২৬ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩
২৬ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩

বিখ্যাত প্রাবন্ধিক মরমি কথাকার সাহিত্যিক আব্দুল রাকিবের জীবনাবসান হয়েছে।

সাইফুদ্দিন মল্লিক, নতুন গতি : বাংলা সাহিত্য জগতের এক শূন্যতার সৃস্টি হলো। স্বাধীনতা পরবর্তীতে পশ্চিম বাংলার অন্যতম মুসলিম লেখক সাহিত্য প্রাবন্ধিক বুদ্ধিজীবী ছিলেন আবদুর রাকিব। ৭৮ বছর বয়েসে বর্ষীয়ান সাহিত্যিক আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আজ ২১ নভেম্বর বুধবার সকাল ছয়টাতে নিজ বাসভবন এদরাকপুর ( মরারাই, বীরভূম )গ্রামে ইন্তেকাল করেন।ফজরের নামাজ আদায়ে উঠে স্টকে ইন্তেকাল করেন। মুসলিম সাহিত্য জগৎ অভিভাবক হারালেন।

মুরারই বীরভূমের মানুষ। শিক্ষা ও কর্মজীবন বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে। স্কুলের পড়াশুনা বীরভূমে, উচ্চ শিক্ষা জঙ্গিপুর কলেজে। মৌলিক রচনার প্রথম স্বাক্ষর পড়ে কলেজ ম্যাগাজিনে। তখন তিনি আই এ পড়ুয়া। এর মাত্র দুই বছরের মাথায় শিক্ষকতার পাশাপাশি শুরু হয় সাহিত্য যাত্রা। আবদুল আজীজ আল-আমানের ‘জাগরণ’ , এবং কাফেলাতে তাঁর সাহিত্য প্রতিভার বিকাশ ঘটে, পরবর্তী কালে যা প্রগাঢ়তর হয়। তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘ চরণ কবি গুনামী’ প্রকাশিত ( ১৯৭৮ ) হওয়ামাত্র বাংলার বিগদ্ধ সমাজে সমাদৃত হন, বাংলা সাহিত্য জগতে নতুন ভাবের সৃস্টি হয়। তার উল্লেখযোগ্য অন্য কয়েকটি গ্রন্থ : ‘ প্রতিকূলের একজন’ , ‘বাদশাহ ও বাবুই বৃত্তান্ত’ , সংগ্রামী নায়ক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ’ , ‘ আল – কুরআনের উপমা- ব্যঞ্জনা’ , ‘ইসলামের নারীর অধিকার ও অবস্থান’ , একত্ববাদের মশাল-দৌড়’, মহিলা সাহাবী’ , ‘পথ পসারীর পত্রোত্তর’  ইত্যাদি। অনূদিত গ্রন্থ : ‘ইসলাম প্রসারে ইতিকথা’ ( টি ডব্লিউ আর্নল্ড ), ‘স্পেনের মুসলিম ইতিকথা’ ( ডোযি ), ‘প্রাচ্যবাদ’ (মরিয়ম জামিলা), ‘কাশফুল মহাজুব’ ( নিকলসন) ইত্যাদি। প্রচুর পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

১৬ মার্চ ১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহন করেন কথাকার আবদুর রাকিব। মরমি গল্পকার, কথার রূপকার আমাদের কাঁদিয়ে চলে গেলেন। তার মনে ও মননে কোথায় যেন সমর্পনের একটা স্বর ও সুর থাকে। যে কারনে তার লেখামালার অনুভূত হয় বিরল এক মরমি নির্যাস। তার লেখার ভাষা ও ভঙ্গি ব্যবহার অবধারণ ক্ষমতা যতেষ্ট নাড়া দেয়। বাস্তবের ধূসর পেক্ষাপটে, মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তি ও সৌন্দর্যের উন্মোচন ঘটেছে লেখার মধ্যে। স্বচ্ছ, সাবলীল এক মৌল সৌন্দর্যে অনুরণিত বইগুলি অনবদ্য সৃষ্টি হিসেবেই চমৎকৃত হয়ে উঠেছে। অসাধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এই গদ্যকার শব্দ, ক্রিয়াপদ, বিশেষণ, শব্দব্যঞ্জনা নিয়ে বারবার পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। তাঁর ভাষাশৈলীতে মুগ্ধ হতে হয়।

সর্বাধিক পাঠিত

ইভিএম বিতর্কে উত্তপ্ত খয়রাশোল, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জখম জওয়ান, গ্রেপ্তার ৩

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বিখ্যাত প্রাবন্ধিক মরমি কথাকার সাহিত্যিক আব্দুল রাকিবের জীবনাবসান হয়েছে।

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার

সাইফুদ্দিন মল্লিক, নতুন গতি : বাংলা সাহিত্য জগতের এক শূন্যতার সৃস্টি হলো। স্বাধীনতা পরবর্তীতে পশ্চিম বাংলার অন্যতম মুসলিম লেখক সাহিত্য প্রাবন্ধিক বুদ্ধিজীবী ছিলেন আবদুর রাকিব। ৭৮ বছর বয়েসে বর্ষীয়ান সাহিত্যিক আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। আজ ২১ নভেম্বর বুধবার সকাল ছয়টাতে নিজ বাসভবন এদরাকপুর ( মরারাই, বীরভূম )গ্রামে ইন্তেকাল করেন।ফজরের নামাজ আদায়ে উঠে স্টকে ইন্তেকাল করেন। মুসলিম সাহিত্য জগৎ অভিভাবক হারালেন।

মুরারই বীরভূমের মানুষ। শিক্ষা ও কর্মজীবন বীরভূম ও মুর্শিদাবাদে। স্কুলের পড়াশুনা বীরভূমে, উচ্চ শিক্ষা জঙ্গিপুর কলেজে। মৌলিক রচনার প্রথম স্বাক্ষর পড়ে কলেজ ম্যাগাজিনে। তখন তিনি আই এ পড়ুয়া। এর মাত্র দুই বছরের মাথায় শিক্ষকতার পাশাপাশি শুরু হয় সাহিত্য যাত্রা। আবদুল আজীজ আল-আমানের ‘জাগরণ’ , এবং কাফেলাতে তাঁর সাহিত্য প্রতিভার বিকাশ ঘটে, পরবর্তী কালে যা প্রগাঢ়তর হয়। তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘ চরণ কবি গুনামী’ প্রকাশিত ( ১৯৭৮ ) হওয়ামাত্র বাংলার বিগদ্ধ সমাজে সমাদৃত হন, বাংলা সাহিত্য জগতে নতুন ভাবের সৃস্টি হয়। তার উল্লেখযোগ্য অন্য কয়েকটি গ্রন্থ : ‘ প্রতিকূলের একজন’ , ‘বাদশাহ ও বাবুই বৃত্তান্ত’ , সংগ্রামী নায়ক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ’ , ‘ আল – কুরআনের উপমা- ব্যঞ্জনা’ , ‘ইসলামের নারীর অধিকার ও অবস্থান’ , একত্ববাদের মশাল-দৌড়’, মহিলা সাহাবী’ , ‘পথ পসারীর পত্রোত্তর’  ইত্যাদি। অনূদিত গ্রন্থ : ‘ইসলাম প্রসারে ইতিকথা’ ( টি ডব্লিউ আর্নল্ড ), ‘স্পেনের মুসলিম ইতিকথা’ ( ডোযি ), ‘প্রাচ্যবাদ’ (মরিয়ম জামিলা), ‘কাশফুল মহাজুব’ ( নিকলসন) ইত্যাদি। প্রচুর পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হয়েছেন।

১৬ মার্চ ১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহন করেন কথাকার আবদুর রাকিব। মরমি গল্পকার, কথার রূপকার আমাদের কাঁদিয়ে চলে গেলেন। তার মনে ও মননে কোথায় যেন সমর্পনের একটা স্বর ও সুর থাকে। যে কারনে তার লেখামালার অনুভূত হয় বিরল এক মরমি নির্যাস। তার লেখার ভাষা ও ভঙ্গি ব্যবহার অবধারণ ক্ষমতা যতেষ্ট নাড়া দেয়। বাস্তবের ধূসর পেক্ষাপটে, মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তি ও সৌন্দর্যের উন্মোচন ঘটেছে লেখার মধ্যে। স্বচ্ছ, সাবলীল এক মৌল সৌন্দর্যে অনুরণিত বইগুলি অনবদ্য সৃষ্টি হিসেবেই চমৎকৃত হয়ে উঠেছে। অসাধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এই গদ্যকার শব্দ, ক্রিয়াপদ, বিশেষণ, শব্দব্যঞ্জনা নিয়ে বারবার পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছেন। তাঁর ভাষাশৈলীতে মুগ্ধ হতে হয়।