০৬ জুলাই ২০২৬, সোমবার, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
০৬ জুলাই ২০২৬, সোমবার, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

তৃণমূল ভবনের ‘দখল’ নিল ঋতব্রত শিবির!তারপর?

নিউজ ডেস্ক: এবার যুদ্ধ তৃণমূল ভবন ও পতাকা নিয়ে। যুদ্ধ অবশ্য বিপুল ফান্ড নিয়েও। এই মুহূর্তে দুই ভাগে বিভক্ত তৃণমূলেরই প্রয়োজন ‘তৃণমূল ভবন’। আর সেই ভবন জমা নিলে তৃণমূল ঋতব্রত শিবির। বঙ্গ রাজনীতিতে এক বেনজির অধ্যায় তৈরি করে ‘তৃণমূল ভবনে’র গেটে পড়ল ‘মমতাহীন’ পোস্টার। সেটিতে স্পষ্ট অক্ষরে জ্বলজ্বল করছে চেয়ারম্যান অরূপ রায়ের নাম। ঝুলল নতুন তালাও। ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের অন্যতম মুখ আখরুজ্জামান আনসারি বলেন, “এই ভবন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের আবেগ। আমরা এখানেই বসব। বাড়িমালিক মণ্টু সাহার সঙ্গে এই মর্মে চুক্তিও সই হয়েছে।” শুধু তাই নয়, নতুন করে কার্যালয়ের দরজায় নতুন তালা লাগানো হয়েছে। গেটের চাবি এখন তাঁদের কাছেই থাকবে। সেই কথাই জানিয়ে দেন আখরুজ্জামান। এদিন কার্যালয়ের বাইরে নতুন করে দলের পোস্টার ঝোলায় ঋত-শিবির। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নেই। নেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিও। কেবল চেয়ারপার্সন হিসেবে নাম রয়েছে অরূপ রায়ের। এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক তথা কালীঘাট শিবিরের অন্যতম মুখ কুণাল ঘোষ সেখানে হাজির হন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ওই শিবিরের আইটি সেলের প্রধান উপাসনা চৌধুরীও। দরজায় তালা লাগানো বলে কার্যালয়ে ঢুকতে পারেননি কুণাল ও সঙ্গে থাকা লোকজন।

কুনাল ঋতব্রত শিবিরকে কটাক্ষ করে এই ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে জানিয়েছেন। বলেন, “যারা এসেছিলেন, তাঁরা কি নির্দল প্রতীকে জিতেছেন? দায়িত্বজ্ঞানহীন কোনও কাজ করব না। কর্মীরা কষ্ট পাচ্ছেন। এদিকে এঁরা হোটেল, বিজেপি নেতাদের বাড়ি যাচ্ছেন।” ঘটনাস্থলে প্রগতি ময়দান থানার পুলিশও গিয়ে পৌঁছয়। কার্যত গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। যাতে কোনও ঝামেলা, বিবাদ না হয়, সেদিকে নজর রেখেই নিরাপত্তা আঁটসাঁট করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ও দলীয় কোষাগার কাদের জিম্মায় থাকবে? তাই নিয়ে কার্যত দুই তরফে দড়ি টানাটানি চলছে। গতকাল, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন ঋতব্রত-সহ অন্যান্যরা। দিল্লি থেকে ফিরেই এবার বাইপাসের ধারে তৃণমূলের আদি কার্যালয় পৌঁছে গেলেন ঋতব্রতরা। সেখানে বসতেও দেখা গেল তাঁদের। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, “আমরাই তৃণমূল, এটাই আমাদের কার্যালয়।”

সর্বাধিক পাঠিত

শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ছিল না বিদ্যুৎ সংযোগ

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

তৃণমূল ভবনের ‘দখল’ নিল ঋতব্রত শিবির!তারপর?

আপডেট : ৫ জুলাই ২০২৬, রবিবার

নিউজ ডেস্ক: এবার যুদ্ধ তৃণমূল ভবন ও পতাকা নিয়ে। যুদ্ধ অবশ্য বিপুল ফান্ড নিয়েও। এই মুহূর্তে দুই ভাগে বিভক্ত তৃণমূলেরই প্রয়োজন ‘তৃণমূল ভবন’। আর সেই ভবন জমা নিলে তৃণমূল ঋতব্রত শিবির। বঙ্গ রাজনীতিতে এক বেনজির অধ্যায় তৈরি করে ‘তৃণমূল ভবনে’র গেটে পড়ল ‘মমতাহীন’ পোস্টার। সেটিতে স্পষ্ট অক্ষরে জ্বলজ্বল করছে চেয়ারম্যান অরূপ রায়ের নাম। ঝুলল নতুন তালাও। ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের অন্যতম মুখ আখরুজ্জামান আনসারি বলেন, “এই ভবন তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের আবেগ। আমরা এখানেই বসব। বাড়িমালিক মণ্টু সাহার সঙ্গে এই মর্মে চুক্তিও সই হয়েছে।” শুধু তাই নয়, নতুন করে কার্যালয়ের দরজায় নতুন তালা লাগানো হয়েছে। গেটের চাবি এখন তাঁদের কাছেই থাকবে। সেই কথাই জানিয়ে দেন আখরুজ্জামান। এদিন কার্যালয়ের বাইরে নতুন করে দলের পোস্টার ঝোলায় ঋত-শিবির। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নেই। নেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিও। কেবল চেয়ারপার্সন হিসেবে নাম রয়েছে অরূপ রায়ের। এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক তথা কালীঘাট শিবিরের অন্যতম মুখ কুণাল ঘোষ সেখানে হাজির হন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন ওই শিবিরের আইটি সেলের প্রধান উপাসনা চৌধুরীও। দরজায় তালা লাগানো বলে কার্যালয়ে ঢুকতে পারেননি কুণাল ও সঙ্গে থাকা লোকজন।

কুনাল ঋতব্রত শিবিরকে কটাক্ষ করে এই ঘটনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে জানিয়েছেন। বলেন, “যারা এসেছিলেন, তাঁরা কি নির্দল প্রতীকে জিতেছেন? দায়িত্বজ্ঞানহীন কোনও কাজ করব না। কর্মীরা কষ্ট পাচ্ছেন। এদিকে এঁরা হোটেল, বিজেপি নেতাদের বাড়ি যাচ্ছেন।” ঘটনাস্থলে প্রগতি ময়দান থানার পুলিশও গিয়ে পৌঁছয়। কার্যত গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। যাতে কোনও ঝামেলা, বিবাদ না হয়, সেদিকে নজর রেখেই নিরাপত্তা আঁটসাঁট করা হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ও দলীয় কোষাগার কাদের জিম্মায় থাকবে? তাই নিয়ে কার্যত দুই তরফে দড়ি টানাটানি চলছে। গতকাল, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুলবেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করেন ঋতব্রত-সহ অন্যান্যরা। দিল্লি থেকে ফিরেই এবার বাইপাসের ধারে তৃণমূলের আদি কার্যালয় পৌঁছে গেলেন ঋতব্রতরা। সেখানে বসতেও দেখা গেল তাঁদের। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, “আমরাই তৃণমূল, এটাই আমাদের কার্যালয়।”