০৭ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
০৭ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩

পশ্চিমবঙ্গ INTUC সেবাদলের প্রতিবাদ মিছিল

কলকাতা: পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার কলকাতার বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটে আলিয়া হোটেলের বিপরীত দিক থেকে ভিক্টোরিয়া হাউস সংলগ্ন একটি পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করল পশ্চিমবঙ্গ INTUC সেবাদল। কেন্দ্রের ইথানল-ভিত্তিক জ্বালানি নীতির বিরোধিতা করে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ INTUC সেবাদলের সভাপতি প্রমোদ পান্ডে এবং সহ-সভাপতি শঙ্কর নাথ হাজরা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই E20, E80 এবং E100 ইথানল-ভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহারকে উৎসাহিত করছে। তাদের দাবি, বর্তমানে দেশের অধিকাংশ পেট্রোলচালিত গাড়ি এই ধরনের উচ্চমাত্রার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির জন্য উপযুক্ত নয়। এর ফলে সাধারণ গাড়ির মালিকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

মিছিল থেকে আরও দাবি করা হয়, অতিরিক্ত ইথানল উৎপাদনের জন্য আখ চাষের ওপর নির্ভরতা বাড়লে জল ব্যবহারের চাপও বৃদ্ধি পাবে। এতে কৃষিক্ষেত্রে জলসংকট আরও প্রকট হতে পারে এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা।

সংগঠনের নেতারা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখা হয়। সেই অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিচার না করে ভারতে ১০০ শতাংশ ইথানলচালিত গাড়ির প্রচার করা হলে সাধারণ মানুষ, কৃষক এবং গাড়ি শিল্প—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সভাপতি প্রমোদ পান্ডে বলেন, কেন্দ্রের এই নীতির ফলে পরিবেশ, জলসম্পদ এবং দেশের পরিবহন ব্যবস্থা এক অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। তিনি দাবি করেন, বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ছাড়া এই ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা উচিত নয়।

সহ-সভাপতি শঙ্কর নাথ হাজরা বলেন, দেশের কোটি কোটি পেট্রোলচালিত গাড়ির মালিকদের স্বার্থ বিবেচনা না করে ইথানল নীতি চাপিয়ে দেওয়া হলে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বহন করতে হবে। তিনি সরকারের কাছে এই নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

মিছিল শেষে বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রের জ্বালানি নীতি পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন। পাশাপাশি পরিবেশ, কৃষক ও সাধারণ গাড়িচালকদের স্বার্থ রক্ষায় বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান সংগঠনের নেতৃত্ব।

পটাশপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান, চালু হলো নতুন দুটি সরকারি বাস পরিষেবা

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

পশ্চিমবঙ্গ INTUC সেবাদলের প্রতিবাদ মিছিল

আপডেট : ৬ জুলাই ২০২৬, সোমবার

কলকাতা: পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার কলকাতার বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটে আলিয়া হোটেলের বিপরীত দিক থেকে ভিক্টোরিয়া হাউস সংলগ্ন একটি পেট্রোল পাম্প পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিলের আয়োজন করল পশ্চিমবঙ্গ INTUC সেবাদল। কেন্দ্রের ইথানল-ভিত্তিক জ্বালানি নীতির বিরোধিতা করে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। মিছিলে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গ INTUC সেবাদলের সভাপতি প্রমোদ পান্ডে এবং সহ-সভাপতি শঙ্কর নাথ হাজরা।

সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই E20, E80 এবং E100 ইথানল-ভিত্তিক জ্বালানির ব্যবহারকে উৎসাহিত করছে। তাদের দাবি, বর্তমানে দেশের অধিকাংশ পেট্রোলচালিত গাড়ি এই ধরনের উচ্চমাত্রার ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির জন্য উপযুক্ত নয়। এর ফলে সাধারণ গাড়ির মালিকদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে।

মিছিল থেকে আরও দাবি করা হয়, অতিরিক্ত ইথানল উৎপাদনের জন্য আখ চাষের ওপর নির্ভরতা বাড়লে জল ব্যবহারের চাপও বৃদ্ধি পাবে। এতে কৃষিক্ষেত্রে জলসংকট আরও প্রকট হতে পারে এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা।

সংগঠনের নেতারা বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ইথানল মিশ্রিত জ্বালানির ব্যবহার নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখা হয়। সেই অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিচার না করে ভারতে ১০০ শতাংশ ইথানলচালিত গাড়ির প্রচার করা হলে সাধারণ মানুষ, কৃষক এবং গাড়ি শিল্প—সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সভাপতি প্রমোদ পান্ডে বলেন, কেন্দ্রের এই নীতির ফলে পরিবেশ, জলসম্পদ এবং দেশের পরিবহন ব্যবস্থা এক অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে। তিনি দাবি করেন, বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি ছাড়া এই ধরনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা উচিত নয়।

সহ-সভাপতি শঙ্কর নাথ হাজরা বলেন, দেশের কোটি কোটি পেট্রোলচালিত গাড়ির মালিকদের স্বার্থ বিবেচনা না করে ইথানল নীতি চাপিয়ে দেওয়া হলে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা বহন করতে হবে। তিনি সরকারের কাছে এই নীতি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।

মিছিল শেষে বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রের জ্বালানি নীতি পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন। পাশাপাশি পরিবেশ, কৃষক ও সাধারণ গাড়িচালকদের স্বার্থ রক্ষায় বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান সংগঠনের নেতৃত্ব।