২৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
২৬ জুন ২০২৬, শুক্রবার, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

লোকাল এবং দূরপাল্লার ট্রেনে হিজরেদের বাড়বাড়ন্ত, প্রশাসন নীরব

নতুন গতি নিউজ ডেস্ক  : হিজরা নামটি শুনলেই অনেকেই চমকে উঠে। নকল হিজড়া, প্রকৃত হিজড়া, চাঁদাবাজ, বিভিন্ন অপরাধীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ‘হিজড়া গ্রুপের’ অত্যাচারে নাগরিক জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

বাস, ট্রেন, মহাসড়ক কিংবা রাস্তার মোড়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সবখানেই হিজড়াদের টাকা তোলার কথা আমরা সকলেই জানি। কেউ ভয়ে কেউ আবার স্বেচ্ছায় তাদের টাকা দেই । কিন্তু ইদানিং হিজড়াদের আচরণ বদলে গেছে। আগের দিনের সেই টাকা চাওয়া এখন জোরপূর্বক আদায়ে পরিণত হয়েছে। কেউ আবার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেই চলে অশ্রাব্য গালাগালসহ দুর্ব্যবহার এমন কি উলঙ্গ হয়ে পড়ে। হিজড়াদের এই বেপরোয়া যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে।

বর্তমানে হিজরাদের এমন কর্মাকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রী এবং পথচারী যাত্রীরাও।

 

গতকাল আমার পরীক্ষা থাকায় লালগোলাতে “লালগোলা প্যাসেঞ্জার” ট্রেন উঠে পরীক্ষার উদ্দেশ্য রওনা দিই। ভগবানগোলা পার হয়ে সুবর্ণমিরগিতে উঠে হিজরার দল। আমার কাছে টাকা চাই। আমি বলি আমি ছাত্র। টাকা দিতে না দেওয়ায় আমার সঙ্গে শুরু হয় তাদের সেই ব্যবহার। সর্বত্র নোংরা ভাষা ব্যবহার করে আমাকে দমন করার চেষ্টা করতে থাকে, আমি তার এক এক করে কথার প্রতিবাদ করতে থাকে! এবং সে এই রকম ভাষা খারাপ করতে করতে জিয়াগঞ্জ স্টেশন এসে পড়ায় নেমে । আমি চাইলে সেখানে নেমে অভিযোগ করতে পারতাম কিন্তু পরীক্ষা থাকায় আমি আর ঝামেলায় যেতে চাইনি।

 

বলার বিষয় হচ্ছে সেই কামরায় ভর্তি লোক ছিল, অনেক ছাত্র-ছাত্রী ছিল বিষয়টি সবাই দেখছে! খারাপ লাগার বিষয় হচ্ছে কেউ আমার পক্ষ নিয়ে প্রতিবাদ করছে না বরং হিজড়ার পক্ষ নিয়ে আমাকে প্রতিবাদ করতে নিষেধ করছে! মনে হচ্ছিল যেন এগুলো সবই কাপুরুষ! সেখানে আর কয়েকজন আমার পক্ষ নিয়ে প্রতিবাদ করলে সে লেজ গুঁটিয়ে পালাতে বাধ্য হতো! যেভাবে কিছু দিন পূর্বে বহরমপুরে ঠিক মতো প্রতিবাদ আর অভিযোগ করায় পুলিশ একজনকে হিজড়াকে গ্রেপ্তার করেছে।

 

এখন দেখার বিষয় হচ্ছে তাকে 5/10 টাকা দেওয়াটা মূল বিষয় নয়! বিষয় হচ্ছে সে টাকা চাইলেই কি আমাকে দিতে হবে? আমি কি টাকা দিতে বাধ্য? বলা হয়ে থাকে যে অপরাধ করে আর যারা সহ্য করে তারা সবাই সমান অপরাধী! আমি স্টেশনে নেমে সেই টাকাটা একজন বৃদ্ধা ফকিরকে দিলাম! তিনি আমার মাথায় হাত রেখে দোয়া করে দিলেন ।এটা আমার ইচ্ছা। তাকে দিতে বাধ্য কেন থাকব?

 

তারা টাকা চাইলো আমরা দিয়ে দিলাম। এভাবে যদি চলতে থাকবে তাহলে খুব শীঘ্রই তাদের দাপট এতটাই বেড়ে যাবে যে অন্যান্য জায়গার মতো জোরপূর্বক আপনার কাছ থেকে টাকা নিবে এবং আপনাকে পরিমাণ নির্ধারণ করে দেবে !

 

আমি এ কথা বলিনি যে তাদের চাওয়া বন্ধ করে হোক! এটা বলছি যে জোরপূর্বক তারা যেটা করছে, না দিলে ভাষা খারাপ করছে বাধ্য করছে, সেটা বন্ধ হওয়া উচিত!

 

তাই বলি কাপুরুষের মতো না থেকে রাস্তাঘাটে, ট্রেনে বাসে এরকম অপরাধ দেখলে একসঙ্গে প্রতিবাদ করুন, এরা লেজ গুঁটিয়ে পালাতে বাধ্য হবে! তাদের দাদাগিরি বন্ধ হবে!

 

আমার মনে হয়েছে আমাদের আরো সচতন হওয়া উচিত। হিজড়া বলে তারা কোন কাজ কর্ম করবে না। সাধারণ মানুষের কাছে জোর করে টাকা আদায়, চাদাবাজি কতদিন চলবে? এগুলো বন্ধ করা উচিত। প্রশাসনের এই নিয়ে আরো ভাবা উচিত।

লিখেছেন – আসিফ রনি

বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ 

তৃণমূলের আমলে পাশ হওয়া নির্মীয়মাণ বাণিজ্যিক ইমারত তৈরি আপাতত বন্ধ

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

লোকাল এবং দূরপাল্লার ট্রেনে হিজরেদের বাড়বাড়ন্ত, প্রশাসন নীরব

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার

নতুন গতি নিউজ ডেস্ক  : হিজরা নামটি শুনলেই অনেকেই চমকে উঠে। নকল হিজড়া, প্রকৃত হিজড়া, চাঁদাবাজ, বিভিন্ন অপরাধীর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ‘হিজড়া গ্রুপের’ অত্যাচারে নাগরিক জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

বাস, ট্রেন, মহাসড়ক কিংবা রাস্তার মোড়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সবখানেই হিজড়াদের টাকা তোলার কথা আমরা সকলেই জানি। কেউ ভয়ে কেউ আবার স্বেচ্ছায় তাদের টাকা দেই । কিন্তু ইদানিং হিজড়াদের আচরণ বদলে গেছে। আগের দিনের সেই টাকা চাওয়া এখন জোরপূর্বক আদায়ে পরিণত হয়েছে। কেউ আবার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেই চলে অশ্রাব্য গালাগালসহ দুর্ব্যবহার এমন কি উলঙ্গ হয়ে পড়ে। হিজড়াদের এই বেপরোয়া যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে।

বর্তমানে হিজরাদের এমন কর্মাকান্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রী এবং পথচারী যাত্রীরাও।

 

গতকাল আমার পরীক্ষা থাকায় লালগোলাতে “লালগোলা প্যাসেঞ্জার” ট্রেন উঠে পরীক্ষার উদ্দেশ্য রওনা দিই। ভগবানগোলা পার হয়ে সুবর্ণমিরগিতে উঠে হিজরার দল। আমার কাছে টাকা চাই। আমি বলি আমি ছাত্র। টাকা দিতে না দেওয়ায় আমার সঙ্গে শুরু হয় তাদের সেই ব্যবহার। সর্বত্র নোংরা ভাষা ব্যবহার করে আমাকে দমন করার চেষ্টা করতে থাকে, আমি তার এক এক করে কথার প্রতিবাদ করতে থাকে! এবং সে এই রকম ভাষা খারাপ করতে করতে জিয়াগঞ্জ স্টেশন এসে পড়ায় নেমে । আমি চাইলে সেখানে নেমে অভিযোগ করতে পারতাম কিন্তু পরীক্ষা থাকায় আমি আর ঝামেলায় যেতে চাইনি।

 

বলার বিষয় হচ্ছে সেই কামরায় ভর্তি লোক ছিল, অনেক ছাত্র-ছাত্রী ছিল বিষয়টি সবাই দেখছে! খারাপ লাগার বিষয় হচ্ছে কেউ আমার পক্ষ নিয়ে প্রতিবাদ করছে না বরং হিজড়ার পক্ষ নিয়ে আমাকে প্রতিবাদ করতে নিষেধ করছে! মনে হচ্ছিল যেন এগুলো সবই কাপুরুষ! সেখানে আর কয়েকজন আমার পক্ষ নিয়ে প্রতিবাদ করলে সে লেজ গুঁটিয়ে পালাতে বাধ্য হতো! যেভাবে কিছু দিন পূর্বে বহরমপুরে ঠিক মতো প্রতিবাদ আর অভিযোগ করায় পুলিশ একজনকে হিজড়াকে গ্রেপ্তার করেছে।

 

এখন দেখার বিষয় হচ্ছে তাকে 5/10 টাকা দেওয়াটা মূল বিষয় নয়! বিষয় হচ্ছে সে টাকা চাইলেই কি আমাকে দিতে হবে? আমি কি টাকা দিতে বাধ্য? বলা হয়ে থাকে যে অপরাধ করে আর যারা সহ্য করে তারা সবাই সমান অপরাধী! আমি স্টেশনে নেমে সেই টাকাটা একজন বৃদ্ধা ফকিরকে দিলাম! তিনি আমার মাথায় হাত রেখে দোয়া করে দিলেন ।এটা আমার ইচ্ছা। তাকে দিতে বাধ্য কেন থাকব?

 

তারা টাকা চাইলো আমরা দিয়ে দিলাম। এভাবে যদি চলতে থাকবে তাহলে খুব শীঘ্রই তাদের দাপট এতটাই বেড়ে যাবে যে অন্যান্য জায়গার মতো জোরপূর্বক আপনার কাছ থেকে টাকা নিবে এবং আপনাকে পরিমাণ নির্ধারণ করে দেবে !

 

আমি এ কথা বলিনি যে তাদের চাওয়া বন্ধ করে হোক! এটা বলছি যে জোরপূর্বক তারা যেটা করছে, না দিলে ভাষা খারাপ করছে বাধ্য করছে, সেটা বন্ধ হওয়া উচিত!

 

তাই বলি কাপুরুষের মতো না থেকে রাস্তাঘাটে, ট্রেনে বাসে এরকম অপরাধ দেখলে একসঙ্গে প্রতিবাদ করুন, এরা লেজ গুঁটিয়ে পালাতে বাধ্য হবে! তাদের দাদাগিরি বন্ধ হবে!

 

আমার মনে হয়েছে আমাদের আরো সচতন হওয়া উচিত। হিজড়া বলে তারা কোন কাজ কর্ম করবে না। সাধারণ মানুষের কাছে জোর করে টাকা আদায়, চাদাবাজি কতদিন চলবে? এগুলো বন্ধ করা উচিত। প্রশাসনের এই নিয়ে আরো ভাবা উচিত।

লিখেছেন – আসিফ রনি

বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ