২৭ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
২৭ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

বিভিন্ন দাবি নিয়ে ফুরফুরা আহলে সুন্নাতুল জামাতের ডাকে বিশাল জনসভা, দলিত সংখ্যালঘুদের উপরে বঞ্চনা আর বরদাস্ত করা হবেনা: পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী

আনজুম মুনীর ,কলকাতা :

ফুরফুরা শরীফ আহলে সুন্নাতুল জামাত  এর ডাকে কলকাতার রাসমণি রোডে ঐতিহাসিক রাজ্য সমাবেশ। প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন আহলে সুন্নাতুল জামাতের এই রাজ্য সমাবেশে । বেলা 11 টায় সভা শুরু হয় , তার আগে সকাল থেকেই বহু দূর দূরান্ত গ্রামাঞ্চল মফস্বল থেকে অনুগামীরা রানী রাসমণি রোডে জড়ো হতে শুরু করেন । এই রাজ্য সমাবেশ কে সঞ্চালনা করেন পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী।

আহলে সুন্নাতুল জামাত এবং তা কর্ণধার পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর ডাকে এদিন উপস্থিত ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম, মিরাজ হসেন, পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী,পীরজাদা বাইজিবানি, অল বেঙ্গল মাইনোরিটি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু আফজাল জিন্না, বিশিষ্ট আলেম শামসুল হুদা ফাতেহি, শ্রী অচিন্ত্য গোস্বামী সহ আরও অনেক বিশিষ্ট মানুষেরা।

আহলে সুন্নাতুল জামাত এর তরফ থেকে এদিন একগুচ্ছ দাবি দাওয়া নিয়ে তারা সরকারের কাছে আবেদন জানান এই মঞ্চ থেকে। তারমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হল এক পরিবার এক চাকরি, মূল্য বৃদ্ধি রোধ ফুরফুরা তে দাদা হুজুরের নামে বিশ্ববিদ্যালয়, সংবিধানকে পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্তি করন এবং ওয়াকাফ সম্পত্তির পুনরুদ্ধার করা, আহলে সুন্নাতুল জামাত এর কর্ণধার আব্বাস সিদ্দিকী তার বক্তব্যে এই বিষয়গুলো নিয়ে বারবার সরকারের কাছে আবেদন জানান।

তিনি আরো বলেন এই সমাবেশে আসার সময় তার সংগঠন কে এবং তার অনুগামীদের কে নানাভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে যাতে তারা এই সমাবেশে যেতে না পারেন এবং যারা এটা করেছেন তারা শাসকদলের মদতপুষ্ট বলেই জানা যাচ্ছে । মঞ্চ থেকেই তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়েন তার অনুগামীদের উপরে আঘাত করার প্রতিবাদে । তার বক্তব্য উঠে আসে এই সভায় কে প্রশাসনিকভাবে বাধা দেয়া হয়েছে যাতে এই সভা সফল না হয় কিন্তু তারা সফল হয়নি , আইনি সহায়তা এবং বিভিন্ন সংগঠনের সমর্থনে এই সভা হয় এবং তা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

তিনি আরো বলেন আমরা রাজ্য সরকারের কাছে ওয়াকাফ সম্পত্তি ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আবেদন করছি এর সাথে ওয়াকাফ বোর্ড এর কমিটিতে ফুরফুরা শরীফ উন্নয়ন পর্ষদের শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে এবং সেখানে ফুরফুরা শরীফ আহলে সুন্নাতুল জামাতের একজন সদস্য কে সেই কমিটিতে রাখতে হবে।আরো দাবি জানান এই বাংলায় বহু মানুষ মদ খাওয়ার ফলে মারা যাচ্ছেন তাই বাংলায় মদ নিষিদ্ধ করতে হবে।

আব্বাস সিদ্দিকী বলেন রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলমানদেরকে তাদের ন্যায্য অধিকার দিতে হবে চাকরি দেওয়ার নামে বঞ্চনা বরদাশ্ত করা হবে না প্রলোভন দেখিয়ে আর বেশি দিন মুসলমানদেরকে ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। তিনি বলেন এদেশে মুসলিমদের থেকে সব থেকে বেশি নির্যাতন নির্যাতিত হয়ে থাকেন নিম্নবর্গের হিন্দুরা দলিতরা সুতরাং হিন্দুত্বের ফানুস এবং মুসলিম বিদ্বেষ ছড়িয়ে যে দেশে ভেদাভেদের রাজনীতি চলছে তার প্রতিবাদ তিনি গোটা দেশে ছড়িয়ে দেবেন । দলিত সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপরে কোন প্রকার বঞ্চনা আর বরদাশ্ত করা হবে না

আহলে সুন্নাতুল জামাত এর এ রাজ্য সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এই সভায় বক্তব্য রাখেন আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম,কাজি মিরাজ হোসেন, অচিন্ত্য গোস্বামী আবু আফজাল জিন্না সহ বিশিষ্ট মানুষেরা। সকলের বক্তব্য উঠে আসে একটাই সুর আর বঞ্চনা নয় সংখ্যালঘু দলিত মুসলমান কে তাদের অধিকার দিতে হবে তাদেরকে ভোট ব্যাংকের নামে আর ব্যবহার করা চলবে না তাদের শিক্ষা স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নাগরিক অধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

ইভিএম বিতর্কে উত্তপ্ত খয়রাশোল, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জখম জওয়ান, গ্রেপ্তার ৩

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বিভিন্ন দাবি নিয়ে ফুরফুরা আহলে সুন্নাতুল জামাতের ডাকে বিশাল জনসভা, দলিত সংখ্যালঘুদের উপরে বঞ্চনা আর বরদাস্ত করা হবেনা: পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী

আপডেট : ১ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, শুক্রবার

আনজুম মুনীর ,কলকাতা :

ফুরফুরা শরীফ আহলে সুন্নাতুল জামাত  এর ডাকে কলকাতার রাসমণি রোডে ঐতিহাসিক রাজ্য সমাবেশ। প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষ জড়ো হয়েছিলেন আহলে সুন্নাতুল জামাতের এই রাজ্য সমাবেশে । বেলা 11 টায় সভা শুরু হয় , তার আগে সকাল থেকেই বহু দূর দূরান্ত গ্রামাঞ্চল মফস্বল থেকে অনুগামীরা রানী রাসমণি রোডে জড়ো হতে শুরু করেন । এই রাজ্য সমাবেশ কে সঞ্চালনা করেন পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী।

আহলে সুন্নাতুল জামাত এবং তা কর্ণধার পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর ডাকে এদিন উপস্থিত ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম, মিরাজ হসেন, পীরজাদা নওশাদ সিদ্দিকী,পীরজাদা বাইজিবানি, অল বেঙ্গল মাইনোরিটি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু আফজাল জিন্না, বিশিষ্ট আলেম শামসুল হুদা ফাতেহি, শ্রী অচিন্ত্য গোস্বামী সহ আরও অনেক বিশিষ্ট মানুষেরা।

আহলে সুন্নাতুল জামাত এর তরফ থেকে এদিন একগুচ্ছ দাবি দাওয়া নিয়ে তারা সরকারের কাছে আবেদন জানান এই মঞ্চ থেকে। তারমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হল এক পরিবার এক চাকরি, মূল্য বৃদ্ধি রোধ ফুরফুরা তে দাদা হুজুরের নামে বিশ্ববিদ্যালয়, সংবিধানকে পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্তি করন এবং ওয়াকাফ সম্পত্তির পুনরুদ্ধার করা, আহলে সুন্নাতুল জামাত এর কর্ণধার আব্বাস সিদ্দিকী তার বক্তব্যে এই বিষয়গুলো নিয়ে বারবার সরকারের কাছে আবেদন জানান।

তিনি আরো বলেন এই সমাবেশে আসার সময় তার সংগঠন কে এবং তার অনুগামীদের কে নানাভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে যাতে তারা এই সমাবেশে যেতে না পারেন এবং যারা এটা করেছেন তারা শাসকদলের মদতপুষ্ট বলেই জানা যাচ্ছে । মঞ্চ থেকেই তিনি ক্ষোভে ফেটে পড়েন তার অনুগামীদের উপরে আঘাত করার প্রতিবাদে । তার বক্তব্য উঠে আসে এই সভায় কে প্রশাসনিকভাবে বাধা দেয়া হয়েছে যাতে এই সভা সফল না হয় কিন্তু তারা সফল হয়নি , আইনি সহায়তা এবং বিভিন্ন সংগঠনের সমর্থনে এই সভা হয় এবং তা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

তিনি আরো বলেন আমরা রাজ্য সরকারের কাছে ওয়াকাফ সম্পত্তি ফিরিয়ে দেয়ার জন্য আবেদন করছি এর সাথে ওয়াকাফ বোর্ড এর কমিটিতে ফুরফুরা শরীফ উন্নয়ন পর্ষদের শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে হবে এবং সেখানে ফুরফুরা শরীফ আহলে সুন্নাতুল জামাতের একজন সদস্য কে সেই কমিটিতে রাখতে হবে।আরো দাবি জানান এই বাংলায় বহু মানুষ মদ খাওয়ার ফলে মারা যাচ্ছেন তাই বাংলায় মদ নিষিদ্ধ করতে হবে।

আব্বাস সিদ্দিকী বলেন রাজ্যের সংখ্যালঘু মুসলমানদেরকে তাদের ন্যায্য অধিকার দিতে হবে চাকরি দেওয়ার নামে বঞ্চনা বরদাশ্ত করা হবে না প্রলোভন দেখিয়ে আর বেশি দিন মুসলমানদেরকে ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। তিনি বলেন এদেশে মুসলিমদের থেকে সব থেকে বেশি নির্যাতন নির্যাতিত হয়ে থাকেন নিম্নবর্গের হিন্দুরা দলিতরা সুতরাং হিন্দুত্বের ফানুস এবং মুসলিম বিদ্বেষ ছড়িয়ে যে দেশে ভেদাভেদের রাজনীতি চলছে তার প্রতিবাদ তিনি গোটা দেশে ছড়িয়ে দেবেন । দলিত সংখ্যালঘু মুসলিমদের উপরে কোন প্রকার বঞ্চনা আর বরদাশ্ত করা হবে না

আহলে সুন্নাতুল জামাত এর এ রাজ্য সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এই সভায় বক্তব্য রাখেন আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলাম,কাজি মিরাজ হোসেন, অচিন্ত্য গোস্বামী আবু আফজাল জিন্না সহ বিশিষ্ট মানুষেরা। সকলের বক্তব্য উঠে আসে একটাই সুর আর বঞ্চনা নয় সংখ্যালঘু দলিত মুসলমান কে তাদের অধিকার দিতে হবে তাদেরকে ভোট ব্যাংকের নামে আর ব্যবহার করা চলবে না তাদের শিক্ষা স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নাগরিক অধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।