০৮ জুলাই ২০২৬, বুধবার, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
০৮ জুলাই ২০২৬, বুধবার, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩

চার্লস ডি কেটেলার: নীরব জাদুকরের উত্থান

শান্তি রায়চৌধুরী: নায়করা কেউ আসেন নিঃশব্দে, মাঠ ছাড়ার সময় পুরো স্টেডিয়ামে আলো জ্বালান। চার্লস ডি কেটেলার বলের সঙ্গে কথা বলেন। সেই নীরব ভাষাই যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচে তাকে বেলজিয়ামের নতুন আশার প্রতীকে পরিণত করেছে।

২০০১ সালের ১০ মার্চ বেলজিয়ামের ঐতিহাসিক শহর ব্রুজে জন্ম নেওয়া ডি কেটেলারের শৈশব কেটেছে ফুটবলকে ঘিরেই। খুব অল্প বয়সেই ক্লাব ব্রুজের একাডেমিতে যোগ দেন। সেখানেই শেখেন আধুনিক ফুটবলের প্রতিটি সূক্ষ্মতা।

ক্লাব ব্রুজের জার্সিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে খুব বেশি সময় লাগেনি। লিগ শিরোপা, সুপার কাপ এবং ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজরে নিয়ে আসে। এরপর ইতালির এসি মিলানে পাড়ি জমান। প্রথম অধ্যায়টি প্রত্যাশামতো না হলেও তিনি ভেঙে পড়েননি। ব্যর্থতাকে নিজের শিক্ষক বানিয়েছেন। পরে আতালান্তায় যোগ দিয়ে নতুন করে নিজের পরিচয় খুঁজে পান। সিরি আ-তে গোল, অ্যাসিস্ট এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে আবারও প্রমাণ করেন, বড় মঞ্চে খেলার জন্যই তার জন্ম।

জাতীয় দলের জার্সিতেও ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন ডি কেটেলার। কেভিন ডি ব্রুইন, রোমেলু লুকাকুদের অভিজ্ঞতার পাশে নতুন প্রজন্মের মুখ হিসেবে এখন তাকেই দেখছে বেলজিয়াম।

চলতি বিশ্বকাপই তার ক্যারিয়ারের নতুন পরিচয় লিখে দিচ্ছে। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচেই আক্রমণভাগে সৃজনশীলতার ছাপ রেখেছেন ডি কেটেলার। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে সুযোগ তৈরি, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে আক্রমণের নেতৃত্ব এবং কলম্বিয়ার বিপক্ষে ধৈর্যশীল ফুটবলে ছিলেন দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মুখ। রাউন্ড অব ৩২-এ সেনেগালের বিপক্ষে ৩–২ গোলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তবে আসল বিস্ফোরণ ঘটে শেষ ষোলোয়।

স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪–১ গোলের দুর্দান্ত জয়ে জোড়া গোল করে ম্যাচের ভাগ্য একাই প্রায় নির্ধারণ করে দেন। সঙ্গে ছিল একটি অ্যাসিস্ট। তিনটি গোলেই সরাসরি অবদান রেখে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। টুর্নামেন্টজুড়ে তার পরিণত ফুটবল, গোল করার ক্ষমতা এবং আক্রমণে নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা বেলজিয়ামকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

সতীর্থ কেভিন ডি ব্রুইনের মতে, ‘চার্লসের মধ্যে ভবিষ্যতের একজন বড় ফুটবলারের সব গুণ আছে। সে সবসময় শেখার চেষ্টা করে, উন্নতির চেষ্টা করে। এই মানসিকতাই তাকে অনেক দূর নিয়ে যাবে।’

চার্লস কেটেলারের কথা,’আমাদের দলে অভিজ্ঞতা ও তরুণদের ক্ষুধা দুটোই আছে। রোমেলু লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুইনের মতো খেলোয়াড়দের পাশে খেলতে পারাটা আমার জন্য বড় সৌভাগ্য। তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছি। এই শেখার প্রক্রিয়াই আমাকে আরও ভালো ফুটবলার হতে সাহায্য করছে।’

পর্ণশ্রীর পুকুর থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির দেহ উদ্ধার, চাঞ্চল্য এলাকাজুড়ে

নতুন গতি © All rights reserved.| Developed by eTech Builder

চার্লস ডি কেটেলার: নীরব জাদুকরের উত্থান

আপডেট : ৮ জুলাই ২০২৬, বুধবার

শান্তি রায়চৌধুরী: নায়করা কেউ আসেন নিঃশব্দে, মাঠ ছাড়ার সময় পুরো স্টেডিয়ামে আলো জ্বালান। চার্লস ডি কেটেলার বলের সঙ্গে কথা বলেন। সেই নীরব ভাষাই যুক্তরাষ্ট্র ম্যাচে তাকে বেলজিয়ামের নতুন আশার প্রতীকে পরিণত করেছে।

২০০১ সালের ১০ মার্চ বেলজিয়ামের ঐতিহাসিক শহর ব্রুজে জন্ম নেওয়া ডি কেটেলারের শৈশব কেটেছে ফুটবলকে ঘিরেই। খুব অল্প বয়সেই ক্লাব ব্রুজের একাডেমিতে যোগ দেন। সেখানেই শেখেন আধুনিক ফুটবলের প্রতিটি সূক্ষ্মতা।

ক্লাব ব্রুজের জার্সিতে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে খুব বেশি সময় লাগেনি। লিগ শিরোপা, সুপার কাপ এবং ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তাকে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর নজরে নিয়ে আসে। এরপর ইতালির এসি মিলানে পাড়ি জমান। প্রথম অধ্যায়টি প্রত্যাশামতো না হলেও তিনি ভেঙে পড়েননি। ব্যর্থতাকে নিজের শিক্ষক বানিয়েছেন। পরে আতালান্তায় যোগ দিয়ে নতুন করে নিজের পরিচয় খুঁজে পান। সিরি আ-তে গোল, অ্যাসিস্ট এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে আবারও প্রমাণ করেন, বড় মঞ্চে খেলার জন্যই তার জন্ম।

জাতীয় দলের জার্সিতেও ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন ডি কেটেলার। কেভিন ডি ব্রুইন, রোমেলু লুকাকুদের অভিজ্ঞতার পাশে নতুন প্রজন্মের মুখ হিসেবে এখন তাকেই দেখছে বেলজিয়াম।

চলতি বিশ্বকাপই তার ক্যারিয়ারের নতুন পরিচয় লিখে দিচ্ছে। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি ম্যাচেই আক্রমণভাগে সৃজনশীলতার ছাপ রেখেছেন ডি কেটেলার। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে সুযোগ তৈরি, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে আক্রমণের নেতৃত্ব এবং কলম্বিয়ার বিপক্ষে ধৈর্যশীল ফুটবলে ছিলেন দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মুখ। রাউন্ড অব ৩২-এ সেনেগালের বিপক্ষে ৩–২ গোলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তবে আসল বিস্ফোরণ ঘটে শেষ ষোলোয়।

স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪–১ গোলের দুর্দান্ত জয়ে জোড়া গোল করে ম্যাচের ভাগ্য একাই প্রায় নির্ধারণ করে দেন। সঙ্গে ছিল একটি অ্যাসিস্ট। তিনটি গোলেই সরাসরি অবদান রেখে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। টুর্নামেন্টজুড়ে তার পরিণত ফুটবল, গোল করার ক্ষমতা এবং আক্রমণে নেতৃত্ব দেওয়ার দক্ষতা বেলজিয়ামকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।

সতীর্থ কেভিন ডি ব্রুইনের মতে, ‘চার্লসের মধ্যে ভবিষ্যতের একজন বড় ফুটবলারের সব গুণ আছে। সে সবসময় শেখার চেষ্টা করে, উন্নতির চেষ্টা করে। এই মানসিকতাই তাকে অনেক দূর নিয়ে যাবে।’

চার্লস কেটেলারের কথা,’আমাদের দলে অভিজ্ঞতা ও তরুণদের ক্ষুধা দুটোই আছে। রোমেলু লুকাকু, কেভিন ডি ব্রুইনের মতো খেলোয়াড়দের পাশে খেলতে পারাটা আমার জন্য বড় সৌভাগ্য। তাদের কাছ থেকে প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছি। এই শেখার প্রক্রিয়াই আমাকে আরও ভালো ফুটবলার হতে সাহায্য করছে।’