নিজস্ব সংবাদদাতা : মেমারিঃ পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারির কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সুশৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পন্ন হল ঈদ – উল – আজহা’র নামায । হাজার হাজার মুসল্লি নামাযে অংশগ্রহণ করেন। নামায শুরু হওয়ার পূর্বে উপস্থিত মুসলিম জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দান করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও মামূন ন্যাশনাল স্কুলের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুহাম্মদ ইয়াসীন। তাঁর পিতা বক্তাসম্রাট অ্যাখ্যায়িত ঐতিহাসিক গোলাম আহমাদ মোর্তজা পূর্বে এখানে তাঁর অসাধারণ জনসম্মোহনি ক্ষমতায় মানুষকে আবেগ আপ্লুত করে তুলতেন। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে তাঁর সুযোগ্য সন্তান কাজী মুহাম্মদ ইয়াসীন প্রেরণাদায়ক বক্তব্যে মানুষকে অনুপ্রাণিত করে চলেছেন।
কেন্দ্রীয় ঈদগাহের মোতায়াল্লি খবিরউদ্দিন আহমেদ জানান, দ্বীনি বক্তব্য শুরু হয় সকাল সাতটায়। জামাত শুরু হয় সাড়ে সাতটা নাগাদ। জানা যায়, পবিত্র ঈদ – উল – আজহা উপলক্ষে আজ সকালে এলাকার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সময়ের পূর্বে নানা বয়সের মানুষ নতুন পোশাকে ঈদগাহের দিকে আসতে শুরু করেন। শিশু-কিশোরদের আনন্দ, তরুণদের উচ্ছ্বাস এবং প্রবীণদের আন্তরিক উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশটি হয়ে ওঠে উৎসবমুখর ও প্রাণবন্ত।
জামাত শুরুর পূর্বে আধ ঘন্টা বক্তব্য প্রদান করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও মামূন ন্যাশনাল স্কুলের সম্পাদক কাজী মুহাম্মদ ইয়াসীন । তিনি তাঁর বক্তব্যে ঈদ উল আজহা’র প্রকৃত তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঈদ উল আজহা কেবল আনন্দের উৎসব নয়, ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও ত্যাগের শিক্ষা দেয়। সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার জন্য সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি । এছাড়া অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্বও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ঈদ মানে খুশি, – ঈদ মানে আনন্দের একটা স্রোত। এই খুশি নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এই খুশি আমাদের ভারতের যে কৃষ্টি- কালচার, আমরা যেখানে বসবাস করি, প্রতিবেশী ও কাছাকাছি মানুষদের কে নিয়েই হয়। এই যে সংস্কৃতিকে আরও মজবুত করতে হবে। আমি আমার সমাজে আবদ্ধ থাকব এটা নয় । আমার আশেপাশে যাঁরাই আছেন তাঁদেরকে নিয়েই এই আনন্দটা উপভোগ করব । এবং এই আনন্দের মধ্য দিয়ে আমি আমার জাতি, আমার দেশ, আমার শহর, আমার রাজ্যকে শক্তিশালী করব । এবং আমরা একতাবদ্ধ থাকব যাতে আমরা একটা সুশৃঙ্খল নাগরিক হিসাবে থেকে এই দেশকে আরও উন্নতির পথে নিয়ে যেতে পারি।
বক্তব্যের শেষে নির্ধারিত সময়ে ঈদ উল আজহা’র নামায অনুষ্ঠিত হয়। হাজারো মুসল্লি একসঙ্গে তাকবির ধ্বনির মাধ্যমে নামাজ আদায় করেন। নামাজ পরিচালনা করেন জামিয়া ইসলামিয়া মদীনাতুল উলূমের অধ্যাপক মুফতি আইনূল হক কাসেমী । নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র বিশ্বে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় অনেক মুসল্লিকে আবেগাপ্লুত হয়ে দোয়ায় অংশ নিতে দেখা যায়। নামাজ ও মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে ঈদগাহ প্রাঙ্গণে এক আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিশুদের মধ্যে ছিল বাড়তি আনন্দ ও উৎসাহ। অনেকেই পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
ঈদ – উল – আজহা’র জামাতকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছিল। সব মিলিয়ে শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এবারের নামায সম্পন্ন হয়েছে। ধর্মীয় মূল্যবোধ, সৌহার্দ্য ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে মানুষের ঘরে ফেরা, ঈদ – উল – আজহা’র আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলেছে।
৩০ মে ২০২৬, শনিবার, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
BREAKING :
মেমারির কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সম্প্রীতির বার্তা কাজী মুহাম্মদ ইয়াসীনের কন্ঠে সর্বধর্ম সমন্বয়
-
নতুন গতি - আপডেট : ৩০ মে ২০২৬, শনিবার
- 27
সর্বাধিক পাঠিত
নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder
























