০৯ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
০৯ অক্টোবর ২০২৬, শুক্রবার, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

হুমায়ুন কবিরের মন্তব্যে উত্তাল রাজনীতি, শিলিগুড়িতে সাংবাদিক সম্মেলনে কড়া প্রতিবাদ AIMO-এর

নিজস্ব প্রতিবেদক, শিলিগুড়ি : মুর্শিদাবাদের ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার শিলিগুড়ি জার্নালিস্টস’ ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করল অল ইন্ডিয়া মাইনরিটি অর্গানাইজেশন (AIMO)। সংগঠনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাসির আহমেদ স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই ধরনের মন্তব্য রাজনীতির শালীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধ্যাপক নাসির আহমেদ অভিযোগ করেন, কলকাতা পুরসভার মেয়র তথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে উদ্দেশ্য করে হুমায়ুন কবির যে মন্তব্য করেছেন, তা অশালীন ও বিপজ্জনক। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত আক্রমণের সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে ওই বিধায়ক ফিরহাদ হাকিমের পারিবারিক পরিচয়, ধর্মীয় পটভূমি এবং বাবা-মাকে টেনে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জড়িয়ে আপত্তিকর ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
AIMO চেয়ারম্যানের মতে, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এই ধরনের ভাষা ও আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, কোনও বিধায়কেরই অধিকার নেই কারও ধর্ম, পরিবার বা ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে কটূক্তি করার। এতে শুধু ব্যক্তিগত মর্যাদাই ক্ষুণ্ণ হয় না, সমাজে বিভাজন ও বিদ্বেষ ছড়ানোর আশঙ্কাও বাড়ে।
এছাড়াও হুমায়ুন কবিরের আরেকটি কথিত মন্তব্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন অধ্যাপক আহমেদ। তাঁর অভিযোগ, ফিরহাদ হাকিমকে মুর্শিদাবাদে ঢুকতে দেওয়া হবে না—এমন বক্তব্য কার্যত হুমকির শামিল। তিনি বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির মুখে এ ধরনের ভয় দেখানো বক্তব্য আইনশাসন ও গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অধ্যাপক নাসির আহমেদ ঘোষণা করেন, হুমায়ুন কবিরের মন্তব্যের বিরুদ্ধে অল ইন্ডিয়া মাইনরিটি অর্গানাইজেশন রাজপথে নামবে। শীঘ্রই প্রতিবাদ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিধায়কের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ ও জবাবদিহির দাবি জানানো হয়েছে।
এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং বিষয়টি আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।

বোলপুরে রাজধানী সার্কাসের শুভ উদ্বোধন, প্রথম দিনেই দর্শকদের ভিড়

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

হুমায়ুন কবিরের মন্তব্যে উত্তাল রাজনীতি, শিলিগুড়িতে সাংবাদিক সম্মেলনে কড়া প্রতিবাদ AIMO-এর

আপডেট : ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, রবিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক, শিলিগুড়ি : মুর্শিদাবাদের ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার শিলিগুড়ি জার্নালিস্টস’ ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে হুমায়ুন কবিরের বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করল অল ইন্ডিয়া মাইনরিটি অর্গানাইজেশন (AIMO)। সংগঠনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাসির আহমেদ স্পষ্ট ভাষায় জানান, এই ধরনের মন্তব্য রাজনীতির শালীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধ্যাপক নাসির আহমেদ অভিযোগ করেন, কলকাতা পুরসভার মেয়র তথা রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে উদ্দেশ্য করে হুমায়ুন কবির যে মন্তব্য করেছেন, তা অশালীন ও বিপজ্জনক। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত আক্রমণের সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে ওই বিধায়ক ফিরহাদ হাকিমের পারিবারিক পরিচয়, ধর্মীয় পটভূমি এবং বাবা-মাকে টেনে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জড়িয়ে আপত্তিকর ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
AIMO চেয়ারম্যানের মতে, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এই ধরনের ভাষা ও আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, কোনও বিধায়কেরই অধিকার নেই কারও ধর্ম, পরিবার বা ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে কটূক্তি করার। এতে শুধু ব্যক্তিগত মর্যাদাই ক্ষুণ্ণ হয় না, সমাজে বিভাজন ও বিদ্বেষ ছড়ানোর আশঙ্কাও বাড়ে।
এছাড়াও হুমায়ুন কবিরের আরেকটি কথিত মন্তব্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন অধ্যাপক আহমেদ। তাঁর অভিযোগ, ফিরহাদ হাকিমকে মুর্শিদাবাদে ঢুকতে দেওয়া হবে না—এমন বক্তব্য কার্যত হুমকির শামিল। তিনি বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির মুখে এ ধরনের ভয় দেখানো বক্তব্য আইনশাসন ও গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অধ্যাপক নাসির আহমেদ ঘোষণা করেন, হুমায়ুন কবিরের মন্তব্যের বিরুদ্ধে অল ইন্ডিয়া মাইনরিটি অর্গানাইজেশন রাজপথে নামবে। শীঘ্রই প্রতিবাদ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিধায়কের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ ও জবাবদিহির দাবি জানানো হয়েছে।
এই বিতর্ককে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং বিষয়টি আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।