২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩
২৮ এপ্রিল ২০২৬, মঙ্গলবার, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

রাজনগরে বিপ্লবী পান্নালাল দাশগুপ্ত ও সাইজি মাকিনোর স্মৃতিচারণ: প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় শ্রদ্ধার্ঘ্য

 

খান আরশাদ, বীরভূম:

অবিভক্ত বাংলার বিপ্লবী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনোত্তর ভারতের গ্রামোন্নয়নে যাঁদের কর্মজীবন ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়, সেই কিংবদন্তি স্বাধীনতা সংগ্রামী পান্নালাল দাশগুপ্ত এবং তাঁর অকৃত্রিম সহযোদ্ধা জাপানের সাইজি মাকিনো সান-কে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করল রাজনগর। সোমবার রাজনগরের টেগোর সোসাইটি ফর রুরাল ডেভেলপমেন্টের (TSRD) উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ স্মরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই দুই মহান ব্যক্তিত্বের জীবন ও আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়।

এদিন রাজনগর-খয়রাশোল প্রকল্পের কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এক ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্য দিয়ে এই স্মরণানুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানের সূচনায় পান্নালাল দাশগুপ্ত এবং তাঁর জাপানি সহযোগী সাইজি মাকিনোর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মাল্যদান করা হয়। উপস্থিত গুণীজনেরা তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল এই দুই ব্যক্তিত্বের কর্মময় জীবনের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত একটি তথ্যসমৃদ্ধ প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে তাঁদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে লেখা দুর্লভ পুস্তক, ঐতিহাসিক আলোকচিত্র এবং সমসাময়িক সংবাদপত্র থেকে সংগৃহীত গুরুত্বপূর্ণ পেপার কাটিং সাধারণ মানুষের জন্য প্রদর্শন করা হয়। এই নথিপত্রগুলি বর্তমান প্রজন্মের কাছে তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল হিসেবে ধরা দিয়েছে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা পান্নালাল দাশগুপ্তের বহুমুখী প্রতিভা ও ত্যাগী জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। বিশেষ করে স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা এবং গঠনমূলক সমাজসেবায় তাঁর আত্মনিয়োগের কথা আলোচিত হয়। সাইজি মাকিনো সান কীভাবে একজন বিদেশি হয়েও স্বাধীনতা সংগ্রামী পান্নালাল দাশগুপ্তের ছায়াসঙ্গী হয়ে ভারতের গ্রামোন্নয়নের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন, তা উপস্থিত সকলকে অনুপ্রাণিত করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী পান্নালাল দাশগুপ্তের সান্নিধ্য পাওয়া তথা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক ম্যানেজার আহসান কামাল। তিনি দীর্ঘকাল এই মহান বিপ্লবীর সান্নিধ্য পাওয়ার বিরল অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন টেগোর সোসাইটির বর্ষীয়ান কর্মী চন্দ্রকান্ত দত্ত এবং প্রকল্প আধিকারিক প্রকাশ কুমার সিংহ। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে টেগোর সোসাইটির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে এই দুই পথপ্রদর্শকের অবদানের কথা।

এদিনের এই মহতী অনুষ্ঠানে এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সন্তোষ কর্মকার, কানাইলাল মন্ডল, সুনীল সাহা, উত্তম কুমার মন্ডল, শম্ভুনাথ সেন, সেখ রিয়াজুদ্দিন, অমর মালি এবং প্রদীপ দে। এছাড়াও স্থানীয় বহু সমাজকর্মী ও উৎসাহী মানুষ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের অভিমতে প্রকাশ, আজকের ভোগবাদী সমাজে পান্নালাল দাশগুপ্ত ও সাইজি মাকিনোর মতো নিঃস্বার্থ মানুষদের আদর্শ ও দর্শন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁদের দেখানো পথেই গ্রামীণ পুনর্গঠনের কাজকে আরও গতিশীল করার শপথ নেওয়া হয় এই সভা থেকে। টেগোর সোসাইটির এই মহতী উদ্যোগ স্থানীয় জনমানসে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

সিউড়িতে ধর্ষণ অভিযোগে বিজেপি নেতা গ্রেফতার, চাঞ্চল্য বীরভূমে

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

রাজনগরে বিপ্লবী পান্নালাল দাশগুপ্ত ও সাইজি মাকিনোর স্মৃতিচারণ: প্রদর্শনী ও আলোচনা সভায় শ্রদ্ধার্ঘ্য

আপডেট : ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, বুধবার

 

খান আরশাদ, বীরভূম:

অবিভক্ত বাংলার বিপ্লবী আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনোত্তর ভারতের গ্রামোন্নয়নে যাঁদের কর্মজীবন ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়, সেই কিংবদন্তি স্বাধীনতা সংগ্রামী পান্নালাল দাশগুপ্ত এবং তাঁর অকৃত্রিম সহযোদ্ধা জাপানের সাইজি মাকিনো সান-কে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করল রাজনগর। সোমবার রাজনগরের টেগোর সোসাইটি ফর রুরাল ডেভেলপমেন্টের (TSRD) উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ স্মরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই দুই মহান ব্যক্তিত্বের জীবন ও আদর্শকে পুনরুজ্জীবিত করা হয়।

এদিন রাজনগর-খয়রাশোল প্রকল্পের কার্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে এক ভাবগম্ভীর পরিবেশের মধ্য দিয়ে এই স্মরণানুষ্ঠান আয়োজিত হয়। অনুষ্ঠানের সূচনায় পান্নালাল দাশগুপ্ত এবং তাঁর জাপানি সহযোগী সাইজি মাকিনোর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মাল্যদান করা হয়। উপস্থিত গুণীজনেরা তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

অনুষ্ঠানের অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ ছিল এই দুই ব্যক্তিত্বের কর্মময় জীবনের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত একটি তথ্যসমৃদ্ধ প্রদর্শনী। প্রদর্শনীতে তাঁদের জীবনের বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে লেখা দুর্লভ পুস্তক, ঐতিহাসিক আলোকচিত্র এবং সমসাময়িক সংবাদপত্র থেকে সংগৃহীত গুরুত্বপূর্ণ পেপার কাটিং সাধারণ মানুষের জন্য প্রদর্শন করা হয়। এই নথিপত্রগুলি বর্তমান প্রজন্মের কাছে তৎকালীন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের এক জীবন্ত দলিল হিসেবে ধরা দিয়েছে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত বক্তারা পান্নালাল দাশগুপ্তের বহুমুখী প্রতিভা ও ত্যাগী জীবনের স্মৃতিচারণ করেন। বিশেষ করে স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা এবং গঠনমূলক সমাজসেবায় তাঁর আত্মনিয়োগের কথা আলোচিত হয়। সাইজি মাকিনো সান কীভাবে একজন বিদেশি হয়েও স্বাধীনতা সংগ্রামী পান্নালাল দাশগুপ্তের ছায়াসঙ্গী হয়ে ভারতের গ্রামোন্নয়নের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন, তা উপস্থিত সকলকে অনুপ্রাণিত করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী পান্নালাল দাশগুপ্তের সান্নিধ্য পাওয়া তথা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক ম্যানেজার আহসান কামাল। তিনি দীর্ঘকাল এই মহান বিপ্লবীর সান্নিধ্য পাওয়ার বিরল অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন টেগোর সোসাইটির বর্ষীয়ান কর্মী চন্দ্রকান্ত দত্ত এবং প্রকল্প আধিকারিক প্রকাশ কুমার সিংহ। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে টেগোর সোসাইটির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে এই দুই পথপ্রদর্শকের অবদানের কথা।

এদিনের এই মহতী অনুষ্ঠানে এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সন্তোষ কর্মকার, কানাইলাল মন্ডল, সুনীল সাহা, উত্তম কুমার মন্ডল, শম্ভুনাথ সেন, সেখ রিয়াজুদ্দিন, অমর মালি এবং প্রদীপ দে। এছাড়াও স্থানীয় বহু সমাজকর্মী ও উৎসাহী মানুষ এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের অভিমতে প্রকাশ, আজকের ভোগবাদী সমাজে পান্নালাল দাশগুপ্ত ও সাইজি মাকিনোর মতো নিঃস্বার্থ মানুষদের আদর্শ ও দর্শন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। তাঁদের দেখানো পথেই গ্রামীণ পুনর্গঠনের কাজকে আরও গতিশীল করার শপথ নেওয়া হয় এই সভা থেকে। টেগোর সোসাইটির এই মহতী উদ্যোগ স্থানীয় জনমানসে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।