খান আরশাদ, বীরভূম:
গতকাল থেকে ১১ দফা দাবিতে রাজনগরে কর্মবিরতি পালন করছেন আশা কর্মীরা। বুধবার সেই আন্দোলন আরও তীব্র রূপ নিল। ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা মাসিক ভাতা এবং কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারের জন্য ৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণসহ একাধিক দাবিতে এদিন রাজনগর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে একটি মিছিল বের করেন পশ্চিমবঙ্গ আশা কর্মী ইউনিয়নের সদস্যরা। মিছিলটি রাজনগর বিডিও অফিসের সামনে এসে পৌঁছালে সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন আন্দোলনকারীরা।
আশা কর্মীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার মেরুদণ্ড হয়ে কাজ করলেও তাঁরা উপযুক্ত পারিশ্রমিক ও সামাজিক নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত দীর্ঘ দিন থেকেই। এদিনের কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা তাঁদের ১১ দফা দাবির কথা স্পষ্ট করে জানান। তাঁদের প্রধান দাবিগুলি হল
বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে সংসার চালাতে মাসিক ভাতা বাড়িয়ে ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা করতে হবে। কর্মরত অবস্থায় কোনো আশা কর্মীর মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা দিতে হবে।
গত কয়েক মাসের বকেয়া থাকা উৎসাহ ভাতা দ্রুত প্রদান করতে হবে।
মোবাইল কেনার ওপর কোনও রকম শর্ত চাপানো চলবে না।
স্বাস্থ্যকর্মীর মর্যাদা প্রদান ও কাজের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে, প্রভৃতি ১১ দফা দাবি নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন আশা কর্মীরা।
বুধবার দুপুরে রাজনগর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। ব্যানার হাতে আশাকর্মীরা শ্লোগান দিতে দিতে বিডিও অফিসের দিকে এগিয়ে যান। তাঁদের দাবি, রোদ-ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিলেও সরকার তাঁদের দাবিগুলি কর্ণপাত করছে না।
আন্দোলনকারী আশা কর্মীদের মধ্যে সমাপ্তি চক্রবর্তী, আনোয়ারা বেগমরা জানান, “আমরা দিনরাত এক করে কাজ করি, অথচ আমাদের প্রাপ্য ভাতাটুকুও ঠিকমতো দেওয়া হয় না। ভাতার টাকা মাসের পর মাস বকেয়া পড়ে থাকছে। যতক্ষণ না সরকার আমাদের দাবি পূরণের লিখিত আশ্বাস দিচ্ছে, ততক্ষণ আমাদের এই কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
রাজনগর বিডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ চলাকালীন যাতে কোন রকম শান্তি বিঘ্নিত না হয় সেজন্য রাজনগর থানার পক্ষ থেকে পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। আশা কর্মীদের সাফ বার্তা, “দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা কর্ম বিরতি চালিয়ে যাবেন।”
নতুন গতি 





















