২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

কবরস্থানের উপর অবৈধ নির্মাণকে ভেঙে ফেলার নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুরঃ দক্ষিণ ২৪ পরগণার সূর্যপুর-রতনপুরের শতাব্দীপ্রাচীন কবরস্থানের উপর অবৈধ নির্মাণকে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের এই রায়ে স্বভাবতই খুশি এলাকাবাসীরা। আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে মামলাকারী জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কর্মীরাও। ২০১৪ সাল থেকে দীর্ঘ ৫ বছর কবরস্থানের হেফাজত নিয়ে লাগাতর আইনি লড়াই চালিয়ে আসার পর এই সাফল্য বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
উল্লেখ্য, গত ২০১৪ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগণার ঐতিহ্যবাহী এই কবরস্থানের একাংশে রেশন দোকান ও আইসিডিএস স্কুল গড়ার কাজ চলছিল। ১৭০০ দাগের ০.১১ একরের ওই কবরস্থানের উপর অবৈধ নির্মাণে ক্ষুদ্ধ হয় গ্রামবাসীরা। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের বারুইপুর ব্লকের সহ-সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ সাজিম সাকিবীর নেতৃত্বে গ্রামবাসীরা আন্দোলন গড়ে তোলে। পরবর্তীকালে জমিয়তের অনুরোধে কবরস্থানে কোনোরকম নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য মহকুমাশাসক ১৪৪ ধারা জারি করেন। এরপর জমিয়ত নেতা মাওলানা মুহাম্মদ সাজিম সাকিবী বিষয়টি রাজ্য জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মুফতি আব্দুস সালাম ও সম্পাদক মুফতি রফিকুল ইসলামের গোচরে আনেন। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী সমস্যা সম্পর্কে অবগত হয়ে বিন্দুমাত্র কালবিলম্ব না করে কবরস্থান হেফাজতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এরপর মাওলানা মুহাম্মদ সাজিম সাকিবীর নেতৃত্বে কলকাতা হাইকোর্টে রিট পিটিশন (W.P. No. 6284(W) of 2019) দাখিল করে জমিয়ত। ওই মামলাতে মাননীয় বিচারপতি দেবাংশু বসাকের এজলাস কবরস্থানের উপর অবৈধ নির্মাণকে ভেঙে ফেলার জন্য নির্দেশ দেন। এই প্রতিবেদনের কপি যখন লেখা হচ্ছে, ততক্ষণে আদালতের নির্দেশে জেলাশাসকের উপস্থিতিতে কবরস্থানের উপর অবৈধ নির্মাণকে ভেঙে ধূলিস্যাৎ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। কবরস্থান হেফাজতের লড়াইতে এই রায়কে একটি মাইলস্টোন বলে মনে করছে আইনজীবী মহল।

সিউড়িতে ধর্ষণ অভিযোগে বিজেপি নেতা গ্রেফতার, চাঞ্চল্য বীরভূমে

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

কবরস্থানের উপর অবৈধ নির্মাণকে ভেঙে ফেলার নির্দেশ হাইকোর্টের

আপডেট : ২৮ অগাস্ট ২০১৯, বুধবার

নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুরঃ দক্ষিণ ২৪ পরগণার সূর্যপুর-রতনপুরের শতাব্দীপ্রাচীন কবরস্থানের উপর অবৈধ নির্মাণকে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতা হাইকোর্টের এই রায়ে স্বভাবতই খুশি এলাকাবাসীরা। আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছে মামলাকারী জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের কর্মীরাও। ২০১৪ সাল থেকে দীর্ঘ ৫ বছর কবরস্থানের হেফাজত নিয়ে লাগাতর আইনি লড়াই চালিয়ে আসার পর এই সাফল্য বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
উল্লেখ্য, গত ২০১৪ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগণার ঐতিহ্যবাহী এই কবরস্থানের একাংশে রেশন দোকান ও আইসিডিএস স্কুল গড়ার কাজ চলছিল। ১৭০০ দাগের ০.১১ একরের ওই কবরস্থানের উপর অবৈধ নির্মাণে ক্ষুদ্ধ হয় গ্রামবাসীরা। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের বারুইপুর ব্লকের সহ-সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ সাজিম সাকিবীর নেতৃত্বে গ্রামবাসীরা আন্দোলন গড়ে তোলে। পরবর্তীকালে জমিয়তের অনুরোধে কবরস্থানে কোনোরকম নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার জন্য মহকুমাশাসক ১৪৪ ধারা জারি করেন। এরপর জমিয়ত নেতা মাওলানা মুহাম্মদ সাজিম সাকিবী বিষয়টি রাজ্য জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক মুফতি আব্দুস সালাম ও সম্পাদক মুফতি রফিকুল ইসলামের গোচরে আনেন। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি মাওলানা সিদ্দীকুল্লাহ চৌধুরী সমস্যা সম্পর্কে অবগত হয়ে বিন্দুমাত্র কালবিলম্ব না করে কবরস্থান হেফাজতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এরপর মাওলানা মুহাম্মদ সাজিম সাকিবীর নেতৃত্বে কলকাতা হাইকোর্টে রিট পিটিশন (W.P. No. 6284(W) of 2019) দাখিল করে জমিয়ত। ওই মামলাতে মাননীয় বিচারপতি দেবাংশু বসাকের এজলাস কবরস্থানের উপর অবৈধ নির্মাণকে ভেঙে ফেলার জন্য নির্দেশ দেন। এই প্রতিবেদনের কপি যখন লেখা হচ্ছে, ততক্ষণে আদালতের নির্দেশে জেলাশাসকের উপস্থিতিতে কবরস্থানের উপর অবৈধ নির্মাণকে ভেঙে ধূলিস্যাৎ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। কবরস্থান হেফাজতের লড়াইতে এই রায়কে একটি মাইলস্টোন বলে মনে করছে আইনজীবী মহল।