১৫ জুলাই ২০২৬, বুধবার, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩
১৫ জুলাই ২০২৬, বুধবার, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

বাদুলিয়া জামে মসজিদের ইমামের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

মনোয়ার হোসেন, বর্ধমান : ৩০মে,বাদুলিয়া গ্রামে একজন দিনের সেবক ইমাম সাহেবের কথা বলবো (ইমাম হাফেজ আবদুর রহমান)যিনি সুদূর ২৪ পরগনার জয়নগর এলাকা থেকে মাত্র ১৯বছর বয়সে ইমামতি করার উদ্দেশ্য নিয়ে বর্ধমান জেলায় উপস্থিত হয়েছিলেন। এবং বর্ধমান জেলার দক্ষিণ দামোদর খণ্ডঘোষ ব্লকের বাদুলিয়া গ্রামে “বাদুলিয়া জামে মসজিদে “ইমাম হিসেবে নিয়োগ পান। তখন সবে মাত্র ১৯ এর তরুণ তুর্কি গোটা গ্রামের মানুষের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন, তারুণ্যের উন্মাদনায় তরুণদের সাথে কখনো খেলার মাঠে, কখনো বাদুলিয়া বাজারে, কখনো আড্ডার ছলে ,মসজিদের প্রতি আহ্বান করতে শুরু করেন। উনি লড়াইয়ে সফল হন তরুণ থেকে যুবক বৃদ্ধ সকলের নয়নের মনি হয়ে উঠলেন অচিরেই, দেখতে দেখতে নিজের জীবনের প্রায় সমস্তটাই দেন বাদুলিয়া গ্রামে। আমরা দেখতে পাই সেই ১৯বছরের বালক আজ ৭০ বছরে উপনীত হয়েছেন, সুদীর্ঘ ৫১বছর একটি মসজিদে নিরদ্ধিধায় কাটিয়ে দিলেন। আমি নিজে যখন বালক বাদুলিয়া মামার বাড়ি যেতাম ওই ইমাম সাহেব কাছে বসিয়ে কত গল্প করেছেন,একসঙ্গে টিফিন করেছেন, এমনকি আমার বিবাহ তে ও উপস্থিত ছিলেন, একটা অন্যরকম আত্মিক টান তৈরি হয়েছিল, বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছে, ২৭ মে, ২০২২,তারিখে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গোটা গ্রামের মানুষ কেঁদে ভাসিয়ে দিলেন, গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি মাননীয় জনাব ওহাব মোল্লা চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে ও তার মঙ্গলের জন্য দোয়া চাইছেন, তার বক্তব্য নিজের ভাইয়ের থেকেও বেশি স্নেহ ও ভালোবাসা পেয়েছি, এই গ্রামেরই তরুণ তুর্কি যুবনেতা অপার্থিব ইসলাম (ফাগুন) যিনি আবার খণ্ডঘোষ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, বিদায় সংবর্ধনায় কথা বলতে বলতে চোখের কোনায় জল চিকচিক করছিলো, গলাটা যেন দুঃখে ভরে উঠছিল, তিনি আবেগমথিত হয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেন, এই বিদায় বেলায় গোটা গ্রামের মানুষ যে যেমন পেরেছেন উপহার নিয়ে ইমাম সাহেবের হাতে তুলে দিয়েছেন, দীর্ঘ ৫১ বছর সোজা কথা নয়, তার উদ্দেশ্যে মসজিদ কমিটি প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা ইমাম সাহেবের হাতে তুলে দেন, এমনকি গ্রামের ৬০জন মানুষ বাস ভাড়া করে ইমাম সাহেবকে ২৪ পরগনার জয়নগরে চোখের জলে বিদায় জানিয়ে আসেন, এমন ভাগ্য শালী ইমাম খুবই কম দেখা যায়, আল্লাহ তাআলা বাকি জীবন সুখ শান্তি ও আনন্দে কাটুক, এটাই কামনা করি,আমিন ।

এমবাপে–দেম্বেলেদের ফ্রান্সকে থামাবে কে?

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

বাদুলিয়া জামে মসজিদের ইমামের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান

আপডেট : ৩১ মে ২০২২, মঙ্গলবার

মনোয়ার হোসেন, বর্ধমান : ৩০মে,বাদুলিয়া গ্রামে একজন দিনের সেবক ইমাম সাহেবের কথা বলবো (ইমাম হাফেজ আবদুর রহমান)যিনি সুদূর ২৪ পরগনার জয়নগর এলাকা থেকে মাত্র ১৯বছর বয়সে ইমামতি করার উদ্দেশ্য নিয়ে বর্ধমান জেলায় উপস্থিত হয়েছিলেন। এবং বর্ধমান জেলার দক্ষিণ দামোদর খণ্ডঘোষ ব্লকের বাদুলিয়া গ্রামে “বাদুলিয়া জামে মসজিদে “ইমাম হিসেবে নিয়োগ পান। তখন সবে মাত্র ১৯ এর তরুণ তুর্কি গোটা গ্রামের মানুষের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন, তারুণ্যের উন্মাদনায় তরুণদের সাথে কখনো খেলার মাঠে, কখনো বাদুলিয়া বাজারে, কখনো আড্ডার ছলে ,মসজিদের প্রতি আহ্বান করতে শুরু করেন। উনি লড়াইয়ে সফল হন তরুণ থেকে যুবক বৃদ্ধ সকলের নয়নের মনি হয়ে উঠলেন অচিরেই, দেখতে দেখতে নিজের জীবনের প্রায় সমস্তটাই দেন বাদুলিয়া গ্রামে। আমরা দেখতে পাই সেই ১৯বছরের বালক আজ ৭০ বছরে উপনীত হয়েছেন, সুদীর্ঘ ৫১বছর একটি মসজিদে নিরদ্ধিধায় কাটিয়ে দিলেন। আমি নিজে যখন বালক বাদুলিয়া মামার বাড়ি যেতাম ওই ইমাম সাহেব কাছে বসিয়ে কত গল্প করেছেন,একসঙ্গে টিফিন করেছেন, এমনকি আমার বিবাহ তে ও উপস্থিত ছিলেন, একটা অন্যরকম আত্মিক টান তৈরি হয়েছিল, বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছে, ২৭ মে, ২০২২,তারিখে বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গোটা গ্রামের মানুষ কেঁদে ভাসিয়ে দিলেন, গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তি মাননীয় জনাব ওহাব মোল্লা চোখের জল ধরে রাখতে না পেরে ও তার মঙ্গলের জন্য দোয়া চাইছেন, তার বক্তব্য নিজের ভাইয়ের থেকেও বেশি স্নেহ ও ভালোবাসা পেয়েছি, এই গ্রামেরই তরুণ তুর্কি যুবনেতা অপার্থিব ইসলাম (ফাগুন) যিনি আবার খণ্ডঘোষ ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, বিদায় সংবর্ধনায় কথা বলতে বলতে চোখের কোনায় জল চিকচিক করছিলো, গলাটা যেন দুঃখে ভরে উঠছিল, তিনি আবেগমথিত হয়ে বুকে জড়িয়ে ধরেন, এই বিদায় বেলায় গোটা গ্রামের মানুষ যে যেমন পেরেছেন উপহার নিয়ে ইমাম সাহেবের হাতে তুলে দিয়েছেন, দীর্ঘ ৫১ বছর সোজা কথা নয়, তার উদ্দেশ্যে মসজিদ কমিটি প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা ইমাম সাহেবের হাতে তুলে দেন, এমনকি গ্রামের ৬০জন মানুষ বাস ভাড়া করে ইমাম সাহেবকে ২৪ পরগনার জয়নগরে চোখের জলে বিদায় জানিয়ে আসেন, এমন ভাগ্য শালী ইমাম খুবই কম দেখা যায়, আল্লাহ তাআলা বাকি জীবন সুখ শান্তি ও আনন্দে কাটুক, এটাই কামনা করি,আমিন ।