০৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
০৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

কাঁটাতারের ওপারে রান্না হয় মায়ের ভোগ, এপারে ১২১ বছরের দুর্গাপুজো

কালিয়াচক: মালদহের কালিয়াচক-৩ ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ষষানি গ্রামে ১২১ বছরে পা দিল প্রাচীন সার্বজনীন দুর্গাপুজো। সীমান্তের কাঁটাতারের মাত্র কয়েকশো মিটার দূরে এই পুজোকে ঘিরে আজও পাঁচটি গ্রামের মানুষের আবেগ ও উৎসাহ অটুট।

জানা যায়, অবিভক্ত ভারতের চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা পেশায় তাঁতি ভোলানাথ চৌধুরী সেখানে একাই দুর্গাপুজো করতেন। দেশভাগের পর জমি বিনিময়ের মাধ্যমে তিনি ভারতে এসে ষষানি গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। পরে স্থানীয় সুধীর জামাদার ও সুবোধ সরকারের উদ্যোগে এই পুজো নতুন করে শুরু হয়।

একসময় বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মিষ্টি, দমমিশ্রি, চমচম ও উন্নতমানের তসরের শাড়ি আসত পুজো উপলক্ষে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসার পর সেই যোগাযোগ কার্যত বন্ধ। আগে দুই দেশের সীমান্তবর্তী মানুষ এই পুজোয় অংশ নিতেন, বসত বড় মেলাও। বর্তমানে সেই চিত্র ইতিহাস।

তবে ঐতিহ্যে ছেদ পড়েনি। এখনও লুচি, বুঁদিয়া ও খিচুড়ি ভোগ দেওয়া হয়। পাশেই বিএসএফ ক্যাম্প থাকায় পুজোয় চাঁদা দেওয়া থেকে শুরু করে অংশ নেন বিএসএফ কর্মীরাও। পাঁচ দিন ধরে চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও।

সীমান্তের কাঁটাতার দুই বাংলার মানুষের পথ আলাদা করলেও ষষানির এই পুজো আজও ধরে রেখেছে স্মৃতি, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন।

রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি-এসএফআই সংঘর্ষ, আহত ৩

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

কাঁটাতারের ওপারে রান্না হয় মায়ের ভোগ, এপারে ১২১ বছরের দুর্গাপুজো

আপডেট : ৮ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার

কালিয়াচক: মালদহের কালিয়াচক-৩ ব্লকের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী ষষানি গ্রামে ১২১ বছরে পা দিল প্রাচীন সার্বজনীন দুর্গাপুজো। সীমান্তের কাঁটাতারের মাত্র কয়েকশো মিটার দূরে এই পুজোকে ঘিরে আজও পাঁচটি গ্রামের মানুষের আবেগ ও উৎসাহ অটুট।

জানা যায়, অবিভক্ত ভারতের চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা পেশায় তাঁতি ভোলানাথ চৌধুরী সেখানে একাই দুর্গাপুজো করতেন। দেশভাগের পর জমি বিনিময়ের মাধ্যমে তিনি ভারতে এসে ষষানি গ্রামে বসতি স্থাপন করেন। পরে স্থানীয় সুধীর জামাদার ও সুবোধ সরকারের উদ্যোগে এই পুজো নতুন করে শুরু হয়।

একসময় বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে মিষ্টি, দমমিশ্রি, চমচম ও উন্নতমানের তসরের শাড়ি আসত পুজো উপলক্ষে। সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসার পর সেই যোগাযোগ কার্যত বন্ধ। আগে দুই দেশের সীমান্তবর্তী মানুষ এই পুজোয় অংশ নিতেন, বসত বড় মেলাও। বর্তমানে সেই চিত্র ইতিহাস।

তবে ঐতিহ্যে ছেদ পড়েনি। এখনও লুচি, বুঁদিয়া ও খিচুড়ি ভোগ দেওয়া হয়। পাশেই বিএসএফ ক্যাম্প থাকায় পুজোয় চাঁদা দেওয়া থেকে শুরু করে অংশ নেন বিএসএফ কর্মীরাও। পাঁচ দিন ধরে চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও।

সীমান্তের কাঁটাতার দুই বাংলার মানুষের পথ আলাদা করলেও ষষানির এই পুজো আজও ধরে রেখেছে স্মৃতি, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন।