ফারুক আহমেদ : পশ্চিমবঙ্গের নব সময়ের নব জাগরণের আধুনিক শিক্ষা প্রসারের কান্ডারি মোস্তাক হোসেন। ভাকুড়ি, বহরমপুরে ঐতিহাসিক উদ্যোগ ‘মোস্তাক হোসেন ভবন’-এর শিলান্যাস অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫। বিভিন্ন সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতা ও চাকরির পরীক্ষায় সাফল্যের চাবিকাঠি মেধাবীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গড়ে তোলার মহত্তর উদ্যোগ।
মুর্শিদাবাদ জেলার ভূমিপুত্র ‘মোস্তাক হোসেন ভবন’-এর শিলান্যাস করলেন ‘পতাকা’র সি.ই.ও. মোতাহার হোসেন ও মোস্তাক হোসেনের পুত্র সাহিল হোসেন। আল আলাম মিশন (উচ্চমাধ্যমিক), বহরমপুর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘পতাকা’ শিল্পগোষ্ঠীর জনাব মোতাহার হোসেন, মোস্তাক হোসেনের পুত্র সাহিল হোসেন, আল আলাম মিশনের ডিরেক্টর মাহবুব মুর্শিদ, সাংসদ আবু তাহের খান, বিধায়ক সৌমিক হোসেন, বিধায়ক নিয়ামত আলি সেখ, ইতিহাসবেত্তা গবেষক খাজিম আহমেদ, শিক্ষাবিদ ড. মুজিবর রহমান, বিশিষ্ট আইনজীবী আবু বাক্কার সিদ্দিকী, আল আলাম মিশনের সহ সম্পাদক আব্দুল বারী প্রমুখ বিশিষ্ট জন। নতুন শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি নেওয়া শুরু হবে।
অনুষ্ঠানে মোতাহার হোসেনের মূল্যবান বক্তব্যটি প্রণিধানযোগ্য—’আজ আগত গুণীজনদের আমার শ্রদ্ধা এবং প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীদের অনেক অনেক ভালোবাসা। এখানে আসার সময় আমার মনে পড়ছিল ২০১২ সালে এই বহরমপুরেই আল-আলাম মিশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক আলোচনাসভার কথা। যেখানে তদানীন্তন এসপি সাহেবকে বলতে শুনেছিলাম যে, মুর্শিদাবাদের পুলিশ-কেস বা অপরাধমূলক মামলা অন্য জেলার তুলনায় বেশি এবং তিনিও তার জন্য শিক্ষার অভাবকেই দায়ী করেছিলেন। আবার এক যুগ পরে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শুনলাম এই জেলাবাসীর জীবিকার এক বড় অংশ খরচ হয়ে যায় স্বাস্থ্য এবং মামলাতে, যার জন্য তিনি শিক্ষা ও সচেতনতার অভাবকে দায়ী করছিলেন। এক যুগ আগে ও পরে এই একই ধরনের মন্তব্য শুনে ভূমিপুত্র হিসাবে কষ্ট পাচ্ছি।
পৃথিবীর সব দেশে তা উন্নত, উন্নতিশীল যাই হোক যেখানে অপরাধ ও শিক্ষার এক নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে আর সেটা হল যেমন যেমন শিক্ষার আলো ছড়িয়ে পড়ে তেমনি অপরাধ প্রবণতা কমে আসে।
গত কয়েক দশক ধরে বাংলার বিভিন্ন জেলায় অনেক মিশনারি স্কুল গড়ে উঠেছে সেখান থেকে প্রতি বছরে শত-শত ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হচ্ছে। তবে এটা ঠিক যে মুর্শিদাবাদে তুলনামূলকভাবে উচ্চমানের এই স্কুলের সংখ্যা কম। যে কারণে জেলার ছেলেমেয়েরা অন্য জেলায় গিয়ে ভালো ফলাফল করে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করছে।
এখানে আমি বলব একটি সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য দুটোতেই আরও কাজ করতে হবে। বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। কারণ একজন ছেলেকে শিক্ষিত করলে একজন মানুষ শিক্ষিত হয় আর একজন মেয়ে শিক্ষিত হলে একটি পরিবার শিক্ষিত হয়। আর শিক্ষিত পরিবার শিক্ষিত ও সচেতন সমাজ গড়ে।
আমাদের মুর্শিদাবাদের শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত ছেলেমেয়েদের উদ্দেশ্যে বলব তারা আমাদের এই সমাজকল্যাণের প্রতিজ্ঞার সঙ্গে যুক্ত হলে এই পরিবর্তন আরও ত্বরান্বিত হবে।
মোস্তাক হোসেন সাহেব নিজে স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসেন এবং অন্যদের বিশেষ করে ছাত্রসমাজকে স্বপ্ন দেখতে বলেন। তাঁর কথায় ‘স্বপ্ন দেখতে কোনও ট্যাক্স লাগে না’। আজ আল আলম যে স্বপ্ন নিয়ে এই প্রতিষ্ঠানের শিলান্যাস করছে তাতে মোস্তাক হোসেন সাহেব এবং তাঁর পরিবারের সহযোগিতা থাকবে।
হাদিসে আছে ‘‘যে ব্যক্তি জ্ঞান অন্বেষণের জন্য কোনও পথ অবলম্বন করেন তখন আল্লাহ তদ্দ্বারা তার জন্য জান্নাতের পথ সহজ করে দেন।’’ আবার উপনিষদে আছে যে ‘‘একমাত্র শিক্ষার দ্বারা মানুষ তার নিজের ব্যক্তিত্বকে বুঝবার সুযোগ পায় এবং একমাত্র শিক্ষার পথে আগমন করেই পার্থিব মুক্তি অর্জন করা যায়।’’ তাই এটা বললে ভুল হবে না যে সব ধর্মেই শিক্ষাকে অসীম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শেষে বলব আল-আলাম কর্তৃপক্ষকে মোস্তাক হোসেন ও তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক শুভেচ্ছা এবং দোয়া করি যেন এই প্রচেষ্টা তাড়াতাড়ি সাফল্যমন্ডিত হোক।
সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।’
নতুন গতি 





























