২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের উদয়নারায়ণপুর ইউনিটের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচলো মেছো বিড়াল

আনজুম মুনীর, হাওড়া: আবারো মেছো বিড়ালে চিতাবাঘ আতঙ্ক, আবারো সচেতনতার অভাবে আমাদের রাজ্যপ্রাণীকে নিয়ে ধোঁয়াশা, তাকে বাঘ ভেবে আতঙ্কিত হয়ে মেরে ফেলার উদ্যোগ। কিন্তু সময়মত খবর পেয়ে মেছো বিড়ালটিকে প্রাণে বাঁচিয়ে নজির সৃষ্টি করল হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের সক্রিয় পরিবেশকর্মীরা।

ঘটনাটি ঘটে হাওড়া জেলার উদয়নারায়নপুর ব্লকের উত্তর চাঁদচক গ্রামে শীতলা মন্দিরের পাশে, সেখানে রাতের অন্ধকারে তপন বরের বাড়িতে একটি মেছো বিড়াল অসুস্থ হয়ে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে বসেছিল। সকাল ৯টা নাগাদ বিশেষ শব্দ ও নড়াচড়া দেখে বাড়ির লোকেরা বুঝতে পারেন কোন বন্য জন্তু বাড়িতে ঢুকেছে। একটু উঁকি মেরে দেখে ওনারা ভাবেন ওনাদের বাড়িতে চিতাবাঘের মতো কিছু একটা আছে। দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে যায় গুজব, রটে যায় ঘরে চিতাবাঘ ঢুকেছে। মারবার জন্য জমায়েত হতে থাকে গ্রামবাসীর।

এমন পরিস্থিতি দেখে স্থানীয় রমেন আদক নামক এক সুহৃদয় ব্যক্তি হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের উদয়নারায়ণপুর ইউনিটের কো-অর্ডিনেটর সুমন চক্রবর্তীকে ফোন করেন। সুমন বনবিভাগের স্থানীয় আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত এলাকায় পৌঁছায় এবং বনবিভাগের কর্মীদের সাহায্য নিয়ে উদ্ধার করেন। গ্রামবাসীদের অসচেতনতার কারণে সেটিকে মেরে ফেলার উদ্যোগকে প্রতিহত করেন তাঁরা। সুমনের সঙ্গে ছিলেন পরিবেশ মঞ্চের সদস্য রাকেশ মাখাল সহ আরো অনেকে। এসে পড়ে আরো পরিবেশ কর্মীরা। সকলে মিলে গ্রামবাসীদের বোঝান যে এটি কোনও চিতাবাঘ নয়। এটা নিছকই নিরীহ বন্যপ্রাণী মেছো বিড়াল, যা এলাকার সাপ, ব্যাঙ, ইঁদুর খেয়ে পরিবেশের উপকার করে।

অনেক বোঝানোর পরে বনবিভাগ মেছো বিড়ালটিকে নিয়ে চলে আসে এবং যেহেতু অসুস্থ ছিল, তাই তার চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয় গড়চুমুক মিনি জুতে। বনবিভাগের সহযোগিতা ও হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের সদস্যদের তৎপরতায় আবারো বাঁচানো গেল হাওড়া জেলায় বিপন্নপ্রায় পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপ্রাণী মেছো বিড়ালকে।

হালিশহর পৌরসভায় পৌর প্রতিনিধিদের গনইস্তফা

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের উদয়নারায়ণপুর ইউনিটের তৎপরতায় প্রাণে বাঁচলো মেছো বিড়াল

আপডেট : ২১ মে ২০২৬, বৃহস্পতিবার

আনজুম মুনীর, হাওড়া: আবারো মেছো বিড়ালে চিতাবাঘ আতঙ্ক, আবারো সচেতনতার অভাবে আমাদের রাজ্যপ্রাণীকে নিয়ে ধোঁয়াশা, তাকে বাঘ ভেবে আতঙ্কিত হয়ে মেরে ফেলার উদ্যোগ। কিন্তু সময়মত খবর পেয়ে মেছো বিড়ালটিকে প্রাণে বাঁচিয়ে নজির সৃষ্টি করল হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের সক্রিয় পরিবেশকর্মীরা।

ঘটনাটি ঘটে হাওড়া জেলার উদয়নারায়নপুর ব্লকের উত্তর চাঁদচক গ্রামে শীতলা মন্দিরের পাশে, সেখানে রাতের অন্ধকারে তপন বরের বাড়িতে একটি মেছো বিড়াল অসুস্থ হয়ে ঘাপটি মেরে লুকিয়ে বসেছিল। সকাল ৯টা নাগাদ বিশেষ শব্দ ও নড়াচড়া দেখে বাড়ির লোকেরা বুঝতে পারেন কোন বন্য জন্তু বাড়িতে ঢুকেছে। একটু উঁকি মেরে দেখে ওনারা ভাবেন ওনাদের বাড়িতে চিতাবাঘের মতো কিছু একটা আছে। দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে যায় গুজব, রটে যায় ঘরে চিতাবাঘ ঢুকেছে। মারবার জন্য জমায়েত হতে থাকে গ্রামবাসীর।

এমন পরিস্থিতি দেখে স্থানীয় রমেন আদক নামক এক সুহৃদয় ব্যক্তি হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের উদয়নারায়ণপুর ইউনিটের কো-অর্ডিনেটর সুমন চক্রবর্তীকে ফোন করেন। সুমন বনবিভাগের স্থানীয় আধিকারিককে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত এলাকায় পৌঁছায় এবং বনবিভাগের কর্মীদের সাহায্য নিয়ে উদ্ধার করেন। গ্রামবাসীদের অসচেতনতার কারণে সেটিকে মেরে ফেলার উদ্যোগকে প্রতিহত করেন তাঁরা। সুমনের সঙ্গে ছিলেন পরিবেশ মঞ্চের সদস্য রাকেশ মাখাল সহ আরো অনেকে। এসে পড়ে আরো পরিবেশ কর্মীরা। সকলে মিলে গ্রামবাসীদের বোঝান যে এটি কোনও চিতাবাঘ নয়। এটা নিছকই নিরীহ বন্যপ্রাণী মেছো বিড়াল, যা এলাকার সাপ, ব্যাঙ, ইঁদুর খেয়ে পরিবেশের উপকার করে।

অনেক বোঝানোর পরে বনবিভাগ মেছো বিড়ালটিকে নিয়ে চলে আসে এবং যেহেতু অসুস্থ ছিল, তাই তার চিকিৎসার জন্য তাকে নিয়ে যাওয়া হয় গড়চুমুক মিনি জুতে। বনবিভাগের সহযোগিতা ও হাওড়া জেলা যৌথ পরিবেশ মঞ্চের সদস্যদের তৎপরতায় আবারো বাঁচানো গেল হাওড়া জেলায় বিপন্নপ্রায় পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপ্রাণী মেছো বিড়ালকে।