২৯ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
২৯ এপ্রিল ২০২৬, বুধবার, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

মেমারির জামিয়া ক্যাম্পাসে দু’দিন সারা ভারত কুরআন পাঠ সম্মেলন

কাজী খায়রুল আনাম : আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেমারি জামিয়া ইসলামিয়া মদিনাতুল উলূম দু’দিন ব্যাপী দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের সারা ভারত কুরআন পাঠ সম্মেলনের আয়োজন করে। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক গোলাম আহমাদ মোর্তজা প্রতিষ্ঠিত বাংলার প্রথম সারির প্রসিদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়ায় ষষ্ঠ তম সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা হাসান আবদুল কাদির। উপস্থিত হয়েছেন ভারতবর্ষের মহারাষ্ট্র, গুজরাত, তামিলনাড়ু, তেলঙ্গানা প্রভৃতি রাজ্য থেকে বহু ঐস্লামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিশিষ্ট ইসলামী বুদ্ধিজীবীগণ।পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারির মদীনা মার্কেট স্থিত জামিয়া ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে স্বাগত ভাষণ দেন জামিয়ার প্রেসিডেন্ট ও প্রিন্সিপাল মাওলানা কারী শামসুদ্দিন আহমাদ। তিনি বলেন, দ্বিনের জন্য কষ্ট করাটাও হচ্ছে সুন্নত। তিনি মহানবী মুহাম্মদ সা. এর দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। এবং কষ্ট করে আসা উপস্থিত জনেদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। জামিয়ার প্রসঙ্গে তিনি জানান, শুধুমাত্র বাংলা নয়, ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে রয়েছে জামিয়ার কৃতি শিক্ষার্থীরা। ইংল্যান্ড, কাতারে তারা প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। জামিয়ার প্রিন্সিপাল বলেন, জামিয়া আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি, হায়দরাবাদের মাওলানা আজাদ ন্যাশনাল উর্দু ইউনিভার্সিটির স্বীকৃতি লাভ করেছে। জামিয়ার প্রেসিডেন্ট তাঁর ভাষণে বলেন, জামিয়ায় ছয় বছরের ফজিলত কোর্সের উন্নীত শিক্ষার্থীরা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করতে এই সব ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে পারবে। তিনি জানান, আলিয়া মাদ্রাসার সঙ্গেও তাঁদের কথা বার্তা চলছে। কারী শামসুদ্দিন আহমাদ বলেন, ইসলামী শিক্ষা ছাড়াও সমাজে আই এ এস, আই পি এস, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে মেমারি, পানাগড়, পান্ডুয়াতে তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে । পানাগড়ের শ্যামসুন্দরে বালিকা বিদ্যালয়ের কথা তিনি উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, ৫৪ বছরে (১৯৬৮-২০২২) ১০,০০০এর বেশি শিক্ষার্থী সাফল্য লাভ করেছে। তিনি জামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা প্রখ্যাত ঐতিহাসিক গোলাম আহমাদ মোর্তজার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি চেয়েছিলেন, বাংলার শিক্ষার্থীদের যেন ভিন রাজ্যে যেতে না হয়, তারা এখান থেকেই পড়াশোনা করতে পারে।

বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত ইসলামী প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিগণ তাঁদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও সাফল্যের কথা সম্মেলনে তুলে ধরেন। মুম্বইয়ের মাওলানা ফরিদ তাঁর বক্তব্যে অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন পথের দৃষ্টিহীন ভিক্ষুক বাচ্চাছেলেদের কীভাবে দ্বিনের আলোয় এনে উপার্জনের সম্মানীয় পথ ধরানোর চেষ্টা চলছে। অনুষ্ঠানে বক্তাগণ দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। জামিয়ার ব্রেইল বিভাগের প্রাক্তনী বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রাপ্ত, এম ফিল মুহাম্মদ ফজলে আলম। বর্তমানে শ্রীরামপুর গার্লস কলেজের অধ্যাপক। তিনি এই সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দান করেন। তিনি বলেন, জামিয়ার বিশেষত্ব হল, জামিয়াতে শুধুমাত্র শিক্ষা দান করা হয় না। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাদের উপার্জনেরও ব্যবস্থা করা হয়। সম্মেলনের প্রধান অতিথি মাওলানা হাসান আবদুল কাদির আশা প্রকাশ করে বলেন, মেমারির জামিয়া ইসলামিয়া মদিনাতুল উলূম সারা বিশ্বে কাজ করবে। তিনি দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ব্যাপারে জামিয়ার কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রথম পর্যায়ের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন জামিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা কারী শামসুদ্দিন আহমাদ ।

পিতা খুনে আসামি পুত্র কে ৮ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিল ডায়মন্ডহারবার আদালত 

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

মেমারির জামিয়া ক্যাম্পাসে দু’দিন সারা ভারত কুরআন পাঠ সম্মেলন

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২২, বুধবার

কাজী খায়রুল আনাম : আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেমারি জামিয়া ইসলামিয়া মদিনাতুল উলূম দু’দিন ব্যাপী দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের সারা ভারত কুরআন পাঠ সম্মেলনের আয়োজন করে। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক গোলাম আহমাদ মোর্তজা প্রতিষ্ঠিত বাংলার প্রথম সারির প্রসিদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়ায় ষষ্ঠ তম সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত আছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা হাসান আবদুল কাদির। উপস্থিত হয়েছেন ভারতবর্ষের মহারাষ্ট্র, গুজরাত, তামিলনাড়ু, তেলঙ্গানা প্রভৃতি রাজ্য থেকে বহু ঐস্লামিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিশিষ্ট ইসলামী বুদ্ধিজীবীগণ।পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারির মদীনা মার্কেট স্থিত জামিয়া ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে স্বাগত ভাষণ দেন জামিয়ার প্রেসিডেন্ট ও প্রিন্সিপাল মাওলানা কারী শামসুদ্দিন আহমাদ। তিনি বলেন, দ্বিনের জন্য কষ্ট করাটাও হচ্ছে সুন্নত। তিনি মহানবী মুহাম্মদ সা. এর দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। এবং কষ্ট করে আসা উপস্থিত জনেদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। জামিয়ার প্রসঙ্গে তিনি জানান, শুধুমাত্র বাংলা নয়, ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে রয়েছে জামিয়ার কৃতি শিক্ষার্থীরা। ইংল্যান্ড, কাতারে তারা প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। জামিয়ার প্রিন্সিপাল বলেন, জামিয়া আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি, হায়দরাবাদের মাওলানা আজাদ ন্যাশনাল উর্দু ইউনিভার্সিটির স্বীকৃতি লাভ করেছে। জামিয়ার প্রেসিডেন্ট তাঁর ভাষণে বলেন, জামিয়ায় ছয় বছরের ফজিলত কোর্সের উন্নীত শিক্ষার্থীরা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করতে এই সব ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে পারবে। তিনি জানান, আলিয়া মাদ্রাসার সঙ্গেও তাঁদের কথা বার্তা চলছে। কারী শামসুদ্দিন আহমাদ বলেন, ইসলামী শিক্ষা ছাড়াও সমাজে আই এ এস, আই পি এস, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে মেমারি, পানাগড়, পান্ডুয়াতে তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে । পানাগড়ের শ্যামসুন্দরে বালিকা বিদ্যালয়ের কথা তিনি উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, ৫৪ বছরে (১৯৬৮-২০২২) ১০,০০০এর বেশি শিক্ষার্থী সাফল্য লাভ করেছে। তিনি জামিয়ার প্রতিষ্ঠাতা প্রখ্যাত ঐতিহাসিক গোলাম আহমাদ মোর্তজার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি চেয়েছিলেন, বাংলার শিক্ষার্থীদের যেন ভিন রাজ্যে যেতে না হয়, তারা এখান থেকেই পড়াশোনা করতে পারে।

বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত ইসলামী প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিগণ তাঁদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও সাফল্যের কথা সম্মেলনে তুলে ধরেন। মুম্বইয়ের মাওলানা ফরিদ তাঁর বক্তব্যে অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন পথের দৃষ্টিহীন ভিক্ষুক বাচ্চাছেলেদের কীভাবে দ্বিনের আলোয় এনে উপার্জনের সম্মানীয় পথ ধরানোর চেষ্টা চলছে। অনুষ্ঠানে বক্তাগণ দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। জামিয়ার ব্রেইল বিভাগের প্রাক্তনী বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রাপ্ত, এম ফিল মুহাম্মদ ফজলে আলম। বর্তমানে শ্রীরামপুর গার্লস কলেজের অধ্যাপক। তিনি এই সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দান করেন। তিনি বলেন, জামিয়ার বিশেষত্ব হল, জামিয়াতে শুধুমাত্র শিক্ষা দান করা হয় না। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাদের উপার্জনেরও ব্যবস্থা করা হয়। সম্মেলনের প্রধান অতিথি মাওলানা হাসান আবদুল কাদির আশা প্রকাশ করে বলেন, মেমারির জামিয়া ইসলামিয়া মদিনাতুল উলূম সারা বিশ্বে কাজ করবে। তিনি দৃষ্টিহীন শিক্ষার্থীদের শিক্ষার ব্যাপারে জামিয়ার কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। প্রথম পর্যায়ের অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন জামিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা কারী শামসুদ্দিন আহমাদ ।