২০ জুন ২০২৬, শনিবার, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩
২০ জুন ২০২৬, শনিবার, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩

মুসলিম দরগায় সম্প্রীতির নবান্ন উৎসব বীরভূমের রাজনগরে

খান আরশাদ, বীরভূম : বীরভূমের সীমান্তবর্তী অঞ্চল রাজনগরের এক মুসলিম দরগায় পালিত হল সম্প্রীতির নবান্ন উৎসব। রাজনগরের মীর সাহেবের দরগায় উদযাপিত হল সম্প্রীতির নবান্ন। নতুন ধানের অন্ন “নবান্ন”। প্রতি বছরের মত এবারেও অগ্রহায়নের পয়লা তারিখে রাজনগরের কাদাকুলি গ্রামের পাশে মীর সাহেবের প্রাঙ্গণ হয়ে উঠল এক সম্প্রীতির মহামিলন ক্ষেত্র। হিন্দু মুসলিম জাতি ধর্ম নির্বিশেষে এই নবান্ন উৎসবে মেতে ওঠেন আজকের দিনটিতে। রাজনগরের কাদাকুলি গ্রামের পাশেই মীর সাহেবের দরগা। কথিত আছে প্রায় চারশো বছর আগে সুদূর ইরাকের কিরমান শহর থেকে এক সুফি সাধক মীর চুনুরুদ্দিন হোসাইনী এখানে এসে পৌঁছান। তখন বীরভূমে রাজধানী ছিল রাজনগর। সেসময় সেখানকার শাসক ছিলেন এক পাঠান রাজা। রাজার অনুমতিক্রমে কাদাকুলি গ্রামের পাশে কুস্করনী নদীর ধারে তিনি তাঁর উপাসনাক্ষেত্র গড়ে তোলেন। সেখানে তাকে জমি দান করেন রাজনগরের মালিপাড়ার দত্ত পরিবারের এক ভক্ত। দত্ত পরিবারের এক সদস্য অরূপ দত্ত জানান বেশ কয়েকশো বছর আগেই তাদের পঞ্চম পুরুষ মির সাহেবকে সেখানে জায়গা দান করেছিলেন। সেখানে তিনি তার উপাসনা ক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন। মীরবাবার নির্দেশেই তাদের পরিবার নবান্ন উৎসব পালন করে আসছেন। তখন থেকেই এই উপলক্ষে প্রতি বছর পহেলা অগ্রহায়ণ ধানমাঠের ঈশান কোণ থেকে নতুন ধান কেটে আনা হয়। যাকে মুঠ আনা বলে। সেই মুঠ বাড়ীতে আনা হয় এবং সেই নুতন ধান থেকে চিড়ে, পায়েস তৈরি করা হয়। এগুলি অন্যান্য মিষ্টান্ন সহযোগে প্রসাদ হিসাবে মীর সাহেবের দরগায় অর্পণ করা হয়। এই প্রথা দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে। আজও তারা পালন করে আসছেন এই দত্ত পরিবারের উত্তম দত্ত, নিতাই দত্ত, অরূপ দত্তরা। এদিন রাজনগরের এই দত্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় সেখ হালিম, সেখ কৌসর, বজলে রহমানদের উপস্থিতিতে দরগা ক্ষেত্র হয়ে ওঠে সম্প্রীতির এক মহামিলনের ক্ষেত্র। নবান্ন কে ঘিরে এখানে মেলাও বসে। আয়োজন করা হয় বাউল গান, লোকগীতি, মুর্শিদি গান সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের।

হলান্ডের জোড়া গোলে নরওয়ে হারাল ইরাককে

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

মুসলিম দরগায় সম্প্রীতির নবান্ন উৎসব বীরভূমের রাজনগরে

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার

খান আরশাদ, বীরভূম : বীরভূমের সীমান্তবর্তী অঞ্চল রাজনগরের এক মুসলিম দরগায় পালিত হল সম্প্রীতির নবান্ন উৎসব। রাজনগরের মীর সাহেবের দরগায় উদযাপিত হল সম্প্রীতির নবান্ন। নতুন ধানের অন্ন “নবান্ন”। প্রতি বছরের মত এবারেও অগ্রহায়নের পয়লা তারিখে রাজনগরের কাদাকুলি গ্রামের পাশে মীর সাহেবের প্রাঙ্গণ হয়ে উঠল এক সম্প্রীতির মহামিলন ক্ষেত্র। হিন্দু মুসলিম জাতি ধর্ম নির্বিশেষে এই নবান্ন উৎসবে মেতে ওঠেন আজকের দিনটিতে। রাজনগরের কাদাকুলি গ্রামের পাশেই মীর সাহেবের দরগা। কথিত আছে প্রায় চারশো বছর আগে সুদূর ইরাকের কিরমান শহর থেকে এক সুফি সাধক মীর চুনুরুদ্দিন হোসাইনী এখানে এসে পৌঁছান। তখন বীরভূমে রাজধানী ছিল রাজনগর। সেসময় সেখানকার শাসক ছিলেন এক পাঠান রাজা। রাজার অনুমতিক্রমে কাদাকুলি গ্রামের পাশে কুস্করনী নদীর ধারে তিনি তাঁর উপাসনাক্ষেত্র গড়ে তোলেন। সেখানে তাকে জমি দান করেন রাজনগরের মালিপাড়ার দত্ত পরিবারের এক ভক্ত। দত্ত পরিবারের এক সদস্য অরূপ দত্ত জানান বেশ কয়েকশো বছর আগেই তাদের পঞ্চম পুরুষ মির সাহেবকে সেখানে জায়গা দান করেছিলেন। সেখানে তিনি তার উপাসনা ক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন। মীরবাবার নির্দেশেই তাদের পরিবার নবান্ন উৎসব পালন করে আসছেন। তখন থেকেই এই উপলক্ষে প্রতি বছর পহেলা অগ্রহায়ণ ধানমাঠের ঈশান কোণ থেকে নতুন ধান কেটে আনা হয়। যাকে মুঠ আনা বলে। সেই মুঠ বাড়ীতে আনা হয় এবং সেই নুতন ধান থেকে চিড়ে, পায়েস তৈরি করা হয়। এগুলি অন্যান্য মিষ্টান্ন সহযোগে প্রসাদ হিসাবে মীর সাহেবের দরগায় অর্পণ করা হয়। এই প্রথা দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে। আজও তারা পালন করে আসছেন এই দত্ত পরিবারের উত্তম দত্ত, নিতাই দত্ত, অরূপ দত্তরা। এদিন রাজনগরের এই দত্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয় সেখ হালিম, সেখ কৌসর, বজলে রহমানদের উপস্থিতিতে দরগা ক্ষেত্র হয়ে ওঠে সম্প্রীতির এক মহামিলনের ক্ষেত্র। নবান্ন কে ঘিরে এখানে মেলাও বসে। আয়োজন করা হয় বাউল গান, লোকগীতি, মুর্শিদি গান সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের।