২১ অগাস্ট ২০২৬, শুক্রবার, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
২১ অগাস্ট ২০২৬, শুক্রবার, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

বীরভূমে পদ্মশ্রী পূর্ণদাস বাউলের জমি জবরদখল, অভিযুক্ত অনুব্রত ও চন্দ্রনাথ সিনহা

খান আরশাদ, বীরভূম: পৈতৃক ও স্বত্বাধিকার থাকা জমি বেআইনিভাবে দখল করে নেওয়ার অভিযোগে জেলা প্রশাসনের দরবারে হাজির হলেন প্রখ্যাত বাউলসম্রাট পদ্মশ্রী পূর্ণদাস বাউল ও তাঁর পুত্র। বীরভূমের ইলামবাজারের কামারপাড়া এলাকায় তাঁদের মালিকানাধীন প্রায় ৪ বিঘা জমি দীর্ঘদিন ধরে বেদখল হয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। জমি পুনরুদ্ধারের আর্জি জানিয়ে জেলাশাসকের কাছে লিখিত স্মারকলিপি জমা দিলেন এই প্রবীণ শিল্পী।
শিল্পী পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালে কেনা ওই জমিটির সমস্ত বৈধ নথিপত্র এবং ১৯৫৮ সালের দলিল তাঁদের কাছে রয়েছে। কিন্তু সুকুল টুডু নামের এক ব্যক্তির নামে সেখানে অবৈধ নির্মাণ ও দখলদারি শুরু হয়। পূর্ণদাস বাউলের ছেলে দিব্যেন্দু দাস বাউল অভিযোগ করেন, প্রথমে অল্প কয়েকটি অস্থায়ী কাঠামো তৈরি হলেও ধীরে ধীরে তা পাকা দালান ও বহুতলে রূপ নেয়। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বারবার আর্জি জানানো সত্ত্বেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
জমি দখলের পেছনে বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতাদের ভূমিকা রয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন শিল্পীর ছেলে। তাঁর দাবি, অনুব্রত মণ্ডল ও চন্দ্রনাথ সিংহের মতো শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সেসময় মদত ছিল।
পূর্ণদাস বাউল জানান, ওই জমিতে কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থ নেই তাঁদের। জমিটি পুনরুদ্ধার হলে সেখানে বাউল সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের স্বার্থে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাধনা কেন্দ্র (আশ্রম) গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঐতিহ্যবাহী বাউল তত্ত্ব ও সঙ্গীতের পাঠ নিতে পারে।
জেলাশাসক বিষয়টি খতিয়ে দেখার এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে টিকিট কেটেও বিনা চিকিৎসায় বাড়ি ফিরলেন রোগীরা

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বীরভূমে পদ্মশ্রী পূর্ণদাস বাউলের জমি জবরদখল, অভিযুক্ত অনুব্রত ও চন্দ্রনাথ সিনহা

আপডেট : ২০ অগাস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার
খান আরশাদ, বীরভূম: পৈতৃক ও স্বত্বাধিকার থাকা জমি বেআইনিভাবে দখল করে নেওয়ার অভিযোগে জেলা প্রশাসনের দরবারে হাজির হলেন প্রখ্যাত বাউলসম্রাট পদ্মশ্রী পূর্ণদাস বাউল ও তাঁর পুত্র। বীরভূমের ইলামবাজারের কামারপাড়া এলাকায় তাঁদের মালিকানাধীন প্রায় ৪ বিঘা জমি দীর্ঘদিন ধরে বেদখল হয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। জমি পুনরুদ্ধারের আর্জি জানিয়ে জেলাশাসকের কাছে লিখিত স্মারকলিপি জমা দিলেন এই প্রবীণ শিল্পী।
শিল্পী পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালে কেনা ওই জমিটির সমস্ত বৈধ নথিপত্র এবং ১৯৫৮ সালের দলিল তাঁদের কাছে রয়েছে। কিন্তু সুকুল টুডু নামের এক ব্যক্তির নামে সেখানে অবৈধ নির্মাণ ও দখলদারি শুরু হয়। পূর্ণদাস বাউলের ছেলে দিব্যেন্দু দাস বাউল অভিযোগ করেন, প্রথমে অল্প কয়েকটি অস্থায়ী কাঠামো তৈরি হলেও ধীরে ধীরে তা পাকা দালান ও বহুতলে রূপ নেয়। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বারবার আর্জি জানানো সত্ত্বেও কোনো প্রতিকার মেলেনি।
জমি দখলের পেছনে বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতাদের ভূমিকা রয়েছে বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন শিল্পীর ছেলে। তাঁর দাবি, অনুব্রত মণ্ডল ও চন্দ্রনাথ সিংহের মতো শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সেসময় মদত ছিল।
পূর্ণদাস বাউল জানান, ওই জমিতে কোনো বাণিজ্যিক স্বার্থ নেই তাঁদের। জমিটি পুনরুদ্ধার হলে সেখানে বাউল সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারের স্বার্থে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সাধনা কেন্দ্র (আশ্রম) গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে তাঁর। যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ঐতিহ্যবাহী বাউল তত্ত্ব ও সঙ্গীতের পাঠ নিতে পারে।
জেলাশাসক বিষয়টি খতিয়ে দেখার এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।