, খুব দুঃশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছি, একটা কিছু করুন। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত মেয়ের বাবার কাতর আবেদন, কোথাও রক্তের জোগাড় না হওয়ায় শেষ ভরসা হিসেবে থানার দারস্থ হয়েছি। এবার কিছু একটা করুন স্যার। সেই করুন আবেদনে কর্তব্যরত ASI রুদ্র প্রতাপ সিংহ বিষয়টি চন্দ্রপুর থানার OC অভিষেক ঘোষকে জানান। তিনিও এক মুহূর্ত দেরি না করেই থানার অন্যান্য আধিকারিক এবং পুলিশ কর্মীদের মধ্যে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বাচ্চা মেয়েটির রক্তের গ্রুপের সাথে কার রক্তের গ্রুপের মিল আছে তার সন্ধান করতে থাকেন।

অবশেষে ‘O’ পজেটিভ রক্তের গ্রুপ মিলে যায় চন্দ্রপুর থানারই ASI জয়ন্ত রায়ের রক্তের গ্রুপের সাথে। ASI জয়ন্ত রায় সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে যান ওই থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বাচ্চা মেয়েটিকে রক্ত দেওয়ার জন্য। অবশেষে চন্দ্রপুর থানার OC অভিষেক ঘোষের নির্দেশ মতো ASI জয়ন্ত রায় ও রুদ্র প্রতাপ সিং বাচ্চা মেয়েটি সহ তার বাবাকে নিয়ে গাড়ি করে তড়িঘড়ি চলে যান সিউড়ি সদর হাসপাতালে রক্ত দিতে। রক্ত দেওয়া হয় থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বাচ্চা মেয়েটিকে। রক্ত পেয়ে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বাচ্চা মেয়ে বৈশাখী বাগদী সুস্থতা অনুভব করে।

স্বভাবতই চন্দ্রপুর থানার OC অভিষেক ঘোষ, ASI রক্তদাতা জয়ন্ত রায় এবং রুদ্র প্রতাপ সিংহ সহ অন্যান্য পুলিশ আধিকারিক ও পুলিশ কর্মীদের তৎপরতার সাথে ফের একবার মানবিক মুখ দেখা যায় । পুলিশ যে মানুষের বন্ধু -সহযোগী এবং বিপদের সময়ে পাশে থাকার উপযুক্ত ভরসা, সে কথা অকপটে স্বীকার করে নিয়েই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন চন্দ্রপুর থানাকে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত বৈশাখী বাগদী,তার বাবা দীনবন্ধু বাগদী সহ পরিবারের লোকজন। স্বভাবতই চন্দ্রপুর থানার পুলিশের এই মানবিক মুখের পঞ্চ-প্রশংসায় এলাকাবাসী।