আনজুম মুনির, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সম্পূর্ণ ‘অরাজক’ অবস্থা বলতে যা বোঝাই তাই চলেছিলে গত ১৫ বছর ধরে। তার আরো একটা উদাহরণ ক্যানিং। ছিল ম্যানগ্রোভ জঙ্গল। হয়ে গেল ‘নেতাজি পল্লি’। নদীর ধারে গজিয়ে উঠল কলোনি। আর সেই কলোনিতে মা-মাটি-মানুষের দল তৃণমূলের নেতারা ‘মাটি’ বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ। দুর্নীতির এই ভয়ঙ্কর অভিযোগ উঠল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে। মাতলা ব্রিজে যাওয়ার রাস্তার ডান দিকে থাকা আস্ত একটি ম্যানগ্রোভ জঙ্গল কেটে, নদীর চর ভরাট করে তৈরি হয়ে গিয়েছে এক বিশাল কলোনি।
সুন্দরবনের ‘রক্ষাকবচ’ ম্যানগ্রোভ ধ্বংস এবং জলাশয় বেআইনিভাবে ভরাটের ছবি ধরা পড়ল টিভি ৯ বাংলার ক্যামেরায়। তৃণমূল নেতারা জঙ্গল কেটে তৈরি নতুন কলোনির নাম দিয়েছেন ‘নেতাজি পল্লি’। বর্তমানে এই কলোনিতে কয়েকশো মানুষের বসবাস। কিন্তু এই বসতি গড়ে ওঠার পিছনে নানা অভিযোগ সামনে আসছে।
গ্রামবাসীদের বিস্ফোরক দাবি, এই চরের জমি পাওয়ার জন্য তাঁরা কেউ ২ লক্ষ, কেউ ৪ লক্ষ, আবার কেউ ৫ লক্ষ টাকা করে স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। গরিব অসহায় মানুষগুলো শাসকদলের নেতাদের কথায় ভরসা করেই সেখানে ঘর বেঁধেছেন। কিন্তু এত টাকা দেওয়ার পরও তাঁদের কোনও সরকারি বা আইনি দলিল দেওয়া হয়নি। টাকা দেওয়ার প্রমাণ কিংবা দলিল দেখতে চাওয়া হলে গ্রামবাসীরা একটি কাগজ দেখান। যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যাবে। কোনও সরকারি কাগজ নয়, ‘প্রান্তিক সঙ্ঘ’ নামের একটি স্থানীয় ক্লাবের প্যাড বা লেটারহেডকে দলিল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।সেখানে অত্যন্ত ‘মানবিক’ ভাষায় লেখা রয়েছে, “১ নম্বর দিঘির পাড় মাতলা নদীর চরে বাসস্থানের উপযুক্ত জায়গা সংরক্ষিত আছে। যে সমস্ত পরিবার বাসস্থানহীন অথবা গৃহহীন অবস্থায় দিনযাপন করছে, তাদের কথা ভেবে দীন দরিদ্র পরিবারের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”
নতুন গতি 
























